প্রচ্ছদ

এনামুলের মৃতদেহ দেশে: আজ বাদ জোহর জানাজা

www.sylhetnewsworld.com
  1.  ইলিয়াস আহমদ,গ্রিস থেকে :
    গত ৭ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার রাজাপুর নিবাসী, আহমদ জায়গীরদারের দ্বিতীয় ছেলে এনামুল এহসান জায়গীরদার ফয়ছল (বোয়ালজুড় বাজারের সাবেক ব্যবসায়ী)তুরস্ক থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ইন্তেকাল করেছেন শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
    ফয়সালের সাথে থাকা নিকট আত্মীয় ফয়েজ বলেন তারা তুরস্ক বর্ডার অতিক্রম করে গ্রীস বর্ডারে প্রবেশ করলে বরফের মধ্যে ফয়ছল অজ্ঞান হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাহার জ্ঞান ফিরে আসে এবং খাবার চায় তার পরে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।তারা দালালের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এনামুলের মৃতদেহের বেশ কয়েকটি ছবি তুলেন। দালাল তাদেরকে হুমকি-ধামকি দিয়ে লাশটি ফেলে দিয়ে তাদেরকে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে আসে।
    ইউরো বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তাইজুল ইসলাম ফয়েজ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এর কাউন্সিলর ড. সৈয়দা ফারহানা নূর চৌধুরীর সাথে বেশ কয়বার মতবিনিময় করেন । দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত প্রবাসবন্ধু মো.জসিম উদ্দিন এনডিসি গ্রীস প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে রীতিমত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছিলেন । তারই ধারাবাহিকতায় গ্রীস প্রশাসন সর্বাত্মক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলেকজান্ডার পলি বর্ডার এরিয়া থেকে হেলিকপ্টারযোগে এনামুলের মৃতদেহ উদ্ধার করে আলেকজান্ডার পলি নামক হসপিটালে হস্তান্তর করে।
    জালালাবাদ এসোসিয়েশন গ্রীস, ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দএনামুলের পরিবারের সাথে ও লন্ডনে তাহার নিকট আত্মীয় আব্দুস সামাদ জায়গীরদার, কবির আহমদ জায়গীরদার এর সাথে যোগাযোগ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীওপ্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মো.জসিম উদ্দিন এনডিসি সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নেতৃবৃন্দ । মান্যবর রাষ্ট্রদূত বলেন সাংবাদিকরা যেভাবে আবেদন করবে সেই পদ্ধতিতেই লাশকে বাংলাদেশ প্রেরণ করা হবে ।মান্যবর রাষ্ট্রদূত এর একান্ত প্রচেষ্টায় সেলুনিকা এয়ারপোর্ট হয়ে এথেন্স বিমানবন্দর থেকে কাতার ট্রানজিট শেষে বাংলাদেশে১মার্চ বিকাল ৪ ঘটিকার সময় শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছে যায় । জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকার পক্ষে মৃতদেহ গ্রহণ করেন এসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সজল, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার শিব্বির আহমদ ও জুনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার সামিউল ইসলাম সোহান। মৃতদেহ গ্রহনের পর এনামুল এহসান জায়গীরদার এর পরিবারের পক্ষে মামাত ভাই নজমুল জায়গীরদার ও চাচাত ভাই রিদওয়ান রহমান এর কাছে লাশটি হস্থান্তর করা হয়।
    এসময় জালালাবাদের কর্মকর্তাদের এর মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড এ কে আব্দুল মোমেন ও তার বড় ভাই জালালাবাদ এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডক্টর এ কে আব্দুল মুবিন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জসিম উদ্দিন, এনামুলের মৃতদেহের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন। তাঁহার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
    দূতাবাসের কাউন্সিলর ডক্টর সৈয়দা ফারহানা নুর চৌধুরী মরহুমের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন এনামুলের মত অবৈধ পথে আর যেন কোন বাংলাদেশী ইউরোপে পারি না জমায়। বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের শ্রমবাজার চালু করার। আমরা আশাবাদী খুব শীঘ্রই ইউরোপের শ্রমবাজার চালু হবে। দালালদের খপ্পরে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর কোনো যুবক প্রাণ হারায় সরকার তাহা চায় না।
    দূতাবাসের প্রথম সচিব ও কাউন্সিলর লেখক সুজন দেবনাথ বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড এ কে আব্দুল মোমিনের নির্দেশে, মান্যবর রাষ্ট্রদূত প্রবাসবন্ধু মো.জসীম উদ্দিন এনডিসির দিকনির্দেশনায় গ্রিস প্রশাসন ও দূতাবাস এর সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় এনামুলের লাশ পেতে আমরা সক্ষম হয়েছি।দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাংবাদিকবৃন্দ তাদের লেখনীর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
    গ্রীস জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো.মুমিন খান বলেন ইউরোপের অন্যান্য দেশ ও লন্ডনে অবস্থানরত আওয়ামী, লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কমিউনিটি ব্যক্তিবর্গ যে ভূমিকা রেখেছেন তা প্রশংসার দাবিদার বিশেষ করে সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী,উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর সব সময় জালালাবাদ ও প্রেসক্লাবের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বিএসসি বলেন এনামুলের লাশ পেতে বাংলাদেশ দূতাবাস, পুলিশ-প্রশাসন এর পাশাপাশি সাংবাদিকবৃন্দ যে ভূমিকা রেখেছেন গ্রিসের ইতিহাসে এক নজির স্থাপন করল। আমাদের আরো সচেতন হতে হবে আমরা যেন আর অবৈধ পথে ইউরোপ এর দিকে পারিনা জমাই। এনামুলের লাশ বাংলাদেশি যুবকদের সতর্কবার্তা দিয়ে গেল।গ্রিস প্রবাসী নোয়াখালীর কৃতি সন্তান শাহীন আহমদ বলেন এনামুলের মৃত্যু আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। এনামুলের জানাজার নামাজ সালোনিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এথেন্স আল জব্বার মসজিদে আমরা বিশেষভাবে মুনাজাত করেছি। গ্রিস প্রবাসী একজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান ফিলিপাইন, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের মৃতদেহ তাদের দেশে যেতে যে টাকা খরচ হয়। বাংলাদেশীদের মৃতদেহ দেশে যেতে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা খরচ হয়। একটি প্রভাবশালী কুচক্রি মহল লাশ পাঠানোর নামে রীতিমতো কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এনামুলের ক্ষেত্রে তাহা হয়নি কারণ জালালাবাদ এসোসিয়েশন গ্রিস ও ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাব তৎপর ছিল। শিব্বির আহমদ সাংবাদিকদের জানান জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর পক্ষ থেকে সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা এনামুলের পরিবারকে প্রদান করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আজ ২ফেব্রুয়ারী সোমবার জোহরের নামাজের পর বালাগঞ্জ উপজেলার গোয়ালজুর ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে