প্রচ্ছদ

দেখার কেউ নাই, সিসিক তুমি কার?

প্রকাশিত হয়েছে : ২:২৯:৩৩,অপরাহ্ন ২৪ জুলাই ২০১৮ | সংবাদটি ৩৬০ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

ইমদাদুল হক নোমানী : দুইলক্ষাধিক কুরআন শিক্ষার্থী ও দেশব্যাপী দেড় হাজার শাখা কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় দফতর আঞ্জুমান কমপ্লেক্স Anjuman Bd। কমপ্লেক্সে রয়েছে আবাসিক ও অনাবাসিক ব্যবস্থাপনায় একটি মাধ্যমিক ক্বাওমি মাদ্রাসা, হেফজখানা, প্লে থেকে স্ট্যান্ডার্ড ফাইভ পর্যন্ত অঞ্জুমান মডেল একাডেমী নামে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং সুবিশাল আঞ্জুমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।
.
বোর্ডের বিভিন্ন কাজে প্রতিনিয়ত এখানে আসা-যাওয়া করেন অসংখ্য আলেম-উলামা, ক্বারী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন সাড়ে তিনশত ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে পুরো ক্যাম্পাস। শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক (পুরুষ-মহিলা) প্রতিদিন সকালবেলা কচিকাঁচা বাচ্চাদের নিয়ে আসেন একাডেমীতে। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও পরামর্শে এ বহুমুখী প্রতিষ্ঠান উত্তরোত্তর সফলতার সাথে এগুচ্ছে। সুনাম ছড়াচ্ছে দেশ-বিদেশে।
.
সিলেট নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আঞ্জুমান কমপ্লেক্স। গোটাটিকর মৌজার গোটাটিকর আবাসিক এলাকা, ষাটঘর, পাঠানপাড়া, নূরপুর, বন্দরঘাট, আলমপুরসহ কদমতলীর কিছু অংশ সরাসরি এ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। এলাকার ও বাহিরের জনসাধারণের অনুদানে পরিচালিত হয় এ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি। নগরীর সর্বশেষ এবং দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত এ দ্বীনি ও কুরআনী প্রতিষ্ঠানটি আজ বিভিন্নভাবে অবহেলিত। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে একাধিকার স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেও আশানুরূপ সফলতা ও পরিবর্তন আসেনি এ প্রতিষ্ঠানের ভাগ্য।
.
প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ভূমিতে চলছে দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে। বিভিন্ন সমস্যাদি ডিঙিয়ে, নানাবিধ সীমাবদ্ধতার মাঝেও আঞ্জুমান তার নিজস্ব কার্যক্রম গতিশীলতার সাথেই পরিচালিত করছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ বিশাল ক্যাম্পাসে চারটি মিটার রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে টেম্পোরারি লাইনে। মেইন লাইন হতে অনেক দূর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংযোগ নেয়ার কারণে লো ভোল্টেজ দেখাদেয়। রমজান মাসে হাজারের অধিক কুরআন শিক্ষার্থীরা যেনো মোমবাতির আলোয় কুরআন পড়ে! প্রচণ্ড গরমের মাঝে অন্য লাইন বন্ধ করে মোটর চালু করে ছাত্রদের ব্যবহৃত ও মুসল্লিদের অজুর পানি তুলতে হয়। আধুনিক যুগে অফিসিয়াল কাজ ও ছাত্রদের শিখানোর জন্য কম্পিউটার চালু করতে হয় মোটর ও ফ্রিজের সুইস বন্ধ করে! হাস্যকর হলেও সত্য কথাটি আমরা আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি। অনেক স্যান্ডেলের তলা ক্ষয় করে, পিডিবি অফিসে লেফটরাইট করে কিছু খুটি উদ্ধার হলেও একযুগ হয়ে যাচ্ছে সেগুলোর গলায় সোনার ফিতা লাগেনি! লজ্জায়, বিরক্ত হয়ে একটি খুটি দেখেছি মাটিতে লুঠিয়ে পড়েছে! দেখার কেউ নাই।
.
পানি নিষ্কাশনের জন্য অত্র এলাকার রেকর্ডেট কোন ছড়া নেই। ক্যাম্পাসের পাশ ঘেঁষে পানি গিয়ে আশ্রয় নেয় সোনারগাঁয়। এলাকার পানি উজানে যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে তার নিজস্ব রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণ করে পানি নিষ্কাসনের সুন্দর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। কিন্তু আফসুসের বিষয়, অদ্যাবধি এলাকাবাসী ও আমাদের দাবীমতে জলাশয়মুক্ত এলাকা ঘোষণা করতে পারিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন। দীর্ঘদিনের আবেদন ও প্রচেষ্টায় ইদানিং আশার আলো দেখা যাচ্ছে। দেখাযাক শেষতক কী হয়।
.
এশিয়ার বৃহত্তম এ কুরআনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব রাস্তা এখনো অবহেলিত। এ রাস্তায় অসংখ্য মানুষের চলাচল। বিগত বর্ষাকালে রাস্তায় হাটুপানি ছিলো। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসে আসতে পারেনি। সিটির ভেতরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন হাল! যদিও চিন্তা করা যায় না; তবে এটাই বাস্তব। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, এমন দুর্দশা-দুর্দিনে স্থানীয় কোন প্রতিনিধি একটি মুহুর্তের জন্য দেখার প্রয়োজন এবং শান্তনা দেবার প্রয়োজনও মনে করেন নি। অথচ সবই উনাদের দেখা এবং জানা!
.
বহু আগে রাস্তাটি সিটির অর্থায়নে গার্ডওয়াল দিয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিছু কাজের পর সমাপ্তি ঘটে যায়। পরবর্তি বাজেটে সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন সিটি কর্তৃপক্ষ। প্রায় দশবছর অতিবাহিত হতে যাচ্ছে। আমরা জানি না, সিটির পরবর্তি বাজেট আর কতদূর! প্রতিবছরই যোগাযোগ এবং দরখাস্ত দেয়া হয়। নতুন করে আশ্বাসও দেওয়া হয়। কিন্তু…..
.
আমরা সিলেট সিটির নাগরিক। প্রতিষ্ঠানেই রয়েছে অর্ধশতাধিক ভোটার। আর অভিভাবকতো আছেই। তাহলে আমরা কেনো অন্যগ্রহের প্রজাতির মতো অবহেলিত? আমাদের কেনো দেখার কেউ নাই! না, আছেন। আজ দুইজন অভিভাবকে বাধ্য হয়েই লিখছি।
.
সিলেটের নন্দিত সাবেক মেয়র, নগরীর মাটি ও মানুষের নেতা জনাব বদর উদ্দীন আহমেদ কামরান। আপনি এবং আপনার মায়ের সাথে ছিলো আমার বাবার (আঞ্জুমান প্রতিষ্ঠাতা শায়খুল কুররা মাওলানা আলী আকবর সিদ্দীক ভানুগাছী রাহ.) অকৃত্রিম সখ্যতা। একাধিকবার আব্বার সাথে গিয়েছি আপনার বাসায়। নিজ কানে শুনেছি, ‘চাচা’ শব্দের সম্বোধন। আপনি কারাগারে থাকাকালীন দেখেছি আপনার মায়ের ভালোবাসা। আপনিতো বারবার এসেছেন, আঞ্জুমান বারুতখানা এবং গোটাটিকর নিজস্ব ক্যাম্পাসে। আপনার অনেক অবদান আছে আঞ্জুমানে। আপনার মনে আছে কী, ১৯৯২ সালে আপনি সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন বালাগঞ্জ স্কুল মাঠে আঞ্জুমানের প্রথম দস্তারবন্দী সম্মেলনের পুরো প্যান্ডেলের খরচ এবং আপনি নিজে ঢাকার এক ট্রাভেল ব্যবসায়ী থেকে পাগড়ী কালেকশনের কথা! আমরা ভুলিনি। আশাকরি আপনিও ভুলেন নাই। আজ আপনি হয়তো মেয়র পদে নাই। আপনি আছেনতো…?
.
বর্তমান নগর পিতা, সাহসী কর্মবীর জনাব আরিফুল হক চৌধুরী। ব্যক্তিগতভাবে আপনি আলেমভক্ত। বাড়ীও আমাদের এলাকায় (কমলগঞ্জে)। আঞ্জুমান প্রতিষ্ঠাতার সাথে আপনারও রয়েছে পরিচিতি। এ প্রতিষ্ঠানকে আপনিও জানেন ভালোকরে। হিজকিল গুলজার ভাই এবং আব্বাকে দেখেছি অনেকবার আপনার সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, দাওয়াতে। আপনি মেয়র পদে পুরো সময় অলংকৃত করতে পারেন নি, সেটা আমরা জানি। দীর্ঘদিন ছিলেন কারাগারে। আলহামদুলিল্লাহ্‌। এখন আছেন মুক্ত বাতাসে। ইদানীং আপনি এসেছেনও আমাদের আঞ্জুমানে। সরেজমিনে দেখেছেন। সকল দরখাস্ত ও নথিপত্র আমরা দিয়েছি। আপনিও স্বযত্নে আলাদা ফাইল করেছেন। একজন অভিভাবক হিসেবে এ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনার সুনজর আমরা কামনা করছি। আমাদের এ ফাইল যেনো আবার ভবিষ্যৎবাদে পরিণত না হয়। আটকে যাতে না থাকে অতীতের মতো, কারো বাঁকাচোরা টেবিলে।
.
আমাদের ২৭ নং ওয়ার্ডের দুই দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর জনাব আব্দুল জলিল নজরুল ভাইকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়, তার আশাবাদী বক্তব্যের জন্য। “হবে হবে, দেখাযাক, বড় বাজেট, আগামী বাজেট” শব্দগুলো আর কতকাল শুনবো জানি না।
মহিলা কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র এডভোকেট রুকশানা বেগম শাহনাজ Rukshana Begum আপার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ, মাঝেমধ্যে খোঁজখবর, পরামর্শ এবং শান্তনামূলক বক্তব্যের জন্য। সবাইকে মুবারকবাদ, যারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক সম্পর্ক রেখে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট থাকেন। বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন।

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১