প্রচ্ছদ

সর্বোচ্চ ৬০ আসন ছাড়বে আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত হয়েছে : ২:৩৭:১১,অপরাহ্ন ০৯ জুন ২০১৮ | সংবাদটি ৩৫৩ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জোটের শরিকদের সর্বোচ্চ ৬০ আসনে ছাড় দেবে আওয়ামী লীগ। অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে জোটকে দেওয়া আসন সংখ্যা কমতে পারে কিন্তু বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তথ্য মতে, ১৪ দলীয় জোট বহাল রেখেই একাদশ জাতীয় নির্বাচনি হিসাব কষা হচ্ছে। জোটের বড় দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে হোমওয়ার্ক শুরু করেছে শরিক দলগুলো। প্রস্তুত করা হচ্ছে নিজ দলের আসনভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা। আসন চাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকতে চায় কোন দল। সংসদীয় আসনে প্রতিটি দলই ভাগ বসাতে চায়। জোটে শরিকরা কমপক্ষে ৭০টি আসনে জোটের প্রার্থী দেওয়ার নিশ্চয়তা চায় বলে জানান একাধিক নেতা। এর মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ১০, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু-শিরিন) ২০, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (আম্বিয়া-প্রধান) ১০, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৫, গণতন্ত্রী পার্টি ৫, ন্যাপ ৭, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ১০, সাম্যবাদী দল ৪, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ৩, গণআজাদী লীগ ১০, তরিকত ফেডারেশন ১৫, কমিউনিস্ট কেন্দ্র ২টি আসন চাইবে বলে জানা গেছে। তবে জোটের আসন ভাগাভাগির এসব দাবি আমলে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। গত দশম জাতীয় নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদের ১৬টি আসনে ছাড় দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তথ্য মতে, ১৪ দলীয় ফোরামে সংসদীয় আসন চাইলেও বাস্তবে নির্বাচনে লড়াই যোগ্যতা নেই একাধিক দলের। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ওইসব নেতারা। তাদের মনোনয়ন দিলে জামানত বাজেয়াপ্ত হারাতে শঙ্কা রয়েছে। নামসর্বস্ব ওইসব দলের কেউ সংসদীয় আসনে মনোনয়ন পাবেও না। কারণ জোটে থাকলেও একাধিক দলের একটি আসনেও লড়াইয়ের সক্ষমতা নেই। এসব দলের মধ্যে রয়েছেÑ বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাপ, সাম্যবাদী দল, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র। সংসদীয় আসন না দিলেও ক্ষমতায় আসলে এসব দলের নেতাদের অন্যভাবে কাজে লাগানো হবে। আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, জোটের আসন বণ্টন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। বিভিন্ন ইস্যুতে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের বৈঠক হলেও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়নি। দশম জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনের পর গত ৯ মে জোট নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসার সুযোগ পান ১৪ দলের নেতারা। দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর পর জোট প্রধানের সঙ্গে বৈঠক হলেও তোষামোদ ছাড়া কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠকে বক্তব্য রাখা নেতারা সকলেই কেবল সরকার ও শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। বৈঠকে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ১৪ দলের নেতাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বশেষ গতকাল বুধবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে গণআজাদী লীগ সভাপতি অ্যাড. এস.কে সিকদারের সভাপতিত্বে ১৪ দলের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৪ দলের সমন্বয়ক, স্বাস্থ্য ও পরিবরার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। ওই বৈঠকেও আসন বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। শরিকরা চাইলেও আসন বণ্টনের ব্যাপারে আরও সময় নিতে চায় আওয়ামী লীগ। আসন বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে জোটের আকারের ওপর। জোটের আকার বাড়লে ১৪ দলের জোটভুক্ত দলের আসন সংখ্যা বাড়বে না বরং কমতে পারে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএনপি নির্বাচনে এলেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে পরিবর্তন আসবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ছোট দলগুলো নিয়ে মহাজোট গঠন হতে পারে। আর জোটে জাতীয় পার্টি এলে আসন বণ্টনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে। তাই আসন বণ্টন নিয়ে আগেভাগেই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের সূত্রটি আরও জানায়, জোটের আকার যাই হোক, আসন বণ্টনে সর্বোচ্চ ৬০ আসনে ছাড় দেওয়া হবে। মহাজোট হলে বড় শরিক এরশাদের জাতীয় পার্টি পাবে সর্বোচ্চ ৩৫-৪০টি। যদিও জাতীয় পার্টি কমপক্ষে ৭০টি আসনের নিশ্চয়তা চায়। আর ১৪ দলের বাকি দল পাবে ২০টির মতো। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি থেকে ৮টি। জাসদ (ইনু-শিরীন) ৬টি থেকে ৮টি। জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান) ৩টি। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ৩টি, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ৩টি। আর বিশেষ বিবেচনায় গণআজাদী লীগ ২টি, সাম্যবাদী দল ১টি, গণতন্ত্রী পার্টি ১টি, ন্যাপ ১টি আসন পেতে পারে। তবে একটি আসনেও জয় পাওয়া দুস্কর হবে দল ৪টির। আর বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র এবং গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি সংসদীয় আসন দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, এটা এখনই বলা মুশকিল। এখানো আসন বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জোটের আকারের উপর আসন বণ্টন নির্ভর করবে। জাসদ নেতা শরীফ নূরুল আম্বিয়া দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, আমরা জোটগতভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের সম্ভাব্য আসনের প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ঈদের পরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ১৪ দলীয় বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া বলেন, সাম্যবাদী দল আগের চেয়ে এখন অনেক শক্তিশালী। ৪টি সংসদীয় আসনে আমাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে, ওই আসনগুলো আমরা চাইবো। গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান বলেন, ১৪ দলের ফোরামে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা না হলেও আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি সংসদীয় আসনে গণআজাদী লীগের সক্রিয় অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের সাংসদ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, আমরা ৩শ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। বিএনপি জোট নির্বাচনে এলে মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আবারো জোট করতে পারে। তবে জোটে জাতীয় পার্টিকে কমপক্ষে ৭০-৮০টি আসন দিতে হবে, তবে জোট হবে।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

জুন ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মে    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০