প্রচ্ছদ

শিল্পের বিকাশ হলেই দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:২৪:৩২,অপরাহ্ন ০৪ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ১৪৮ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিল্পের বিকাশ হলেই দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে। বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার শিল্পের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি বছর শুধুমাত্র এসএমই খাতেই কমপক্ষে ১০ লাখ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিভিন্ন দেশের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্তকরণের পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন সৃষ্টি খুব জরুরি।

বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৬ষ্ঠ এসএমই মেলা- ২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর গলার অবস্থা খারাপের কারণে তিনি সরাসরি বক্তব্য দিতে পারেননি। তার লিখিত বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী মাইকে দাঁড়িয়ে শুধু বলেন, আমার গলার অবস্থা ভালো নয়। এজন্য বক্তব্য দিতে পারছি না দুঃখিত।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণারয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিবুল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

পাঁচদিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় ২৯৬টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৬০ ভাগের বেশি নারীদের প্রতিষ্ঠান। এসএমই শিল্পে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পাঁচজনকে ট্রফি, সার্টিফিকেট ও চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্পই ক্ষুদ্র ও মাঝারি। তাই জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এসএমই খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। দেশে প্রায় ১০ লাখ এসএমই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা ‘জাতীয় শিল্পনীতি- ২০১৬’তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে শিল্প উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণ্য করেছি। আমাদের গৃহীত কর্মসূচির ফলে দেশব্যাপী টেকসই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের দ্রুত প্রসার ঘটছে। উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির কারণে প্রতিনিয়ত নারীরা ব্যবসায়ে মনোনিবেশ করছে। ফলে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির অনেক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।

‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে সরকার গঠন করে এখন দেশকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। বিশ্বে এখন বাংলাদেশ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলারে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে ১৯৯টি দেশে ৭৫০টি পণ্য রফতানি করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ৪১ বিলিয়ন ডলার রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশি পণ্যের রফতানির হার বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে’ উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে দেশের রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্পায়নের পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক কাঁচামালের সহজলভ্যতা বিবেচনা করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করছি। চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার ও উৎপাদিত পণ্যের প্রসার-প্রচার ও বাজারজাতকরণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

‘সম্প্রতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বুলগেরিয়ার এসএমই প্রমোশন এজেন্সি এবং তুরস্কের এসএমই ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের মধ্যে দু’টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে’ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এর ফলে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দু’টি দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার হবে। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে জেলায় ও উপজেলায় এসএমই পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং এ পরামর্শ কেন্দ্রগুলো এসএমই শিল্প প্রসারে ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

আগষ্ট ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১