প্রচ্ছদ

বিশ্বের দশটি ভুতুড়ে শহর

প্রকাশিত হয়েছে : ২:৩১:২০,অপরাহ্ন ৩০ মে ২০১৮ | সংবাদটি ১৯৪ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

বিজ্ঞান ভূতের বিষয়টি মানতে নারাজ কিন্তু তারপরও অনেকেই ভূতে বিশ্বাস করে। পৃথিবীতে এমন অনেক ভূতুড়ে ঘটনা ঘটে যার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় না। সেই কারণেই হয়ত মানুষ ভূতে বিশ্বাস করে। যুগের পর যুগ ধরে মানুষের ভূতের বিশ্বাসের পেছনে বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বংশ পরম্পরায় আবর্তিত লৌকিক কাহিনী, ভূতসাহিত্য এবং সেলুলয়েডে চিত্রায়ন।

পৃথিবীর সকল দেশের সকল ভাষার সাহিত্যে ভূতের অস্তিত্ব রয়েছে, হলিউড থেকে টালিউড সব রূপালি পর্দাতেই ভূত নিয়ে অদ্ভুতুড়ে সব কল্পকাহিনী চিত্রায়ন করা হয়েছে। তবে ভূতসাহিত্য কিংবা সেলুলয়েডের পর্দার বাইরে বাস্তব জীবনেও ভূতকে ঘিরে অনেক কিছু ঘটে। পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেগুলোকে ভৌতিক বা অভিশপ্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভূতের শহর হিসেবে অনেক শহর পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে।

নামিবিয়ার কোলমানস্কোপ এমনই একটি ভূতুড়ে শহর। নামিব ডেসার্ট এলাকার কাছের একটি হীরার খনির কাছে গড়ে উঠেছিল এই কোলমানস্কোপ। ১৯৫০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভূতুড়ে শহরের বদনাম নিয়ে শহরটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এরপর কালক্রমে সেই শহরটিকে গিলে ফেলেছে মরুভূমি। এখনো সেই শহরের কিছু বাড়িতে নান্দনিক সব অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা টিকে রয়েছে যার অনেক কিছু বেশ ভালো অবস্থাতেই রয়েছে।

চিলির আতাকামা মরুভূমির হুমারস্টোন এন্ড সান্তা লরা শহরটিও একটি ভূতুড়ে শহর। চিলির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত শহরটি এক সময় প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর থাকলেও ১৯৫৮ সাল থেকে পরিত্যক্ত শহরে পরিণত হয়েছে। এই শহর পরিত্যক্ত হলেও সেখানে রয়েছে সংরক্ষিত অনেক ভবন। এই সব ভবনের একটিতে রয়েছে থিয়েটার। যে থিয়েটারে রয়েছে সেই সময়ের ব্যবহৃত চেয়ার, আসবাবপত্র, সুইমিংপুল। ইকিউইক শহর থেকে ৩০ মাইল পূর্বে পোজো আলমোন্তে শহরের অদূরে অবস্থিত থেকে ৩০ মাইল পূব হুমারস্টোন এন্ড সান্তা লরা শহরটি।

এশিয়ার মধ্যে ভূতুড়ে শহরের তালিকায় রয়েছে ভারতের রাজস্থানর ভ্যানগার্গ। ১৭২০ সালের পূর্বে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহরের রাজধানী ছিল এটি। ১৭২০ সালে জয়পুরের রাজা এটিকে বিজয়ের পর থেকে ধীরে ধীরে প্রাণ হারাতে থাকে শহরটি। সেখানকার ভেঙে পড়া মন্দিরগুলো, দুর্গের প্যাভিলিয়ন এবং মধ্যযুগীয় বাজার সব কিছুকেই ভূতুড়ে হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ভূতের কল্পকাহিনীর বিষয়টি দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হতে তাই বেশিদিন সময় লাগেনি শহরটির।

১৯২৭ সাল পর্যন্ত নরওয়ের সাভালবার্দের পিরামিডেন শহরটি সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখানে কাজ করতো সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়োজিত কর্মীরা। সেখানে তাদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল এক নগরী যেখানে ছিল তাদের থাকার জায়গা, খেলাধুলার জায়গা। মূলত সেখানকার একটি খনিতে কাজ করার জন্যই গড়ে তোলা হয়েছিল এই শহরটি। তবে ভূতুড়ে সব কাণ্ডকারখানার জন্য এক সময় শহর ছেড়ে আসতে বাধ্য হয় সেখানকার অস্থায়ী অধিবাসীরা। ১৯৯৮ সালে শহরটি পরিত্যক্ত হয়ে গেলেও সেখানে এখনো অনেক ভবন রয়েছে। এসব ভবনের কোনটিতে রয়েছে থিয়েটার, লাইব্রেরি, মিউজিক সেন্টার।

অন্যান্য ভূতুড়ে শহরের মধ্যে স্পেনের জারাগোজা প্রদেশের বেলচি ১৯৩৭ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বোদিই ১৮৭৯ সালে, তুরস্কের আন্তালিওর কায়াকোয় ১৯২৩ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট এলমো ১৯২২ সালে পরিত্যক্ত হয়। ভূতুড়ে শহরের বদনামের কারণে পরিত্যক্ত হওয়া অন্য দুই শহর ইতালির নেপলসের হারকুলেনিয়াম এবং নিউ মেক্সিকোর চ্যাকো ক্যানিয়ন।-ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০