প্রচ্ছদ

সরকারের শেষ সময়ে বেড়েছে আমলাদের কাজের গতি

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:০৪:৪২,অপরাহ্ন ২৮ মে ২০১৮ | সংবাদটি ২৭১ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

জাতীয় নির্বাচনের বাকি আর কয়েক মাস। বর্তমান সরকারের এই শেষ সময়ে উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ বেড়েছে। ফলে সরকারি আমলাদের কাজের গতি আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে প্রশাসনের মূল কেন্দ্র সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তার অধীনস্থ দপ্তরগুলোর কাজের গতি তদারকিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বড় কর্তারা। তাদের অনেকেই মনে করছেন, মন্ত্রণালয় তার রুটিন অনুযায়ী কাজ করছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রাকৃতিক কিছু দুর্যোগ কাটিয়ে উঠে কাজের গতি অনেকটাই বেড়েছে। সচিবালয়ে অনেক কর্মচারীও বলছেন সরকারের শেষ সময়ে কাজের গতি তুলনামূলক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ সূত্রে জানাগেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে কিছু কিছু মন্ত্রণালয় তার কাজ ভালোভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । তবে জাতীয় নির্বাচনের মূল কাজ তো করবে নির্বাচন কমিশনই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আতিকুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইলেকশন কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ-কর্ম করে। আমাদের ওইভাবে কিছু না থাকলেও জাস্ট একটা ওভারলোপ থাকে, কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা তা দেখা। পাশাপাশি আমাদের অফিসারদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ইলেকশন কমিশন সরাসরি ইনভল্ব থাকে। জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বাড়ছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে আতিকুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিমাসেই মন্ত্রী এবং সচিবদের সাথে কাজের বিষয়ে মিটিং হয়ে থাকে। যাতে কোনো কাজ পেন্ডিং না থাকে। এক সরকার যাবে আরেক সরকার আসবে যাতে করে কোনো প্রকল্পে ক্ষতি না হয় সেভাবে কাজ করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, প্রত্যেক মন্ত্রণালয় তার কাজের বিষয়ে সরকারের সাথে অ্যানুয়্যাল পারফরম্যান্স অ্যাগরিমেন্ট (এপিএ) করে থাকে। এতে কাজ করার ক্ষেত্রে আমরা স্বাধীন না। আমাদের একটা টার্গেট ফিক্সড করা থাকে। যাতে কোনো কাজ কতদিনের মধ্যে শেষ করা যাবে তার একটা অঙ্গীকারনামা দেয়া থাকে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করতে পারলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অটোমেটেড একটা মার্কিং কাউন্ট হবে যে আমাদের মন্ত্রণালয়ের অবস্থান কোথায়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ড. অনিমা রানী নাথ আমার সংবাদকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের কাজের গতি তুলনামূলক বেড়েছে। সরকারের শেষ সময় এবং নির্বাচনের বছর হওয়ায় কাজের গতি আগের চেয়ে বেশি কিনা এমন প্রশ্ন করলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন) ফারুক আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, আমরা রেগুলেটিং মিনিস্ট্রি। ডিসিদের মাঠপর্যায়ের কাজ তদারকি এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি। জাতীয় নির্বাচনে ডিসিরা কীভাবে কাজ করবেন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কাজ করার এখতিয়ার ইলেকশন কমিশনের। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। অপরদিকে রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে প্রশাসনের আমলাদের উপর কাজের চাপ স্বভাবতই বেড়ে যাবে। তাছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। কারণ বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় বর্তমান সংসদ বহাল থাকবে এটা একটা সমস্যা। নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞা ও প্রশাসনকে রাজনীতিকরণের বিষয়টিও একটা সংকট। এসব বাস্তবতায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরেও সহিংসতা কম হয়নি। তাই তারা মনে করছেন নির্বাচন মানে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। নির্বাচন মানে কারচুপি বা একতরফা নির্বাচন নয়। নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে কিছু বাধা আছে- সেগুলো তাদের স্পষ্ট করে বলা উচিত। তাহলে হয়তো সমাধানের একটা উপায় বের হতে পারে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত থাকে নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকার গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীলসমাজ ও সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের সাথে সংলাপ করেছে নির্বাচন কমিশন। নেয়া হয়েছে তাঁদের নানা সুপারিশ। জাতীয় নির্বাচনের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজও শুরু হয়ে গেছে। এরপর রোডম্যাপ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ ও অন্যান্য কাজে হাত দেবে নির্বাচন কমিশন।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১