প্রচ্ছদ

রোমাঞ্চকর জয়

প্রকাশিত হয়েছে : ১২:০৭:৫৬,অপরাহ্ন ১৭ মার্চ ২০১৮ | সংবাদটি ১৯৯ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

রোমাঞ্চকর জয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। শুক্রবার সিরিজের অঘোষিত ফাইনাল ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে দুই উইকেটে হারাল টাইগাররা। লর্ডসের ব্যালকনিতে উদোম শরীরে জার্সি উড়িয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। এবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে জয়ের উত্তেজনায় খালি গায়ে ছুটলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। গোটা বাংলাদেশ নাগিন নাচ শুরু করল। ততক্ষণে ম্যাচ শেষের আগের বলে ছক্কা মেরে মাহমুদউল্লাহ বেঙালুরুর ঋণ শোধ করেছেন। প্রায় হারতে বসা ম্যাচটি জিতিয়ে বাংলাদেশকে তুলে দিয়েছেন নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে। তাও যাদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের টুর্নামেন্ট সেই শ্রীলঙ্কা বিদায় করে দিয়ে। তার আগে একটি বলকে কেন্দ্র করে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ছিল তুমুল উত্তেজনা। সাকিব তো তার দলকে মাঠ থেকে চলে আসতেই বললেন। চলে আসলে কি আর টি-টুয়েন্টির ইতিহাসে বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সেরা এই জয়ের দেখা মিলত! টাইগারদের জয় ২ উইকেটের। ১ বল হাতে রেখে।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন তামিম ইকবাল। ২৮ রান করেন মুশফিকুর রহিম। ১৮ বল খেলে ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আকিলা ধনঞ্জয়া ২টি, আমিলা আপোনসো ১টি, জীভন মেন্ডিস ১টি, দানুশকা গুনাথিলাকা ১টি ও ইসুরু উদানা ১টি করে উইকেট নেন।

ইনিংসের শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। ১৯তম ওভারে ১১ রান নেন নেয় টাইগাররা। ২০তম ওভারের প্রথম বলটি ডট হয়। দ্বিতীয় বলে রান আউট হন মোস্তাফিজুর রহমান। তৃতীয় বলে চার মারেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। চতুর্থ বল থেকে দুই রান নেন রিয়াদ। পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১১ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে থিসারা পেরেরার হাতে ক্যাচ হন লিটন দাস। তিন বল খেলে শূন্য রান করেন তিনি।

লিটন দাসের পর সাজঘরে ফিরে যান সাব্বির রহমান। দলীয় ৩৩ রানে আকিলা ধনঞ্জয়ার বলে স্ট্যাম্পিং হন তিনি। আট বল খেলে ১৩ রান করেন তিনি। এরপর ৬৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম।

দলীয় ৯৭ রানে আমিলা আপোনসোর বলে পেরেরার হাতে ক্যাচ হন মুশফিকুর রহিম। ২৫ বল খেলে ২৮ রান করেন তিনি। ইনিংসের ১৪তম ওভারে দানুশকা গুনাথিলাকার বলে স্ট্যাম্পিং হন তামিম ইকবাল। ৪২ বল খেলে ৫০ রান করেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি তার পঞ্চম অর্ধশত। দলীয় ১০৯ রানে জীভন মেন্ডিসের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন সৌম্য সরকার। ১১ বল খেলে দশ রান করেন তিনি।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে ইসুরু উদানার বলে আকিলা ধনঞ্জয়ার হাতে ক্যাচ হন সাকিব আল হাসান। নয় বল খেলে সাত রান করেন তিনি। ১৯তম ওভারের শেষ বলে রান আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০তম ওভারে রান আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান সংগ্রহ করেছে শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের প্রথম দশ ওভার নিয়ন্ত্রণে ছিল বাংলাদেশের। দশ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান। কিন্তু পরবর্তীতে কুসল পেরেরা ও থিসারা পেরেরার ব্যাটিং তাণ্ডবে ভালো সংগ্রহ দাঁড় করে শ্রীলঙ্কা।

ম্যাচটিতে ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নেমে কুসল পেরেরা ৪০ বল খেলে করেছেন ৬১ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি তার দশম অর্ধশত। অন্যদিকে, ৩৭ বল খেলে ৫৮ রান করেছেন অধিনায়ক থিসারা পেরেরা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি তার প্রথম অর্ধশত। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ চার ওভার বল করে ১৬ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন। সাকিব আল হাসান দুই ওভার বল করে নয় রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট। এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান ২টি, সৌম্য সরকার ১টি ও রুবেল হোসেন ১টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ১৫৯/৭ (২০ ওভার)
(দানুশকা গুনাথিলাকা ৪, কুসল মেন্ডিস ১১, কুসল পেরেরা ৬১, উপুল থারাঙ্গা ৫, দাসুন শানাকা ০, জীভন মেন্ডিস ৩, থিসারা পেরেরা ৫৮, ইসুরু উদানা ৭*, আকিলা ধনঞ্জয়া ১*; সাকিব আল হাসান ১/৯, রুবেল হোসেন ১/৪১, মোস্তাফিজুর রহমান ২/৩৯, মেহেদী হাসান মিরাজ ১/১৬, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/২৯, সৌম্য সরকার ১/২১)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৬০/৮ (২০ ওভার)
(তামিম ইকবাল ৫০, লিটন দাস ০, সাব্বির রহমান ১৩, মুশফিকুর রহিম ২৮, সৌম্য সরকার ১০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৩*, সাকিব আল হাসান ৭, মেহেদী হাসান মিরাজ ০, মোস্তাফিজুর রহমান ০, রুবেল হোসেন ০*; নুয়ান প্রদীপ ০/১০, আকিলা ধনঞ্জয়া ২/৩৭, আমিলা আপোনসো ১/১৯, থিসারা পেরেরা ০/২০, দানুশকা গুনাথিলাকা ১/২৪, জীভন মেন্ডিস ১/২৪, ইসুরু উদানা ১/২৬)।

ফলাফল: দুই উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

জুলাই ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১