নবীগঞ্জে অপচিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু

০৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোকনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুফলা রানী দাশ (৩২) নামে এক প্রসূতি ও সদ্যজাত নবজাতক সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় টিএইসও বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । সোমবার সকালে অভিযোগটি দায়ের করেছেন মৃত সুফলা রানী দাশ’র ছোট ভাই সুজন দাশ ।
অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ রোকনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুফলা রানী দাশ (৩২)কে অভিযুক্ত আয়া নমিতা আচার্য্যের পরামর্শে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় সুফলার পরিবার সুফলার উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যথায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বার বার বলা সত্বেও নমিতা বাধা প্রদান করে বলেন প্রসবের সময় কর্তব্যরত ডাক্তার উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নাই, তারাই প্রসব করাতে পারবেন । অভিযুক্ত নমিতা, চন্দনা ও আরতির অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় প্রয়াত সুফলা রাণী দাশের মৃত বাচ্চা ভুমিষ্ঠ হয় । পরবর্তীতে সুফলার অবস্থার অবনতি হলে রোগীর পরিবার বার বার বলা সত্তে¡ও অভিযুক্তরা দীর্ঘক্ষণ কোনো চিকিৎসা না করে আটকিয়ে রাখে । অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখে রোগীকে নিয়ে সিলেট যাওয়ার পথিমধ্যে আউশকান্দি নামকস্থানে সুফলার মৃত্যু হয় ।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় সুফলা দাশ ও তার বাচ্চার মতো আরো অনেকের মৃত্যুর জন্য এইসব অভিযুক্তরা দায়ী। এছাড়া অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোতে সিদ্ধ হস্ত, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়েও আলিশান বাড়ির মালিক নমিতা আচার্য্য, চন্দনা দেব, আরতি বালা নাথ এর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানানো হয় ।
এব্যাপারে সুফলার ভাই সুজন দাশ বলেন বোনের মৃত্যুতে আমরা হতভম্ব হয়ে পরি। যার জন্য কি করবো বুঝতে না পারায় অভিযোগ দিতে দেরি হয়েছে বলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির দাবী জানান।
এব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি, অতি শীঘ্রই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।