প্রচ্ছদ

কোটা বাতিলে প্রজ্ঞাপণ জারির দাবিতে বুধবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন

প্রকাশিত হয়েছে : ২:৩৬:১৯,অপরাহ্ন ০৮ মে ২০১৮ | সংবাদটি ৬২ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপণ জারির দাবিতে আগামীকাল বুধবার (০৯মে) দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপণ আকারে প্রকাশের দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে এ ঘোষণা দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার (০৮মে) সকাল ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সকাল ১১ টায় সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে একযোগে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান ও ফারুক হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রজ্ঞাপণ জারি নিয়ে কোনো টাল বাহানা ছাত্র সমাজ মেনে নেবে না। কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিনা উসকানিতে পুলিশ রাতভর কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও ছোড়রা গুলি ছোড়ে এবং লাঠিপেটা করে।

এর প্রতিবাদে ৯ এপ্রিল সারা বাংলার ছাত্র সমাজ ফুঁসে ওঠে। এই অবস্থায় সরকারের পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ১৮ সদস্যের একটি দল সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, ৭ মে’র মধ্যে কোটা পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। অথচ এখনো তার বাস্তব কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তাই কোটা সংস্কারের দাবিতে কাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শেষে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিতে থাকে।

এর আগে, চলতি মাসের ৭ তারিখে কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও জানানো হয়নি। গতকাল ছিল ৭ তারিখ কিন্তু সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কোনো নির্দেশনাও আসেনি।

মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি, কী রেজাল্ট হয় তা আমরা জানাচ্ছি। সে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হোক। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন ঘোষণার পর কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোটার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনাও নেই। তবে শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ‘‘কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য আন্দোলনকারীদের দেওয়া সময়সীমা গতকালই শেষ হয়।’’

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন কোটা নিয়ে কোনো অগ্রগতি আছে কি না? জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং অগ্রগতিও নেই। কোটা বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তখন এ বিষয়ে কমিটি বসবে।শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আশা করি’।

তিনি বলেন, অনেক দিন অফিস-আদালত বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে ছিলেন। কাজেই এ বিষয়ে খুব বেশি এগোয়নি। তাহলে কত দিন লাগবে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কমিটি গঠন হয়নি। কমিটি বসবে তারপর।

এদিকে গত ৯ এপ্রিল সচিবালয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে বৈঠকের পর বলেছিলেন, গত (রোববার) একটা ভায়োলেন্স হয়ে গেছে। ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে কোটার কোনো সম্পর্ক নেই। তার ওপর কেনো হামলা? তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে। কিন্তু যারা ইনোসেন্স তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। যারা আহত হয়েছে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। কার্পণ্য করবো না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি, কী রেজাল্ট হয় তা আমরা জানাচ্ছি। সে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হোক। ওই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক হাসান আল মামুনসহ শিক্ষার্থীদের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলেন।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বলেন, ‘খুব দুঃখ লাগে দেখলাম, হঠাৎ কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন। এ আন্দোলনটা কী? সমস্ত লেখাপড়া বন্ধ করে রাস্তায় বসে থাকা। রাস্তার চলাচল বন্ধ করা। এমনকি হাসপাতালে রোগী যেতে পারছে না। কর্মস্থলে মানুষ যেতে পারছে না। লেখাপড়া বন্ধ। পরীক্ষা বন্ধ। এটা সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে পড়লো।’

তিনি বলেন, ‘যখন চায় না, তাহলে দরকার কী? কোটা পদ্ধতিরই দরকার নাই। যারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা প্রতিবন্ধী, তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবো। যারা এটা (আন্দোলন) করছে, তারা অনেকে আমার নাতির বয়সি। তাদের কীসে মঙ্গল হবে- না হবে, আমরা কি তা কিছুই বুঝি না? তাদের কীসে ভালো হবে, আমরা তা জানি না? সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোটা বাতিলের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

মে ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১