প্রচ্ছদ

আন্দোলন চলবে, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসবর্জনের ঘোষণা

প্রকাশিত হয়েছে : ১:৫০:০৫,অপরাহ্ন ০৯ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ২৩৫ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না আসা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে।

সোমবার (০৯এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা বাংলা‌দেশ সাধারণ অধিকার সংরক্ষণ প‌রিষ‌দের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

রোববার এই দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করার ঘটনায় তুলকালামের পর ঢাকা থেকে ২৪ জন এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৬ জনকে আটকের অভিযোগ করে তাদের মুক্তিও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। দুপুরের মধ্যে তাদের মু‌‌ক্তি না দিলে বিকাল তিনটা থেকে সারাদেশে বিক্ষোভের ডাকও দেয়া হয়েছে।

রোবাবর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পু‌লিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে মোট ২১৭ জন আহত হয়েছে বলেও জানানো হয় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে। এদের ম‌ধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬২ জনের, ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয় হাসপাতালে ১৭ জনের এবং বি‌ভিন্ন হলে ৩৮ জনের চি‌কিৎসা চলছে বলে তথ্য তাদের।

রোববার গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামানের বাসভবনে আন্দোলনকারীরা হামলা করলেও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আন্দোলনকারীদের নেতা।

নুরুল ইসলামের দাবি, ‘ভি‌সির বা‌ড়িতে হামলা আন্দোলনকারীদের কেউ করে‌নি।’গতরাতে উপাচার্যের বাসভবনে ঢুকে দুটি গাড়িতে আগুন দেয়া ছাড়াও বাসার নিচতলার বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে এখন তাদের পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্র খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে।
‘যারা শুরু থেকে থেকেই এই আন্দোলন‌কে বিত‌র্কিত করতে চেয়েছে তারা এই হামলা চালিয়েছে।’ উপাচার্যের বাসার সি‌সিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করার পরামর্শও দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

উল্লেখ্য, কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে সারাদেশে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবি- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

কোটাবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স করে এক বছর ধরে চাকরির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছি। কোনোভাবেই হচ্ছে না। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেসময়কার বাস্তবতা বিবেচনায় ৫৬ শতাংশ কোটা রেখেছিলেন। তবে এখন আর এতো কোটার প্রয়োজন নেই। সরকার এটাকে বহাল রেখে মেধাবীদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করছে।

আমাদের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেয়া হলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৪ মার্চ ৫ দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের শিকার হন তিন আন্দোলনকারী। এরপর আরও বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১