প্রচ্ছদ

মডেল স্বপ্নাকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসী পাপ্পু

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:১০:৪৪,অপরাহ্ন ০৪ জানুয়ারি ২০১৮ | সংবাদটি ৬২৬ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

স্বামীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে রাশিদা বেগম ওরফে স্বপ্না (২৫) এক মডেলকে ছিনিয়ে নিয়ে বিয়ের তিন বছর পর বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায়। অভিযোগে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানার হাসেমখান রোডের মৃত আব্দুর রশিদের সুন্দরী মেয়ে স্বপ্নাকে ১২ বছর বয়সে বরিশাল এলাকার নজরুলের সঙ্গে বিয়ে দেন। এরপর তার সংসারে হিরা (১১) ও মানিক (১২) নামে দুটি ছেলে রয়েছে। তার ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে কামরাঙ্গীরচর থানার ঝাউচর এলাকায় বসবাস করতেন। এরপর জেবা নামের এক বান্ধবীর মাধ্যমে তিনি মডেলিংয়ের কাজ শুরু করে। এতে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। এরমধ্যে হাজারীবাগ এলাকার সন্ত্রাসী পাপ্পুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আর পরিচয়ে সূত্রে ঝাউচরে তাদের বাসায় যাতায়াত শুরু করে। গত তিন বছর আগে পাপ্পু ঝাউচরে রশিদা বেগমের বাসায় গিয়ে তার স্বামী নজরুলের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে রাশিদার মা মাসুমা বেগমকে ঢাকতে বাধ্য করেন। এরপর মাসুমা বেগম তাদের বাসায় গিয়ে দেখতে পান, তার মেয়ের স্বামী নজরুলের মাথায় পিস্তুল ধরে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে ছেড়ে দিতে বলে। এরপর নজরুল তার দুই সন্তান ও তার জীবনভিক্ষা চেয়ে সন্ত্রাসী পাপ্পুর হাত থেকে রক্ষা পান। এরপর স্বপ্নাকে তার সঙ্গে নিয়ে যায়। গত তিন বছর সে স্বপ্নাকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া থাকেন। সর্বশেষ রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় ভাড়া থাকে। গত ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার পাপ্পু তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কৌশলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে বিষ খাওয়ার কথা বলে ভর্তি করে। এরপর গত ২১ ডিসেম্বর সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর স্বপ্নার লাশ হাসপাতালে রেখেই তার স্বামী পাপ্পু পালিয়ে যায়। আর ২২ ডিসেম্বর তার পোস্টমর্টেম শেষে তার মা মাসুমা বেগম লাশটি নিয়ে দাফন করেন। এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় ২৯/১৭ নম্বর অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। স্বপ্নার মা মাসুমা বেগম বলেন, আমার মেয়র সংসার খুবই ভালোই চলতে ছিল। একদিন আমার মেয়ের জামাইকে ফোন আমাকে বাসায় যেতে বলেন। এরপর কামরাঙ্গীরচর থানার ঝাউচরে তার বাসায় গিয়ে দেখতে পাই সন্ত্রাসী পাপ্পু আমার মেয়ের জামাইয়ের মাথায় পিস্তুল ধরে আছে। আর তখন মেয়ের জামাই নজরুল বলেন, আমি আমার দুই ছেলে জীবনভিক্ষা চাই। এরপর জোর করে অস্ত্রের মুখে আমার মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় পাপ্পু। এরপর আমার মেয়ের কাছ থেকে সবসময় টাকা চাইতো সে। আর মারধর করা হতো। একবার সে কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকার জেবা নামের এক মেয়ের বাড়িতে গিয়ে পালিয়ে ছিল স্বপ্না। এরপর সেখান থেকেও তাকে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নিয়ে আসে। তারপরই তাকে পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়ের মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সন্ত্রাসী পাপ্পু হাজারীবাগ এলাকার বিভিন্ন রড, সিমেন্টের দোকান থেকে জোরপূর্বক মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া, তার দলবল নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অস্ত্রের মুখে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে। প্রতিনিয়তই সে হাজারীবাগ এলাকায় আসা-যাওয়া করছে। সে সাভারের হেমায়েতপুর কাজল মেম্বারের বাড়ির পাশে বাড়ি নির্মাণ করেছে। আমার মেয়ে রাশিদা বেগম স্বপ্নাকে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেওয়ার আগে আরও দুইটি বিয়ে করেছে। মাসুমা বেগম মোহাম্মদপুর থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় তার এক ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। তারা লালমনিরহাট এলাকার ওয়ারলেস কোলোনিতে থাকতেন। তিনি তার মেয়ের খুনী সন্ত্রাসী পাপ্পুকে গ্রেপ্তারপূর্বক শাস্তি দাবি করেছেন। এব্যাপারে হাজারীবাগ থানার সহকারি পরিদর্শক (এসআই) কমল জানান, নিহতের লাশের পোস্টমর্টেম করানো হয়েছে। ওই পোস্ট মোর্টেমের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১