প্রচ্ছদ

রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৪০:৩৩,অপরাহ্ন ০৬ মে ২০১৮ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

জাতিগত নির্মূলের মুখোমুখি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নেতারা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসির দেশগুলো বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। এই সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওআইসি বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে। গতকাল ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলনে তারা এ মন্তব্য করেন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের প্রথমদিন ওআইসির সহকারী মহাসচিব (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী পরাজিত হন। সম্মেলনের শেষদিন আজ ঢাকা ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে ইয়েমেন ইস্যুতে বিতর্ক হয়েছে। সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, ওআইসির মহাসচিব, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সবাই রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মিয়ানমার সরকারের নিন্দা জানান। এএইচ মাহমুদ আলী তার বক্তব্যে বলেন, ওআইসির উচিত হবে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা। একইসঙ্গে মিয়ানমারকে রাজি করানো যাতে করে টেকসইভাবে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় গণহত্যার পর এটিই সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়। আমন্ত্রিত কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি আমাদের সবার সমস্যা। এই সমস্যা এখনো চলছে এবং আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এটি যেন বন্ধ হয়। যারা এ ধরনের মানবাধিকারবিরোধী অপরাধ করেছে তাদের দায়বদ্ধতার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়া সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ওআইসি মহাসচিব, সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের দেওয়া বক্তব্যে ‘রোহিঙ্গা’ বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গাসংকটে পাশে থাকবে ওআইসি : ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ এ আল ওথাইমিন উদ্বোধনী পর্বে বলেন, রোহিঙ্গাসংকট সমাধানে ওআইসির দেশগুলো বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। এই সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওআইসি বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে সকল মুসলিম দেশও এই সংকট সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
সৌদি-ইরান বিতর্ক : ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে কার্যনির্বাহী অধিবেশন শুরু হয়। ক্লোজ ডোর এ অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরবের ভূমিকা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এছাড়া সৌদি আরব বিভিন্ন সময়ে ইরানকে নানা ইস্যুতে অযথাই দোষারোপ করে থাকে। ইরানের প্রতিনিধির বক্তব্য শেষ না হতেই সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরানের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের শান্ত করা হয়।
বাংলাদেশের পরাজয় : এদিকে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা ওআইসির সহকারী মহাসচিব (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী হেরে গেছেন। বাংলাদেশ পেয়েছে ৬ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী কাজাখস্তান ১২ ভোট পেয়ে এ পদে নির্বাচিত হয়েছে। গতকাল এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে এশিয়া গ্রুপের ১৮টি রাষ্ট্র গোপন ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, দুপক্ষ সমানে সমান ক্যাম্পেইন করেছে টানা কয়েক মাস। বাংলাদেশের প্রার্থী কামরুল আহসান ছাড়াও মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ভোটার-রাষ্ট্রগুলোতে গিয়ে এবং ঢাকায় তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছেন। ৫৭ সদস্যবিশিষ্ট এই সংস্থার প্রায় ৬শ প্রতিনিধি এবারের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে ২৭ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ১২ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং ওআইসি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। এবার অসদস্য কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘ইসলামিক ভ্যালুস ফর সাসটেইনেবল পিস, সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট।’ এই সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এর মাধ্যমে আগামী এক বছর ওআইসি কাউন্সিল অব মিনিস্টারস (সিএফএম)-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে। গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে এই প্রথমবারের মতো ওআইসি মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। এর আগে ১৯৮৩ সালে ১৪তম সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিবারের মতো এবারও ফিলিস্তিন ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বড়ো আকারে এখানে আলোচনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একটি রেজ্যুলেশন গ্রহণের বিষয়ে সদস্যরা একমত হয়েছেন। অনুষ্ঠানের এজেন্ডায় সংস্থাটির সংস্কার বিষয়ে জোরালো আলোচনা করার জন্য সবাই একমত হয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এই আলোচনা ভূমিকা রাখবে। অন্যান্য এজেন্ডার মধ্যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, জাতিসংঘ বা অন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে সদস্যদের ভোট প্রদানের বিষয়ে সমন্বয়, নিরস্ত্রীকরণ, ইসলামোফোবিয়া, জাতিসংঘে সংস্কার ও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন, পুলিশের মধ্যে সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। আশা করা হচ্ছে আজ রোববার অনুষ্ঠান শেষে আলোচ্য বিষয়সংক্রান্ত সব রেজ্যুলেশন, ঢাকা ঘোষণাপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তসমূহ আউটকাম ডকুমেন্ট হিসেবে গৃহীত হবে।

Media it

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০