প্রচ্ছদ

সারা দেশে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৯

প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৫৮:২৮,অপরাহ্ন ২৮ মে ২০১৮ | সংবাদটি ১২৭ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

সারাদেশে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৯ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত বন্দুকযুদ্ধে রাজধানীর মিরপুরে একজন, কুমিল্লায় দুজন, পিরোজপুরে দুজন, সাতক্ষীরায় দুজন, চাদঁপুরের ফরিদগঞ্জে একজন, ঝিনাইদহে একজন, নিহত হয়েছেন।

পুলিশের দাবি, নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

রাজধানী:
রাজধানীর রূপনগরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত (৪৫) এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। রোববার রাত আড়াইটার দিকে রূপনগর একটি বস্তিতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

রূপনগর থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, রূপনগর একটি বস্তিতে রাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। পরে অজ্ঞাত এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

কুমিল্লা:
কুমিল্লায় পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এনামুল হক (দোলন) ভূইয়া (৩৫) এবং নুরু নামের (৫৫) দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত দুজন মাদক ব্যবসায়ী।

রোববার দিবাগত রাতে জেলার দেবিদ্বার উপজেলা পশ্চিম ভিংলাবাড়ি এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা এলাকায় এ দুটি ঘটনা ঘটে।

দেবিদ্বারে নিহত দোলন উপজেলার ভিংলাবাড়ি (মির্জানগর) গ্রামের মৃত আবদুল্লাহ ভূইয়ার ছেলে এবং সদর দক্ষিণে নিহত নুরু উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধার করতে পুলিশের একটি দল উপজেলার পশ্চিম ভিংলাবাড়ি এলাকায় গোমতী বাঁধে অবস্থান নেয়। সেখানে মাদক ব্যবসায়ী দোলনসহ তার সহযোগীরা পৌঁছলে তাদের আটকের চেষ্টা করা হয়। এসময় মাদক ব্যবসায়ী দোলনসহ তার ওপর সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষায় ২৩ রাউন্ড শাটগানের গুলি চালায়। এতে দোলন গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে দোলনের মৃত্যু হয়।

ওই অভিযানে এসআই যুবরাজ বিশ্বাস, পুলিশ সদস্য গনেশ, মনির ও রাজ্জাক আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পাইপগান, ১০ কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবা। নিহত দোলনের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার ও মুরাদনগর থানায় ১২টি মাদকের মামলা রয়েছে।

অপর দিকে সদর দক্ষিণ থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, মাদক বিরোধী অভিযানকালে উপজেলার সীমান্তবর্তী গলিয়ারা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী নুরু ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও গুলি চালালে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয় নুরু। তাকে গুরুতর আবস্থায় উদ্ধারের পর কুমেক হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক নুরুকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে। নিহত নুরু স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে ১১টি মাদক ও একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি।

পিরোজপুর:
পিরোজপুরে পুলিশের সঙ্গে আলাদা বন্দুকযুদ্ধে মো. ওহিদুজ্জামান (৩৭) ও মিজানুর রহমান সরদার (৩৫) নামের দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তারা মারা যান। নিহত ওহিদুজ্জামান নেছারাবাদ উপজেলার কৌড়িখাড়া গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে। আর নিহত মিজানুর রহমান সরদার মঠবাড়িয়া উপজেলার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামের লাল মিয়া সরদারের ছেলে। বন্দুকযুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল আমিন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাত পুলিশ সদস্য।

পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক এ কে এম মিজানুল হকের ভাষ্যমতে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ পিরোজপুর পৌরসভার কৃষ্ণপুর এলাকা থেকে ওহিদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর ওহিদুজ্জামান পুলিশকে জানান, তার কাছে অস্ত্র ও মাদক রয়েছে। এরপর রাতে পুলিশ ওহিদুজ্জামানকে নিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে বের হয়। রাত পৌনে একটার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা বেইলি সেতু এলাকায় ওহিদুজ্জামানের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে এবং ওহিদুজ্জামানকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ওহিদুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হন। তখন পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবি আল আমিন ও কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ওহিদুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরেকটি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজানুর রহমান। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ছরোয়ার জানান, রবিবার দিবাগত রাতে মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া গ্রামের হাওলাদার বাড়ি এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। রাত পৌনে দুইটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর ডাকাতেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। দুই পক্ষের গোলাগুলিতে মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ সময় মঠবাড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল আমিন, উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম, তসলিমুর রহমান ও নূর আমিন, সহকারী উপপরিদর্শক ইয়ার আলী ও আবুল হাসান আহত হন। মাজহারুল আমিনের বাঁ হাতে গুলি লাগে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরায় অজ্ঞাত পরিচয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১০৫ বোতল ফেন্সিডিল ও একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাতক্ষীরা সদরের বাঁকাল আগুনপুর সংলগ্ন একটি মৎস্য ঘের হতে দুই মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের দাবী, মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মাদক ভাগাভাগি নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। সকালে স্থানীয়রা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ দুই উদ্ধার করেছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ দেখে স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশ মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১০৫ বোতল ফেন্সিডিল ও একটি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করেছে। মৃত ব্যক্তি উভয়েই মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তাদের নাম পরিচয় জানা যায় সম্ভব হয়নি।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর):
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পিচ্চি হান্নানের সহযোগী ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বাদশা ওরফে লাল বাদশা (৪৫) নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

সোমবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে বৈচাতরী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

বাদশা একই উপজেলার ১০নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ ছৈয়ালের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় ৭টি, চাঁদপুর সদরে ২টি, চট্টগ্রামে ১টিসহ ১০টি মাদক মামলা রয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি শাহ্ আলম জানান, রাত ১০টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাল বাদশাকে তার বাড়ির সামনে থেকে মাদক বিক্রির সময় ১১১ পিছ ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। পরে তাকে নিয়ে পুলিশের একটি দল অভিযানে বের হয়। গুপ্টি ইউনিয়নের চাঁদপুর সেচ প্রকল্প বাঁধেরর বৈচাতরী এলাকায় গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয় আবু সাঈদ ওরফে লাল বাদশা। আহত অবস্থায় তাকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদশাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশ নিহতের কাছ থেকে ১১১ পিছ ইয়াবা এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, ৩টি ককটেল, ৪ রাউন্ডগুলি উদ্ধার করে। ঘটনার সময় পুলিশের এএসআই বাবুল, সুমন, সুমন চৌধুরী, কনস্টেবল আশরাফ ও দেলোয়ার আহত হন।

ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। রোববার রাত সোয়া ১টার দিকে উপজেলার জাড়গ্রামের শ্মশান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি জেলা শহরের পাগলাকানাই সড়কের মৃত মোহম্মদ আলীর ছেলে ফারুক আহম্মেদ বলে দাবি করেছে তার ছোট ভাই ফরিদ আহম্মেদ।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক জানান, মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুইদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে নিহতের এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, রাতে গোলাগুলির খবর পেয়ে টহল পুলিশের একটি দল সেখানে যায় এবং রাতেই নিহত ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি দাবি করেন, নিহত ব্যক্তি একজন মাদক ব্যবসায়ী। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল,ম্যাগজিনসহ ২ রাউন্ড গুলি, আধা কেজি গাঁজা ও ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

Media it

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০