প্রচ্ছদ

সৌদি যুবরাজ চান ক্ষমতা ইসরায়েল চায় স্বীকৃতি

প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৫৫:০৮,অপরাহ্ন ০৫ এপ্রিল ২০১৮ / সংবাদটি পড়েছেন ১৬৮ জন

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের রাজা হওয়ার জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অন্যদিকে ইসরায়েল তার মাধ্যমে সৌদি আরবের কাছ থেকে বৈধ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় করতে চাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে অন্য মুসলিম দেশগুলোও দখলদার ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটিকে স্বীকৃতি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সাময়িকী দি আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের বিষয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তার মনোভাব প্রকাশের পর এমনটি ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাক্ষাৎকারে যুবরাজ বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে এবং আমরা যদি ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও শান্তি স্থাপন করতে পারি তাহলে মিসর, জর্দানসহ পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত আরব দেশগুলো ব্যাপক লাভবান হবে।
মোহাম্মদ বিন সালমান এমন একসময় এ ঘোষণা দিলেন, যখন ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি দখলদারী থেকে নিজেদের হারানো ঘরবাড়ি উদ্ধারে দুই সপ্তাহের ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি পালন করছেন। গত শুক্রবার থেকে গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এরই মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং এক হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। মুসলিমবিশ্বসহ পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলোও এই হত্যাকা-ের নিন্দা জানাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেই ইসরায়েলের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গত ডিসেম্বরের পর থেকে তিনি ইসরায়েলের পক্ষে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিসেম্বরে দখলীকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। পাশাপাশি আগামী মে মাসে মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে সেখানে স্থানান্তরের ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার বিরুদ্ধে পুরো মুসলিমবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও সুন্নি মুসলিমবিশ্বে নেতৃত্বের দাবিদার সৌদি আরব কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। বরং রিয়াদ ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতি সমর্থন দেয়। এ কারণে ট্রাম্পের ওই ঘোষণার নিন্দা জানাতে তুরস্কের ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সৌদি আরব যোগ দেয়নি। সৌদি চাপে জর্দানও ইস্তানবুল বৈঠক বর্জন করে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া এবং নিজেকে নেতৃত্বের যোগ্য প্রমাণ করার জন্য ইহুদিবাদীদের সমর্থন লাভের চেষ্টা করছেন।
তিনি সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরকালে ইহুদিবাদী লবিয়িং গ্রুপের বেশকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইসরায়েলের হাত যখন ফিলিস্তিনিদের রক্তে রঞ্জিত, ঠিক তখন সৌদি যুবরাজ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে দখলদার ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেন। সৌদি যুবরাজ সালমান আসলে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা বলছেন যুবরাজ মোহাম্মদ তাই বাস্তবায়ন করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রাম জোরদার হওয়ায় নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ কারণে তারা ইরান, হাশত আশ্ শাআবি, হামাস, হিজবুল্লাহ, আনসারুল্লাহর মতো প্রতিরোধ সংগ্রামের বিরোধী হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবকে দিয়ে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে অন্য দেশও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে আসে। মোহাম্মদ বিন সালমান এখনও সৌদি আরবের রাজা না হলেও তিনিই মূলত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন তারই হাতে। রাজার পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তিনিই যে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি তা প্রমাণের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তী রাজা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক সংস্কারের পদক্ষেপ নিয়েছেন। সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফুয়াদ ইব্রাহিম মনে করেন, সৌদি আরবের উগ্র গোষ্ঠীগুলো যাতে রাজার আসন গ্রহণ করতে না পারে, সে জন্য তার আগেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আমেরিকার আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তিনি নিজেকে সৌদি আরবের প্রকৃত শাসক ও সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। সৌদি যুবরাজ পররাষ্ট্রনীতিতেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেÑ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি ফিলিস্তিনিদের আশা-আকাক্সক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১