প্রচ্ছদ

অন্তঃসত্ত্বা নারীরা কি রোজা রাখতে পারবেন?

প্রকাশিত হয়েছে : ৫:০০:০০,অপরাহ্ন ৩০ মে ২০১৮ | সংবাদটি ১৫০ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

রমজান মাসে রোজা রাখা সকল মুসলমানের জন্য ফরয। রোজা রাখা নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এ সময়ে বেশ চিন্তিত থাকেন। অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও কি রোজা রাখতে পারবেন নাকি পারবেন না- এই প্রশ্নটি সবার মনে জাগে।

অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারী রোজা রাখতে চান, আবার অনেকে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হবে ভেবে রোজা রাখা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। প্রকৃতপক্ষে রোজা রাখা যাবে কি যাবে না তা নির্ভর করে অন্তঃসত্ত্বা নারীর উপর।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অন্তঃসত্ত্বা হলে রোজা রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেক সময় তারা নানা সংশয়ে ভোগেন। তাদের জন্য বলছি, অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও রোজা রাখতে পারবেন। তার আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মেডিকেল চেকআপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ বাধ্যতামূলক। তবে রোজা রাখার আগে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের যে বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

মেডিকেল চেকআপ :
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের রোজা থাকতে কোনো সমস্যা নেই। তবে সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। রোজার আগে ডাক্তারের কাছ গিয়ে চেকআপ করানোটা খুব জরুরি।

পুষ্টিকর খাদ্য :
অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা যেহেতু সারাদিন কিছু খেতে পারবেন না, তাই সাহরিতে পুষ্টিকর খাদ্য বেশি খেতে হবে। খাবারে রাখতে হবে দুধের প্রাধান্য। রমজান শুরুর পূর্ব থেকেই কফি, চা (এমনকি গ্রিন টি) এবং চকোলেট খাওয়া কমিয়ে দিতে পারলে ভালো। কারণ এগুলোতে ক্যাফেইন থাকে, যার ফলে গর্ভবতী মায়েরা রোজার সময় পানি শূন্যতায় ভুগতে পারেন।

ডিম, মাছ, মাংস :
রোজায় অন্তঃসত্ত্বা নারীরা ডিম, মাছ-মাংস পরিমাণমতো খেতে হবে। কারণ একজন সাধারণ মানুষের তুলনায় অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পুষ্টির প্রয়োজন বেশি। এক্ষেত্রে তারা ডাক্তারের কাছ থেকে রোজার আগে ও পরের সময়ের খাদ্য তালিকা নিয়ে নিতে পারেন। এতে মা ও বাচ্চা দুজনই সুস্থ থাকবেন।

রোজার আগে চেকআপ :
অন্তঃসত্ত্বা মায়ের রুটিন চেকআপ ছাড়াও রোজা শুরুর আগে তার চেকআপ করাতে হবে। কারণ মনে রাখতে হবে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী মানে মা ও শিশু দুজনই।

ডায়াবেটিস, অ্যানেমিয়া এবং প্রি-অ্যাকলেমপসিয়া আছে কিনা পরীক্ষা করে নিন। ডায়াবেটিস যদি থাকে তবে রোজা রাখাকালীন সময়ে রক্তে গ্লুকোজ বাড়তে পারে তখন গর্ভবতী মা ও শিশু মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এছাড়া অ্যানেমিয়া আক্রান্ত মায়েরা শারিরিক দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন, তাই অতিমাত্রায় অ্যানেমিয়া আক্রান্ত মায়েদের গর্ভাবস্থায় রোজা না রাখাই শ্রেয়।

পরমিতি ঘুম :
রমজানেও সময় বের করে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা ঘুমাতে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে অন্তঃসত্ত্বা মাকে। নাহলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে।

সেহরি ও ইফতারিতে স্বাস্থ্যকর খাবার :
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সেহেরির খাবার পরকিল্পনা করে নিবেন কিন্তু কখনো সেহেরি বাদ দিবেন না। ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন। লাল আটা, হোলগ্রেইনস, কম জিএল চাল, খেজুর এবং অন্যান্য শুকনো খাবারের মত কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার ধীরে ধীরে শক্তি নিঃসরণ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে শাকসবজি এবং বেশি বেশি ফলমূল খান।

দুধ ও দুধের তৈরি খাবার রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়ার প্রবণতা কমায়। দুধ, লাচ্ছি, মাঠা ইত্যাদিও ভালো। এছাড়া তাজা ফল বা সবজির সালাদ, স্যুপ ইত্যাদিও খাওয়া যেতে পারে।

সেহেরি, ইফতার ও রাতে মিলিয়ে কমপক্ষে ১.৫-২ লিটার পানি পান করুন। তবে ঠেসে জোর করে পানি পান করবেন না। ঠাণ্ডাস্থানে থাকুন, এতে পানিশূন্যতা সমস্যায় পরবেন না।

তবে গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুর কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা থাকলে, বা কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা হলে ইসলামী শরিয়া মতে সেই মায়ের রোজা না রাখলেও চলবে।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১