প্রচ্ছদ

বিএনপি এলে জোটে নইলে একা লড়বে জাপা

প্রকাশিত হয়েছে : ১:২৫:২২,অপরাহ্ন ০৩ জুলাই ২০১৮ | সংবাদটি ১৮৩ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো ধরনের ধোঁয়াশা দেখছেন না জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি মনে করেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি এলে তাদের ক্ষতি হবে ১০০ পার্সেন্ট, না এলে ক্ষতি হবে ১ লাখ পার্সেন্ট। আর না আসাটা হবে দলটির জন্য রাজনৈতিক মৃত্যু। আমার মনে হয়, তারা সেটি করবেন না, তারা নির্বাচনে আসবেন। গত রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আমার সংবাদের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি? আইসাই পড়ছে। স্থানীয় সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে যা-ই করেন, জাতীয় নির্বাচনে ৩শ আসনে তো কারচুপি করতে পারবেন না। তার মানে তারা নির্বাচনে চলে আসছে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দেওয়া শর্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শর্ত আসলে কিছু না, এটা রাজনৈতিক বুলি। আওয়ামী লীগ একচুল ছাড় দেবে না, এটা বিএনপিও জানে। শেখ হাসিনার অধীনেই তাদের নির্বাচনে আসতে হবে। বিএনপিনেত্রী জেলে তারা কিছুই করতে পারলো না, তারা করবে সরকার পতন। জনসমর্থন থাকলেও এদের সাংগঠনিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। সব শর্ত ছেড়ে তারা নির্বাচনে আসবে। গত দশম জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ওই সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. মুজিবুল হক চুন্নু। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার গঠন প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী এ প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিত্ব থাকবে। প্রতিনিধিত্বের সংখ্যার দিকে জাপা থাকবে দ্বিতীয়। দশম জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্বাচনকালীন সরকারে জাতীয় পার্টির ৭ জন ছিলো। সরকারের আকারের ওপর সংখ্যা নির্ধারণ করে। যদি ২০ জনের মতো হয়, তাহলে জাতীয় পার্টির ৬-৭ জন থাকবে।জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নিজ দলের প্রস্তুতি তুলে ধরে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের চারবারের এ সংসদ সদস্য বলেন, জাতীয় পার্টি ৩শ আসনে প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে। আমাদের নেতা পল্লীবন্ধু এরশাদ বলেছেন, বিএনপি না এলে আমরা ৩শ আসনে নির্বাচন করবো আর এলে জোট করবো। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হলে ৭০টি আসন চাইবো। এর মধ্যে কমপক্ষে ৫০টি দিতে হবে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের গুঞ্জন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের একটি জোট তো আছেই, আরও যদি আসে তবে তাদের নিয়ে জোট করবো। কেউ না এলেও জাতীয় পার্টি ৩শ আসনে প্রার্থী দেবে। এরপর নির্বাচনের সময় যদি রাজনৈতিক জোট হয়, সেটা ভিন্ন কথা। তখন প্রার্থী মনোনয়নেও পরিবর্তন আসবে। নির্বাচনের সময় ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু হবে, এটা আমরা রাজনীতিবিদ হিসেবে চাই। তবে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র, ইন্ডিয়াও হয় না। আমাদের এখানেও শতভাগ সুষ্ঠু হবে, এটা ভাবা ভুল। কিছু অনিয়ম হবেই। তবে অধিকাংশই সুষ্ঠু হবে, এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসন আমলকে স্বর্ণযুগ উল্লেখ করে জাপা নেতা বলেন, এদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ৮০ শতাংশ এরশাদ করেছেন। উপজেলা পরিষদ, বিভাগীয় পর্যায়ে কোর্ট, জেলার অবকাঠামো, রাজধানীর সঙ্গে জেলা শহর, জেলা শহর হতে উপজেলা শহরের সংযোগ সড়ক এরশাদের অবদান। বাকিরা মুখে বলেছেন, কাজ করেছেন এরশাদ। দীর্ঘ আড়াই দশকের রাজনীতিতে ক্ষমতার নিয়ামক এরশাদের দল জাতীয় পার্টি। ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ প্রতিটি নির্বাচনেই জাতীয় পার্টি ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও বড় ফ্যাক্টর জাতীয় পার্টি। দলটির সমর্থন বা সহযোগিতা ছাড়া কারোরই ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে মনে করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু।রাজনৈতিক মাঠের সফল ব্যক্তি মুজিবুল হক চুন্নুর জন্ম ১৯৫৪ সালে ১ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার কাজলা মধ্যপাড়ায়। ছাত্রজীবনেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৮০-৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মোহাম্মদ মহসিন হলের ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ছাত্র অবস্থায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে ১১নং সেক্টরে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৮-৮০ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০-৮৬ সাল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সম্পাদকম-লীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।১৯৮৬-১৯৯০ সাল পর্যন্ত সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত এবং অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭-১৯৮৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮-৯০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Media it

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০