প্রচ্ছদ

ইভিএম কিনতে তোড়জোড়

প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৩৩:৪১,অপরাহ্ন ২১ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ১৪৭ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে নতুন ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। তবে এ বিতর্কের মধ্যেই ইভিএম কিনতে তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিকভাবে আড়াই হাজারের বেশি ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির কাছে এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি দরপত্র/প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের বিষয়ে নজরদারি করতে কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন।
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপে বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই ইভিএমের বিপক্ষে মতামত দেন। তারা সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে মতামত দিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের এসব মতামতের গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। প্রাথমিকভাবে দুই হাজার ৫৩৫ সেট ইভিএম কেনার পর পরবর্তীতে আরো ৫ থেকে ১০ হাজার ইভিএম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
ইভিএম সংগ্রহের জন্য গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ মেশিন টুল্স ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি লিখেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘….বাংলাদেশ মেশিন টুল্স ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) হতে গত ২০১১ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সাতশ সেট ইভিএম সংগ্রহ করা হয়। উক্ত ইভিএমসমূহের মানোন্নয়ন করে বিএমটিএফ হতে ইভিএম সরবরাহ করা হয়। এই ইভিএমসমূহ গত ২১ ডিসেম্বর, ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অত্যন্ত সফলতার সাথে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়।’’
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘সরবরাহকৃত ইভিএম-এর মান আরো উন্নয়নের জন্য আপগ্রেডকৃত একটি ইভিএম বিএমটিএফ কর্তৃক সরবরাহ করা হয়, যা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচন, ভোটার এডুকেশন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহার করার জন্য সর্বশেষ আপগ্রেডকৃত দুই হাজার ৫৩৫টি ইভিএম প্রাথমিক পর্যায়ে সরবরাহের লক্ষ্যে বিএমটিএফ কর্তৃক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণকরতঃ দরপ্রস্তাব প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হল।’
পরের দিন তথা ১৭ এপ্রিল ইসি সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদকে সভাপতি করে ইভিএম সংগ্রহের লক্ষ্যে ৭ সদস্যের একটি দরপত্র/প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে নতুন ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনÑ ইভিএমে সফল হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে যন্ত্রটি ব্যবহার করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে সুরক্ষিত করে তৈরি হচ্ছে নতুন ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন। এদিকে আগের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, পুরনো ইভিএম মেশিনগুলো ত্রুটিযুক্ত ছিল। প্রত্যেকটি নির্বাচনে ইসির জন্য ঝুঁকি থাকত ৬ ধরনের। এগুলোর মধ্যে ভোটারের পরিচয়পত্র ও আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষার ব্যবস্থা ও প্রদত্ত-গৃহীত ভোটের কাগজি রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, কন্ট্রোল ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভোটের ফল প্রকাশ না করতে পারা এবং মেশিনের ব্যাটারি সংশ্লিষ্ট সমস্যা। তাই পুরনোকে বিদায় জানিয়ে সুরক্ষিত ইভিএমকে স্বাগত জানাচ্ছে ইসি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত ১/১১-এর সময়ের এটিএম শামসুল হুদার কমিশন স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএমের প্রচলন ঘটান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)’র সহায়তায় ২০১০ সালে প্রথমে ৫৩০টি ইভিএম মেশিন কেনা হয়। নির্বাচনে ব্যবহার করতে গিয়ে দেশের প্রধান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুত করা এই ইভিএমে নানা রকম যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে ২০১১ সালে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) প্রস্তুতি করা ৭শ ইভিএম কিনলেও এগুলো পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ছিল না।
হুদা কমিশন ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ২১ নং ওর্য়াডে বুয়েটের ইভিএম ব্যবহার করে। পরে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি, টাঙ্গাইল পৌরসভা ও নরসিংদী পৌরসভায় ইভিএম ব্যবহার হয়।
এরপর ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রকিব উদ্দিন কমিশন দায়িত্ব নেয়। তাদের মেয়াদে রাজশাহী সিটিতে ২০১৩ সালে ইভিএম ব্যবহার করে পুরো বিতর্কের মধ্যে পড়ে যায়। তবে, নতুন ইভিএমের প্রচলন চালু রেখে যায়। আর গত ফেব্রুয়ারিতে খান মো. নুরুল হুদার কমিশন দায়িত্বে এসে কমিটি করে পুরনো ইভিএমকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। নতুন প্রবর্তিত ইভিএমে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ১৪১ নং কেন্দ্রের ৬টি কক্ষে ব্যবহার করে। কিন্তু পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত হয়নি। পুরনো ইভিএমের মতো ত্রুটি নিয়ে নির্বাচন শেষ করে। পরবর্তীতে সুরক্ষিত ইভিএম তৈরিতে যত ধরনের সম্ভাব্য উপায় রয়েছে তা খতিয়ে দেখে মাঠে নেমে পড়ে ইভিএমের কারিগরি টিম।
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, আমার তো ধারণা ছিল ইভিএম মৃত। আমি মনে করি আমাদের নির্বাচন নিয়ে অনেক রকম বিতর্ক আছে। ইভিএম নিয়েও বিতর্ক আছে। নতুন করে ইভিএম বিতর্ক যুক্ত করা সমীচীন হবে না। তিনি বলেন, ইভিএম ব্যবহার করতে হলে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই ব্যবহার করতে হবে। আশা করি নির্বাচন কমিশন ঐকমত্য সৃষ্টি না করে এটা ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।
সম্প্রতি ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আমরা নতুন ইভিএম তৈরি করছি। আগামী ৫ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হবে। সফল হলে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।
দুই সিটির প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয় নজরদারিতে কমিটি
এদিকে আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের বিষয়ে নজরদারি করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিধি মেনে ব্যয় করছেন কিনা- সে বিষয়ে নজরদারি করার জন্য একটি কমিটিও গঠন করেছে সংস্থাটি। এই কমিটি দুই দিন পর পর ইসিতে প্রতিবেদন পাঠাবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে ওয়ার্ডভিত্তিক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি ও বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রকের প্রতিনিধি এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন। আর একজন থানা নির্বাচন কর্মকর্তা থাকবেন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে। ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার উপ-সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, প্রার্থীদের ব্যয়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীরা সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব বিবরণীও জমা দিয়েছেন। যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা এবং সীমা পার করছে কিনা তা দেখতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১