প্রচ্ছদ

কোটা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত হয়েছে : ২:৫১:৪৯,অপরাহ্ন ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ৩০০ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

বেশকিছুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যু। সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লাগাতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা নিয়ে যখন এতকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। এরপর থেকে বিশিষ্টজনরা বিভিন্ন মাধ্যমে কোটা একেবারেই বাতিল নিয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন। তবে গত রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি সংসদ ভবনে কোটা বিষয়ে বৃহৎ পরিসরে সভা করে। সে সময় প্রধানমন্ত্রী বিদেশে অবস্থান করছিলেন। সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় আলোচনা। পরে ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা কোটাপদ্ধতি নিষ্পত্তি বিষয়ে ভিন্ন মত জানিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কিছু সদস্য সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি একেবারে বাতিল না করে সংস্কারের পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে আমরা কোটাপদ্ধতি সহজীকরণের বিষয় আলোচনা করেছি। দেশের প্রতি, ইতিহাসের (মুক্তিযুদ্ধ) প্রতি, আঞ্চলিকতার প্রতি, পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি, দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা কোটা রাখার পক্ষে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৮তম ওই বৈঠকে কেউ কেউ কোটা সম্পূর্ণ বাতিল না করে সংস্কারের পক্ষেও মত দেন। যদি অনেকে সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে কোট করেছেন। এইচএন আশিফুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, খোরশেদ আরা হক এবং জয়া সেন গুপ্তা। ওই বৈঠকে জনপ্রশাসন সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, কোটাপদ্ধতি নিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, মন্ত্রণালয় কমিটি করে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। এবিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভায় অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য খোরশেদ আরা হক আমার সংবাদকে বলেন, ‘না না, আমি কোটাপদ্ধতি সংস্কার চাইনি। তারা তুলছিল। আমি স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে
বলেছি, প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল করেছেন বাতিলই থাকবে। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর বৈঠকে কোটা সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে পরিষ্কার মতামত দিয়েছি কোটা সংস্কার নয়। বাতিল করতে হবে।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এর আগেও যে কথাই বলেছেন সেটাই ঠিক ছিল। এবারও ঠিক থাকবে। ফলে সংস্কারের কোনো কারণ নেই। বৈঠকে উপস্থিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এইচএন আশিকুর রহমান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা তিনিও সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে মিটিংয়ে শেষ পর্যন্ত কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তিনি যে নির্দেশনা দেন তা মেনে কোটাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির ওই মিটিংয়ে অংশ নেওয়া কমিটির আরেক সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি আমার সংবাদকে বলেন, ‘কোটার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে বলবেন সেভাবে করা হবে বলেই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এ সংসদ সদস্য বলেন, বিষয়টা নিয়ে জনপ্রশাসন সচিব এবং মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। তারাই ঠিক করবেন কীভাবে কোটার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায়। তবে যেহেতু প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে বলে দিয়েছেন তাই এ বিষয়টি তিনিই দেখবেন। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোটা সংস্কার নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু পুরো কোটাপদ্ধতিই বাতিল করায় এ ব্যাপারে এখন আর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না মন্ত্রণালয়। এখন প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণার দিকে সবাই তাকিয়ে আছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোটা সংস্কার বা বাতিল নিয়ে কাজ করার কথা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয়টির সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে ফাইলটি ওঠানোর কথা রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিলে কাজ শুরু করবেন তারা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোটা সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বলা হয়, কোটা সংস্কার নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এরপর কোটা সংস্কারকারীদের আন্দোলন অন্যদিকে রূপ নেয়। যার কারণে কমিটি গঠন প্রক্রিয়াও থেমে যায়।
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে গত দুমাস ধরে। গত ৮ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় পুলিশ ও ছাত্রলীগের। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বলেন, কোটা নিয়ে যেহেতু এত কিছু, সেহেতু কোনো কোটাই আর রাখা হবে না। কোটা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করার কথাও ওই দিন বলেন সরকারপ্রধান। পরদিন কয়েকটি দাবি রেখে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এর এক সপ্তাহের মাথায় বুধবার পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলা সাত দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে ‘অতি দ্রুত’ প্রজ্ঞাপন জারিরও দাবি জানান পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়। আর বাকি ৫৫ শতাংশ অগ্রাধিকার কোটায় নিয়োগ হয়।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

জুলাই ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১