প্রচ্ছদ

নেইমার : পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল, অভিনয়ে নিন্দিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

‘নেইমারে উজ্জ্বল ব্রাজিল, বিরক্ত পুরো বিশ্ব’-মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর ব্রাজিলিয়ান সংবাদপত্র ‘গ্লোবো’র শিরোনাম ছিল এটি। বোঝাই যাচ্ছে, মাঠে নেইমারের অভিনয় আর ছল দেখে খুব একটা খুশি হতে পারছে না তার দেশের মানুষও।

পারবেই বা কিভাবে? জাতীয় দলে বরাবরই ভীষণ উজ্জ্বল। এবার চোটের ধাক্কা কাটিয়ে ফিরলেও নেইমারকে আলাদা করে চেনা গেছে প্রতিটি ম্যাচেই। দলের কান্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন বারবার। পায়ের জাদুতে মুগ্ধ করছেন পুরো ফুটবল বিশ্বকে।

পারফরম্যান্সে কোথায় বিশ্বজুড়ে প্রশংসার বান বইবে, তা হচ্ছে না। কারণ একটাই, মাঠে নেইমারের অভিনয়। একটু কিছু হলেই মাঠে পড়ে যাচ্ছেন, পেনাল্টি আদায় করতে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন। মেক্সিকোর বিপক্ষে দাপটে জয় পাওয়া ম্যাচেও মাঠের বাইরে এক কান্ডে যেভাবে গড়াগড়ি খেলেন, তাতে ‘ছিঃ ছিঃ’ রব উঠেছে পুরো ফুটবল বিশ্বে।

মেসি-রোনালদোর পর এখন সবচেয়ে বড় তারকা, তাকে কেন মাঠে প্রতারণার আশ্রয় নিতে হবে? বিশ্বজুড়ে এখন সেই আলোচনাই। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে খেলার এক পর্যায়ে মাঠের বাইরে পড়ে গিয়েছিলেন নেইমার। বল তুলতে গিয়ে তার পা মাড়িয়ে দেন মেক্সিকোর ফুল-ব্যাক মিগুয়েল লেয়ুন।

মিগুয়েলের পা নেইমারের অ্যাঙ্কেলে লেগেছে ঠিক, তবে এরপর পিএসজি তারকা যেভাবে পড়ে ছটফট করেছেন, অনেকেই মনে করেছিল বড় কোনো চোটে পড়ে গেছেন আবার। অনেকটা সময় মাঠে পড়ে থাকেন তিনি, মেডিকেল টিমের শুশ্রুষার পর খেলা শুরু হলে দেখা যায় দিব্বি মাঠ জুড়ে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছেন ব্রাজিল সুপারস্টার। যে ঘটনাটি নিয়ে ম্যাচশেষে ভীষণ সমালোচনা করেন মেক্সিকোর কোচ হুয়ান কার্লোস ওসারিও। নেইমারকে ‘ভাঁড়’ বলে ব্যঙ্গ করেন তিনি।

সমালোচনা এখানেই থামেনি। ফুটবল বিশ্লেষকরা তো করেছেনই। এই ঘটনার পর ইনস্টাগ্রামে প্রায় ১০০ মিলিয়ন পোস্ট হয়েছে, যাতে নেইমারের পক্ষে-বিপক্ষে লড়াই চলেছে। অনেকে তো ব্যঙ্গ করে কয়েকটি ছবিও বানিয়েছেন। কেউ কেউ তুলে এনেছেন, গ্রুপপর্বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি বক্সে নেইমারের পড়ে যাওয়ার অভিনয়ের ভিডিওটিও।

তবে সমালোচনা যতই হোক, এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বড় তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নেইমারই। এখন পর্যন্ত চলতি টুর্নামেন্টে তিনি সবচেয়ে বেশি শট (২১টি) নিয়েছেন, যার মধ্যে ১২টিই ছিল অন টার্গেট। সবচেয়ে বেশি গোলস্কোরিং চান্সও তৈরি করেছেন নেইমার, ১৬টি। ড্রিবলিংয়েও এগিয়ে সবার চেয়ে (৪০টি)। সেইসঙ্গে ফাউলও হয়েছেন সবচেয়ে বেশিবার (২৩ বার)।

মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলটি ছিল বিশ্বকাপে তার ষষ্ঠ গোল। ৩৮ বারের চেষ্টায় এই ৬ গোল করেছেন নেইমার। যে সংখ্যক গোল করতে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির লেগেছে ৬৭টি শট, পর্তুগিজ যুবরাজ রোনালদোর শট লেগেছে ৭৪টি।