প্রচ্ছদ

দুই সিটির নির্বাচনে ইসির সতর্কতামূলক নির্দেশনা

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:০০:১১,অপরাহ্ন ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ৭৪ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রিটার্নিং অফিসারসহ মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি বেশকিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে জাল ভোট, ভোটকেন্দ্র দখল ও নির্বাচনে অনিয়ম রোধ, অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যারা এসব অপরাধে জড়াবে তাদের শাস্তির আওতায় আনা। উভয় সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করে ওই নির্দেশনায় বলা হয়- ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, এবং বিধি মোতাবেক গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। ভোটার সংখ্যা অনুসারে ভোটকেন্দ্রে সমসংখ্যক ব্যালট পেপার (৩ পদের জন্য) সরবরাহ করতে হবে। ১৫ মে সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক প্রেরিত ভোটকেন্দ্রের প্রস্তাব অনুসারে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। জনসাধারণের অবগতির জন্য ১৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হবে।

ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় মালামাল রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রেরণ করা হচ্ছে। পরীক্ষান্তে কোনো মালামালে ঘাটতি থাকলে তা নির্বাচন কশিন সচিবালয় হতে সংগ্রহ করতে হবে। ব্যালট পেপার বা নির্বাচনি মালামাল ট্রেজারিতে অত্যন্ত নিরাপত্তার সাথে সংরক্ষণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যালট পেপারের বিষয়ে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। ভোটগ্রহণের পূর্বে বৈধ কোনো প্রার্থী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করবেন। ভোটগণণা শেষে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনে ভোট গণনার বিবরণীর এক কপি প্রেরণ করবেন। এজন্য কমিশন প্রয়োজনীয়সংখ্যক মুদ্রিত খাম সরবরাহ করবে এবং ভোটগ্রহণের দিন পোস্ট অফিসসমূহ (নির্বাচনি এলাকা) সারারাত খোলা রাখার ব্যবস্থা করবে। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকারসংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে- নির্বাচন কমিশন বিধিমালা ২০১০-এর বিধি ৩০ অনুসারে যেসক ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন তাদের তালিকা সাদা কাগজে প্রণয়ন করে তা প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রদান করবেন। ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার যোগ্য ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ যাতে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে প্রিজাইডিং অফিসারদের নির্দেশ দেবেন। কোনো অবস্থায় অবাঞ্ছিত ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। পরিপত্রে অবৈধ কার্যকলাপ ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তির কথাও তুলে ধরা হয়। বলা হয়- নির্বাচন চলাকালে ভোটাধিকার প্রয়োগ/ভোটদানের অনিয়ম/ভোটগ্রহণকালে অনিয়ম/ভোটদানের গোপনীতা রক্ষা, ভোটদানে অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং ভোটগ্রহণের সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে কার্যকলাপ হতে বিরত থাকাকে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০-এর বিধি ৭০ হতে বিধি ৮৬-তে অপরাধ এবং দণ্ডণীয়।

৬ মাস থেকে সাত বছর দণ্ড হতে পারে যেসব কার্যক্রমে:
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয় কোনো মনোনয়নপত্র, ব্যালট পেপারের ওপর সরকারি সিলমোহর ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত বা নষ্ট করলে; ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটকেন্দ্র হতে কোনো পেপার বের করে নিয়ে অথবা ব্যালট বাক্সের ভেতরে আইন অনুসারে ঢোকাতে পারবেন না। এরূপ ব্যালট পেপার ঢোকালে; ভোটকেন্দ্রের বাইরে কোনো ব্যালট পেপার বা ব্যালট বহি নিজ দখলে রাখলে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যতিত কোনো ব্যক্তিকে ব্যালট পেপার সরবরাহ করলে; নির্বাচনি ব্যালট বাক্স বা পেপার নষ্ট করলে; কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধির জন্য বা নির্বাচন বানচালের জন্য কোনো ভোটকেন্দ্র বা ভোটকক্ষ বলপূর্বক দখল করেন বা দখল করার ব্যাপারে সহায়তা করেন বা পরোক্ষভাবে সমর্থন করেন; ভোটকেন্দ্র হতে কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্টগণ বা পোলিং এজেন্টগণকে বিতরণ করেন এবং ভোট পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের তাদের নির্বাচন কার্য চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন; ভোটকেন্দ্র পরিচালনাকারীদের বিতাড়িত করে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, ভোটসংক্রান্ত জিনিসপত্র এবং দলিলপত্র বলপূর্বক দখল করেন এবং তার ইচ্ছানুযায়ী তা অসৎভাবে ব্যবহার করেন; নিজ সমর্থকদের ভোট প্রদানে সহায়তা করে যদি অন্য সকলকে ভোট প্রদানে বিরত রাখেন তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তির ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। উল্লিখিত বিধি ৭৭-এর উপবিধি (২) অনুসারে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার অথবা নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপ-বিধি(১)-এর দফা (ক) হতে (ট) বর্ণিত কার্যকলাপের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি অন্যূন ছয় মাস ও অনধিক সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এছাড়া বিধিমালার ৭৮ বিধি অনুসারে যদি কোনো রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার অথবা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত পোলিং অফিসার, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট বা ভোট গণনায় উপস্থিত কোনো ব্যক্তি যদি ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করতে বা রক্ষায় সাহায্য করতে ব্যর্থ হলে, কোনো আইনানুগ উদ্দেশ্য ব্যতিত, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পূর্বে সরকারি সিলমোহর সম্পর্কে কোনো তথ্য সরবরাহ করলে, কোনো বিশেষ ব্যালট পেপার দ্বারা কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হয়েছে তদ্সম্পর্কে ভোট গণনাতে প্রাপ্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেন তাহলে তিনি বা তারা অন্যূন ছয় মাস থেকে অনধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত দ-প্রাপ্ত হবেন।

সরকারি কর্মকর্তারা যদি কোনো প্রার্থীর পক্ষ অবলম্বন করেন তাহলে আইনানুগ কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে পরিপত্রে। বিধি ৭৯ অনুসারে কোনো রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার অথবা নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য যদি নির্বাচন পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনা অথবা কোনো ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থেকে কোনো ব্যক্তিকে ভোটদানে প্ররোচিত বা নিবৃত করেন এবং কাউকে ভোটদানে কোনো পন্থায় প্রভাবিত করেন বা নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার জন্য পরিকল্পিত উপায়ে অন্য কোনো কাজ করেন তাহলে তিনি বা তারা ছয় মাস থেকে অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এবং যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া সরকারি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন তাহলে ওই কর্মকর্তা বা ব্যক্তি ৬ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদ-ে দ-িত হবেন। আর প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার জন্য পরিকল্পিত উপায়ে তার সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করলে তিনি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্দেশনা প্রদান করবেন বলে ইসির পরিপত্রে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আসন্ন ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীকে এবং বিএনপি সমর্থিত হাসান উদ্দিন সরকার ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক নৌকা প্রতীকে এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও অন্য দল ও স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচন করছেন কয়েকজন।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

মে ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১