প্রচ্ছদ

প্রধানমন্ত্রী হয়েও বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ করি, আপনারাও করুন

প্রকাশিত হয়েছে : ৪:৪৫:১৯,অপরাহ্ন ১২ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ২২১ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম মূল্যে বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। এতে দেশের উপকারের পাশাপাশি উপকৃত হবেন যারা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন তারাও। কারণ, তাদের বিল কম আসবে। আমি নিজেও কক্ষ থেকে বের হলে নিজের হাতে সুইচ বন্ধ করি। নিজের কাজ নিজে করতে লজ্জার কিছু নেই।

বৃহস্পতিবার (১২এপ্রিল) গণভবনে বসে ১২ জেলার ১৫টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামাড়ায় ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন তিনি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের উদ্যোগ এবং সাফল্য বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ আমরা বিভিন্ন এলাকায় দিতে পাচ্ছি, এখন উদ্বোধন করছি। আমরা চাই জনগণ এই বিদ্যুৎটা যেন জনগণ যথাযথভাবে ব্যবহার করুক।’ ‘অনুরোধ করব জনগণকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে অনেক টাকা খরচ হয়। যে টাকা খরচ হয়, আমরা কিন্তু ওই টাকা গ্রহণ করি না, এখানে ভর্তুকি দেই। কম টাকাই নেয়া হয়।’

‘এক ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যে খরচ, তার থেকে অনেক কম টাকাই কিন্তু আপনাদের কাছ থেকে নেয়া হয়।’ ‘সে ক্ষেত্রে আমি প্রত্যেককে আমি বলব, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। কীভাবে আপনি বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করতে পারেন, কত স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আপনার চাহিদা পূরণ করতে পারেন, সে বিষয়ে আপনাকে যত্নবান হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল, এটা করলে কিন্তু চলবে না। প্রত্যেককে এ ব্যাপারে যথাযথভাবে আন্তরিক থাকতে হবে।’ ‘ঘর থেকে বের হলে নিজ হাতে সুইটটা বন্ধ করা, স্কুল বা কলেজ বা অফিস আদালতে যারা আপনারা সরকারি কর্মচারী আছেন বা অফিসার আছেন নিজের হাতে সুইচটা বন্ধ করলে ফ্যানের, আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। বরং আপনি আপনার দেশের সম্পদটা রক্ষা করলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েও কিন্তু আমি যখন ঘর থেকে বের হই বা বাথরুম থেকে বের হয়ে নিজের হাতে কিন্তু সুইট বন্ধ করি। তাতে আমার কোনো সম্মান যায় না।’ ‘নিজের কাজ নিজে করাতে কোনো লজ্জা থাকে না। যে সুবিধাটা আপনি পাবেন, সেটা হলো নিজে যদি সাশ্রয়ী হোন, তাহলে বিলটা কম হবে। বিদ্যুৎ বিল আপনাকে কম দিতে হবে।’

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বেশ কিছু উপায়ও বাতলে দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আপনারা যে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন চালান, লাল বাতিটা যদি জ্বলে থাকে তাহলে কিন্তু বিদ্যুতের বিল উঠে। যদি সুইটচা অফ করে দেই, আমার কিন্তু বিল উঠবে না।’ ‘মোবাইল সেট চার্জ করে তারটা যদি সেভাবেই ফেলে রেখে দেই ওখানেও কিন্তু বিদ্যুতের বিল উঠবে। কিন্তু আমি যদি সুইট অফ করে দেই, তাহলে বিল উঠবে না।’

‘এই বিষয়গুলো কিন্তু বিশেষভাবে…যেমন স্কুল কলেজ, সেখানে ফ্যান চলতেই থাকল, চলতেই থাকল সেটা যেন না হয়। সেখানে ছাত্র ছাত্রী আছে, সেখানে কিন্তু তারা নিজেরাই বা শিক্ষকরা… ছাত্র ছাত্রীদেরকে শেখাতে হবে, বিদ্যুৎটা নিজেদেরকেই সাশ্রয় করতে হবে।’ ‘বিদ্যুৎ, পানি, এগুলো নিজেদেরই সব সময় সাশ্রয়ী হতে হবে। অপচয় যেন না হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যেসব উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ উদ্বোধন করেন সেগুলো হলো: রংপুরের পীরগঞ্জ, কুষ্টিয়ার খোকসা, ঢাকার ধামরাই, কিশোরগঞ্জের নিকলী, চট্টগ্রামের রাউজান, সাতক্ষীরার দেবহাটা, খুলনার রূপসা, ফুলতলা এবং দীঘলিয়া, সিলেটের বিয়ানিবাজার, নাটোরের বাগাতিপাড়া, পাবনার বেড়ায়, চুয়াডাঙ্গা সদর এবং দিনাজপুর সদর ও বিরামপুর উপজেলায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি জেলা জেলায় যাতে বিদ্যুৎ পৌঁছায়, প্রতিটি উপজেলায় যাতে বিদ্যুৎ পৌঁছায়, প্রতিটি ইউনিয়নে যাতে বিদ্যুৎ পৌঁছায়, সেই ব্যবস্থাটা আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। তার ফলাফল এখন দেশের জনগণ পাচ্ছে।’ ‘আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের যেন আরও সক্ষমতা হয়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি।’

২০২১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হতে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হবো। চাহিদা বাড়তে থাকবে, জীবনযাত্রার মান যত বাড়বে, চাহিদাও তত বাড়তে থাকবে। একশটা শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি, সেখানে মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সেখানেও বিদ্যুতের চাহিদা তত বাড়বে। যত বেশি উন্নয়ন হবে তত বেশি বাড়বে।’ ‘এসব উদ্যোগের ফলে দেশের মানুষ স্বাবলম্বী হবে, দেশের মানুষ কাজ পাবে, এর মধ্য দিয়ে তাদের আর্থ সামাজিক উন্নতি হবে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

‘একটা মানুষও দরিদ্র থাকবে না, একটা মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, একটা মানুষও গৃহকারা থাকবে না। প্রতিটি মানুষই চিকিৎসা পাবে, আমাদের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে, দেশ উন্নত হবে, আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’

বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বিদ্যুতের উৎপাদন ১৬০০ মেগাওয়াট থেকে ৪৩০০ মেগাওয়াট করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সেটি তিনি পেয়েছেন ৩২০০ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

‘আমার কাছে এটা ভাবতে অবাক লাগে যে মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যায়, কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোটে ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ায়নি। তবে তারা দিয়েছিল, বিদ্যুৎ নাই, কিন্তু রাস্তার পাশে খাম্বা পড়েছিল।’ ‘আমরা জানতে পারলাম, তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান খাম্বার ব্যবসা শুরু করেছিল। তাই দেশে খাম্বা দিয়েছিল, বিদ্যুৎ দেয়নি।’

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১