প্রচ্ছদ

হামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না ঢাবি প্রক্টর

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:১৫:৩৮,অপরাহ্ন ০২ জুলাই ২০১৮ | সংবাদটি ১০৫ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হামলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজকের (সোমবার) হামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার প্রক্টরিয়াল বডি বা শিক্ষার্থীরা লিখিত বা মৌখিক কোনোভাবেই বিষয়টি আমাকে অবহিত করেননি।’ সোমবার (০২জুলাই) প্রক্টর তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

শহীদ মিনারে মেয়েদের লাঞ্ছিত এবং ছাত্রলীগের কাছ থেকে ধর্ষণের হুমকি পাওয়ার বিষয়ে আন্দোলনকারীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু হামলার বিষয়ে অবহিত নই এবং কেউ যেহেতু অভিযোগ করেনি, তাই এ নিয়ে কিছু বলতে পারছি না। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেব।’

সোমবার (০২জুলাই) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মানববন্ধনে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রক্টর বলেন, ‘এ বিষয়েও আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ এ বিষয়ে জানায়নি। জানালে ব্যবস্থা নেবেন।’

ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে শনিবার ও আজ (সোমবার) ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেছে। ঢাবি ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলার দায়িত্ব ছাত্রলীগের নাকি প্রক্টরিয়াল বডির-সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডির। অন্য কাউকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গতকাল (রোববার) অভিযোগ পেয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডি কাজ করছে। আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

শনিবার ও সোমবারের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়েছে কি না-জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী আমরা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। শনিবারের হামলায় যেসব আহত শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি আছে তাদের বিষয়েও খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছ। এছাড়া নূরের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিচ্ছি আমরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘শনিবারের হামলার নিয়ে আমরা কাজ করছি। কারা হামলা করেছে তাদের চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করবো আমরা। এছাড়া শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শনিবার (৩১জুন) পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ আগেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

এছাড়া রোববার বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিরপুর-১৪ নম্বরের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহাবাগ থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কোট নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ১৫-২০ জন মানববন্ধনে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন এসেছে আমাদের ওপর হামলা করে। আমি দৌড় দিয়ে পালাতে পারলেও ফারুকসহ কয়েকজন মারধর করে তারা। পরে ফারুকে শাহবাগ থানায় পুলিশে দিয়ে বলেও শুনেছি।’

এই দুই জনের একজন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ফারুক হাসান এবং অপর একজন ছাত্রী বলে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত আবুল হাসান। তবে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

Media it

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০