প্রচ্ছদ

ফুটবলের মাধ্যমে নিজেদের তুলে ধরতে চায় যে পাঞ্জাবিরা

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

জুন মাসের মাঝামাঝিতে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। কিন্তু যেসব জাতি বা ভাষাভাষী গোষ্ঠী ফিফার সদস্য হতে পারে না, তাদের ফুটবল সংগঠন কেনিফার বিশ্বকাপ তার আগেই শুরু হয়েছে। সেখানে অংশ নিয়েছে পাঞ্জাবি ফুটবল দল পাঞ্জাব এফএ।বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ক্লাবগুলোর একটি, লিভারপুলের ট্রেনিং একাডেমীতে ফুটবল প্রাকটিস করার সুযোগ প্রতিদিন কারো আসেনা। তবে ২৪ বছরের আইটি বিশেষজ্ঞ কেইমেন ব্রান্ড্রো ঠিক সেই কাজটিই করছেন। তিনি স্বপ্ন দেখছেন একদিন পাঞ্জাব এফএ-কে ফুটবলের জগতে বিখ্যাত করে তুলবেন।

তিনি বলছেন, ”প্রথম আমার একজন বন্ধুর কাছে পাঞ্জাব এফএর বিষয়ে জানতে পারি। এরপর আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করি। এখন আমরা সবাই এখানে আসতে পেরেছি।” এই ফুটবল দলে যারা রয়েছেন, তাদের উত্তরসূরিরা ভারত আর পাকিস্তানের পাঞ্জাবি এলাকা থেকে এসেছেন, যদিও এই খেলোয়াড়দের সবার জন্মই যুক্তরাজ্যে আর তারা এখানেই বড় হয়েছেন।

এ কারণে ফুটবল তাদের শেকড়ের সঙ্গে যোগাযোগ একটি মাধ্যম তৈরি করেছে, আর যোগাযোগ তৈরি করেছে বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ পাঞ্জাবির সঙ্গেও।মি. ব্রান্ডো বলছেন, ”একসময় বাবা বা দাদার মাধ্যমে যে পাঞ্জাবীরা এখানে এসেছেন,তাদের সবাইকে আমাদের এই দলে স্বাগত জানানো হয়। তারা হিন্দু না মুসলমান,ভারত নাকি পাকিস্তান থেকে এসেছেন, সেটা কোন ব্যাপার না।”

মাঠের সাইড লাইনে বসে দলের সদস্যদের খেলা দেখছিলেন প্রতিষ্ঠাতা হারপ্রিত সিং। তার কাছে এই দল অনেক বড় কিছু। এর জন্য তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন আর তার নিজের সঞ্চয় থেকে ৬৫ হাজার পাউন্ড দলের পেছনে ব্যয় করেছেন।

হারপ্রিত সিং বলছেন, ”পাঞ্জাবি পরিচয় মানে তাদের মানসিকতা, ইতিহাস বা খাবারের বিষয়টি মনে করা হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি যেন শুধুমাত্র একটি পরিচিতির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আপনার আসল পরিচয়টা কি, আপনার বাবা বা দাদা কারা ছিলেন, সেসব ব্যাপার যেন হারাতে বসেছে। তাই এই চমৎকার খেলাটির মাধ্যমে আমি সেই পাঞ্জাবি গর্বকে ফিরিয়ে আনতে চাই।”কিন্তু আরো অনেক কিছু থাকতে সেজন্য ফুটবল বেছে নেয়া কেন? কারণ ইতিহাসে পাঞ্জাবিদের সঙ্গে ফুটবলের তো কোন যোগসূত্র বা সম্পর্কের ব্যাপার নেই।

মি. সিংয়ের মতে, ”সেটা সত্যি পাঞ্জাবিদের সঙ্গে ফুটবলের বিশেষ কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু ফুটবল হচ্ছে তরুণদের খেলা, এটি এমন একটি ভাষায় তাদের সাথে কথা বলে যে, আর কোন ভাষা দিয়ে আপনি এভাবে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে পারবেন না।”

তার এই আবেগকে হয়তো পুরস্কৃত করা যায়।যেসব জাতি বা আলাদা সংস্কৃতির রাজ্য ফিফায় তালিকাভুক্ত হতে পারে না, তাদের ফুটবল সংগঠন কেনিফার নানা আয়োজনে এর মধ্যেই পাঞ্জাব এফএ ফেভারিট হিসাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। যে সংগঠনে আছে তিব্বত, পশ্চিম আর্মেনিয়া আর ইয়র্কশায়ারের নিজস্ব ফুটবল দল।

কেনিফার পরিচালক পল ওয়াটসন বলছেন, ”ফুটবলের জন্য আমরা ভিন্ন সংস্কৃতি আর ভিন্ন পরিচয়কে স্বীকৃতি দিচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি ফুটবলে আরো নমনীয়তা আর আনন্দের বিষয়টি থাকা উচিত। ফিফা আপনার পরিচয় নির্ধারণ করে দিচ্ছে আর আমরা আপনার পরিচয় জানতে চাইছি। আমাদের কাছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ, আপনি কিভাবে আপনার পরিচয় তুলে ধরতে চান?”

তবে সম্প্রতি পাঞ্জাব টিম গত কয়েকটি প্রাকটিস ম্যাচে হেরে গেছে, আর সেটা উদ্বেগে ফেলেছে ম্যানেজার রুবেন হেইজলকে। পাঞ্জাবিদের এই দলে যে হাতে গোনা কয়েকজন অপাঞ্জাবি রয়েছেন, তাদের একজন মি. হেইজল।

রুবেন হেইজল বলছেন, ”এই ছেলেরা খুবই ভালো ফুটবলার। আশা করছি, সামনে কেনিফার যে বিশ্বকাপ হবে, সেখানে তারা প্রমাণ করে দেবে যে,তারা কতটা ভালো। আমি নিজে পাঞ্জাবি কিনা, সেটা ব্যাপার না। যখন আমি তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, তখন আমার নিজেকেও একজন পাঞ্জাবি বলে মনে হয়। তারা যতটা জয় পেতে চায়, আমিও ততটাই চাই।”

দুই বছর আগে কেনিফার সর্বশেষ টুর্নামেন্টে শিরোপার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল এই পাঞ্জাবি দল। ২০১৬ সালের কেনিফা বিশ্বকাপে রানার্স আপ হয়েছিল পাঞ্জাব এফএ। তখন তারা কৃষ্ণ সাগরের তীরের পার্সিয়ান রাজ্য অ্যাবাকাসিয়ার কাছে পেনাল্টিতে তারা হেরে যায়।তাই এবার তাদের কাছে প্রত্যাশা আরো বাড়ছে। এবার সাইপ্রাসে যে কেনিফার যে বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে, সেখানে তাদের কাছে জয়সূচক গোলের জন্য তাকিয়ে আছে সব পাঞ্জাবি।
সূত্র-বিবিসি বাংলা