প্রচ্ছদ

আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হল বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

প্রকাশিত হয়েছে : ১২:১২:৪৫,অপরাহ্ন ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ | সংবাদটি ৪৯৭ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

সারাবিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য সমৃদ্বি, কল্যাণ, ভ্রাতিত্ববোধ, ইহকাল, পরকাল, মুক্তি, হেদায়েত, রহমত, মাগফেরাত, নাজাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ ও মানবতার শান্তি কামনা করে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার দুপুরে শেষ হয়েছে রাজধানীর অদূরে টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্টিতব্য ৫৩তম টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের তিন দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা।

ভারতের মাওলানা সাদ কয়েক বছর ধরে ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করলেও এবার তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হজরত মাওলানা যোবায়ের হাসান আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করছেন। রোববার বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে আখেরী মোনাজাত শুরু হয়ে ১১টা ১১ মিনিটে শেষ হয়। দীর্ঘ ২৬ মিটির স্থায়ী আখেরী মোনাজাত করা হয়। আমিন আমিন সুম্মা আমিন ও বাংলাদেশের টঙ্গী তুরাগ পাড়ের বিশ্ব ইজতেমা কবুল ফরমাও এই বলে আখেরী মোনাজাত শেষ করেন বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হজরত মাওলানা যোবায়ের হাসান। মোনাজাত শুরু করা হলে সোনাবানের টঙ্গী (তুরাগ) কহরদরিয়া নদীর পাড় ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নেমে আসে নিরবতা। মোনাজাত চলাকালে ক্ষণেক্ষনে আমিন আমিন ধবনিতে তুরাগ নদীর তীর ও তার চারপাশের প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার এলাকা আল্লাহু আকবর ধবনীতে মুখরিত হয়ে উঠে।

এবছর টঙ্গী তুরাগ পাড়ের আখেরী মোনাজাতে বিশ্বের প্রায় শতাধিক দেশের দেশী বিদেশী মুসলমান,তাবলিগ অনুসারী দলের সদস্য, ১৬ জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ,প্রায় ২ লাখ নারী,তরুণ,শিশু ও সাধারণ মানুষ সহ ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মুসল্লি আখেরী মোনাজাতে অংশ গ্রহন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, টঙ্গী তুরাগ পাড়ে আখেরী মোনাজাত চলাকালে লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির কন্ঠে আওয়াজ উঠে ” হে আল্লাহ,ইয়া আল্লাহু আমিন আমিন” সুম্মা আমিন ধবনিতে মুখরিত হয়ে উঠে টঙ্গী তুরাগ নদীর আকাশ বাতাস ও তুরাগ পাড়। আখেরী মোনাজাতে গোটা দুনিয়ার মুসলমানদের পাপের ক্ষমা, সঠিত ও সত্য পথের আলোর দিশারী হয়ে তাবলিগ তথা ইসলামের দ্বীনের দাওয়াতের কাজে নিজেকে নিয়োজিত হওয়ার তওফিক কামনা করে মহান আল্লাহতায়ার নিকট বিনম্র সূরে প্রার্থনা করা হয়।

এসময় পুরো ইজতেমা ময়দান সহ তার চারপাশ এলাকা জুড়ে লাখো লাখো মানুষ চোখের দু’ নয়নের জ্বল ফেলে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর সস্তুষ্টি লাভের আশায় আকুতি ব্যস্ত করে সর্বস্তরের মুসল্লিরা। আত্মশুদ্বি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সকল বালা মুসিবত থেকে হেফাজতোর আশায় মুসল্লিরা দু’হাত তুলে অস্ত্রসিক্ত চোখের পানি ফেলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারের ফরিয়াদ করেন বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাতে অংশ নেওয়া দেশী বিদেশী সকল মুসলামান ও ইজতেমায় আগত লাখো লাখো মুসল্লি।

এবছর ৫৩তম টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সাথে ইজতেমা ময়দানে মোনাজাতে অংশ নেয় ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, মুক্তিযুদ্ববিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ,ক,ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় এমপি আলহাজ মো: জাহিদ আহসান রাসেল,গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, গাজীপুর মহানগরী আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি,গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশীদসহ ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মুসল্লি।

এদিকে, বাংলাদেশের উত্তর অঞ্জল থেকে বয়ে আসা হীমেল কনকনে ঠান্ডা শীতকে উপেক্ষা করে আখেরী মোনাজাতে শরীক হতে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের ধর্মপ্রাণ লাখো লাখো মুসল্লি ছাড়া ও রাজধানী, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, নারায়নগঞ্জ সহ ১৬টি জেলার মুসল্লিরা শনিবার রাত থেকে শুরু করে রোববার সকাল ১১টার আগে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ও আশপাশে এলাকায় মোনাজাতে শরীক হবার জন্য দলে দলে এসে জড়ো হন।

রোববার সকাল ১০টার মধ্যে টঙ্গী তুরাগ পাড়ের ১৬০ একর জমির ওপর নির্মিত সুবিশাল চটের প্যান্ডেল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ইজতেমা স্থলের চারপাশ সহ ৬ থেকে ৭ কিলে‍ামিটার এলাকা জুড়ে কোথাও ঠাঁই ছিলনা। তখন দূর দূরাস্ত থেকে ছুঁটে আসা হাজার হাজার মুসল্লি ও নারী-পুরুষ টঙ্গীতে আসতে থাকে। নানা বয়সী ও নানা পেশায় মানুষ এমনকি প্রায় ২ লাখ নারী ও ভিড় ঠেলে রাস্তার পাশে ও বাড়ির সামনে ও ছাদ সহ বিভিন্ন স্থানে খবরের কাগজ,সিমেন্ডের বস্তা,পলিথিন, ও চাদও বিছিয়ে বসে পড়েন। বসে মোনাজাত করেন।

মাঠের মধ্যে জায়গা না পেয়ে এসব মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ ইজতেমা মাঠের চারপাশে রাস্তা, অলি, তুরাগ নদীর ওপর নৌকা, গাড়ির ছাদে, গলি ও আশুলিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রন মাঠ ও টঙ্গী, উত্তরা, তুরাগের বাড়ির ছাদে ও শিল্প কলকারখানা ছাদে বসে অবস্থান নেয় এবং তারা সেখানে বসে আখেরী মোনাজাতে শরীক হতে দেখা যায়।

রোববার ভোর থেকে টঙ্গীর তুরাগ পাড়ের প্রথম পর্বের তিন দিন ব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাত শুরু হওয়ার আগে লাখো লাখো ধর্মপ্রান মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক, চন্দ্রা ভোগড়া থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত, টঙ্গী কালিগঞ্জ সড়ক থেকে টঙ্গী স্টেশন রোড পর্যন্ত, আশুলিয়া সাভার সড়ক থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সকল ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার ফলে রোববার ভোর থেকে দেশী বিদেশী লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ দলেদলে পায়ে হেঁটে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় আসতে থাকেন।

Media it

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০