প্রচ্ছদ

যেভাবে ইন্টারভিউতে কিছু কঠিন প্রশ্নের উত্তর দেবেন

প্রকাশিত হয়েছে : ১:১৭:১৩,অপরাহ্ন ০৪ জুলাই ২০১৮ | সংবাদটি ১,০৭২ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

প্রায় প্রত্যেক চাকুরিপ্রার্থীরা ইন্টারভিউ প্যানেলের মুখোমুখি হলে নার্ভাস হয়ে যান এবং টেনশনে বোর্ডের সামনে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। আপাতদৃষ্টিতে এমন একটি নির্বোধ প্রশ্ন ইন্টারভিউয়ার প্যানেলের মধ্যে একজন আপনাকে জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘আপনার নিজের সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন’। এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই যে ভুলটা করে থাকেন তা হল কোথায় সে পড়াশোনা করেছে, কী খেতে বা পড়তে ভালবাসে সেই তথ্য দিয়ে সময় নষ্ট করে। তাই উত্তর দেয়ার আগে এটা মনে রাখা জরুরি যে, ইন্টারভিউয়ার আপনার দক্ষতা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেনঃ আপনি কি ধরণের জব প্রোফাইল পছন্দ করেন, কি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, যে পদের জন্য আপনি আবেদন করেছেন এবং কেন সেই পদের জন্য আপনি উপযুক্ত সেইসব তথ্য আপনার উত্তরে যথাযোগ্য উল্লেখ করতে হবে। একজন প্রার্থী কিভাবে দ্রুত এবং সৃষ্টিশীলভাবে চিন্তা করে, উচ্চ-চাপের পরিবেশের সামলাতে সক্ষম হবে কিনা এবং একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রার্থী কতটুকু উপযুক্ত তা নিয়োগকর্তারা তত্ত্বাবধান করেন। প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের সাথে পরিচিত হয়ে নিজেকে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুত করুন। এই তথ্যগুলো বার্ষিক প্রতিবেদন, কর্পোরেট নিউজলেটার, বিজ্ঞাপন বা মিডিয়া রিপোর্ট থেকে সহজেই পেতে পারেন অথবা লিঙ্কডইনের মাধ্যমে বর্তমান কর্মীদের সাথে সংযোগ স্থাপন করা এবং ওয়েবসাইটে গিয়ে রিসার্চ করা প্রয়োজন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ অংশে আসেনঃ কঠিন প্রশ্নগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিন। ইন্টারভিউয়াররা প্রার্থীদেরকে কিছু প্রশ্ন করে ঘাবরে দেন, যাতে তারা একটি চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করতে পারেন। এ অবস্থায় প্রার্থীকে কিছু জটিল প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়ঃ

আমরা আপনাকে কেন নিযুক্ত করবো?
এই প্রশ্নের মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ার জেনে নেয় যে আপনি নিজের প্রতি কতটুক আত্মবিশ্বাসী এবং সাংগঠনিক সংস্কৃতি বৈশিষ্ট্যের ব্যক্তিত্ব। এক্ষেত্রে আপনার বর্তমান কাজের অভিজ্ঞতা, কোন সমস্যা সমাধান করার অভিজ্ঞতা, আপনি অনেক পরিশ্রমী ও দক্ষ ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখ করতে পারেন। এছাড়া আপনি যদি শিক্ষানবিস হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট করে থাকলে সেগুলো বলবেন। নিশ্চিতভাবেই, পরবর্তী প্রশ্নটি এমন কিছু হতে পারে, “আপনার সাফল্যগুলি কী এবং আপনার কী মনে হয় যে সেই সাফল্যগুলো আমাদের প্রয়োজনীয়তার সাথে মানানসই হবে”? এখন আপনার জীবনে আপনি যা কিছু অর্জন করেছেন তা নিয়ে কথা বলুন- এটি খেলাধুলা, একাডেমিক এবং নিয়মিত পাঠক্রমের বহির্ভূত কাজ হতে পারে। একটু সাবধান থাকবেন যাতে করে সেগুলো আপনার পজিশনের সাথে সম্পর্কিত হয়। খেলাধুলায় নেতৃত্বদান, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালনা, টিম ওয়ার্কে কাজ করার জন্য আপনার অতিরিক্ত কার্যক্রমের নিদর্শনগুলো তুলে ধরুন। চলবে…

আপনার সবচেয়ে দুর্বল দিকগুলো কি?
আপনার সততা পরীক্ষা করার জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় প্রশ্ন। যেকোন ইন্টারভিউ দেয়ার আগে এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো। যথাসম্ভব সততার সাথে আপনার দুর্বলতা সম্পর্কে বলতে চেষ্টা করুন। সর্বোপরি, আপনি একজন মানুষ! তাই এ প্রশ্নের ক্ষেত্রে ‘আমার কোন দুর্বলতা নেই’ এমন উত্তর দিবেন না। দুর্বলতা, আপনার কাজের প্রক্রিয়াকে বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। আপনার দুর্বলতার ক্ষেত্রে সেগুলোকেই তুলে ধরুন যেগুলো ইন্টারভিউয়ে চাকরির জন্য প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করবে না। উত্তরের মাধ্যমে ইন্টারভিউয়ারকে বুঝাতে হবে যে আপনি আপনার দুর্বলতা সম্পর্কে জানেন এবং সেটি জয় করার ক্ষমতা আপনার রয়েছে। তাই চাকরির সাথে মিল রেখে দুর্বলতাগুলো বলা উচিৎ এবং কখনোই নিজ থেকে বর্ণনা দেয়া উচিৎ নয়।

এই প্রতিষ্ঠানে কেন কাজ করতে চাইছেন?
এক্ষেত্রে প্রথমেই যেটা করতে হবে সেটা হলো, যে প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন সেই প্রতিষ্ঠানের কাজ ও রেপুটেশন সম্পর্কে একটা ছোটখাটো রিসার্চ সেরে রাখা। আপনার নিজের প্রোফাইল সম্পর্কেও আপনাকে আগেভাবে বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করে রাখতে হবে। আর আগে থেকেই যদি এসব প্রস্তুতি সেরে রাখেন, তা হলে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা আপনার কাছে কোনো ব্যাপারই নয়। প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে জানার জন্য ওই কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন, কর্পোরেট নিউজলেটার, বিজ্ঞাপন, কোম্পানি বিষয়ক বিভিন্ন লেখা আগে থেকেই পড়ে রাখা দরকার।

আমাদের সম্পর্কে আপনার কোন প্রশ্ন আছে?
এই প্রশ্নটি ইন্টারভিউয়ারেরা প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ের শেষ দিকে জিজ্ঞেস করে থাকেন। কখনোই বলবেন না আপনার কিছু বলার নেই তাহলে মনে হবে আপনি এই কাজের ব্যাপারে আগ্রহী না। অনেক প্রার্থীই বলে থাকেন যে তাদের কোন প্রশ্ন নেই। আপনি যেখানে কাজ করবেন সেই সম্পর্কে আপনার অবশ্যই কিছু প্রশ্ন থাকা উচিত। আর প্রশ্ন করলে মনে হবে আপনি এই প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে বেশ আগ্রহী। এক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার সাথে কয়েকটি প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন হতে পারে- – প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ

পরিকল্পনা কী?
– প্রথম মাসে কাজের ক্ষেত্রে আমার কাছে কী প্রত্যাশা করেন?
– আমাদের টিমটি কয়জনের হবে? বা আমাকে কয়জনের সাথে কাজ করতে হবে?
– এ প্রতিষ্ঠানের কাছে সফলতার সংজ্ঞা কী?

মোটকথা, কখনোই হার মানবেন না। সর্বদা সব কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনি কাজের এবং নিজের প্রতি কতটুক আত্মবিশ্বাসী তা জানার জন্যেই মূলত এই প্রশ্ন গুলো করা। তাই নিজের উপর বিশ্বাস করুন, সফলতা আসবেই।

Media it

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০