প্রচ্ছদ

ইপিবি ও মন্ত্রণালয়ের দুই মত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

পাটশিল্পের উন্নয়নে দশ হাজার কোটি টাকার তহবিল চায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। এই তহবিলে প্রধানমন্ত্রীও সম্মতি দিয়েছিলেন। বাজেটে বরাদ্দের মাধ্যমে তহবিল গঠন করা যেতে পারে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মতামত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাধ সেধেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের মতামতে বলেছে, এই তহবিল গঠন করা যেতে পারে তবে তা ১০ হাজার কোটি টাকার নয়, ৪ হাজার ৮০ কোটি টাকা। এই বিষয়ে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, পাটশিল্পের উন্নয়নে এই তহবিল গঠন খুবই জরুরি। এবিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখালেখি হচ্ছে।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে ১৬ লাখ টন কাঁচাপাট উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ওই পাটের মূল্য ৮ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে এই খাতে রপ্তানি আয় ৯৬২ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। এই বিবেচনায় প্রস্তাবিত ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিলটি বড় বলে মনে করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। তাছাড়া পাটকল মালিক ও মধ্যস্বত্ত ভোগীদেরও কিছু পরিমাণ নিজস্ব তহবিলও ব্যবহার হয়ে থাকে।
ইপিবি মনে করে, অর্থের অধিক যোগান যেমন প্রতিযোগীতা সৃষ্টির মাধ্যমে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে তেমনি অব্যবহৃত অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে। এতে পাটপণ্যে একধরণের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় দেশে উৎপাদিত পাটের বাজার মূল্যের ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৪ হাজার ৮০ কোটি টাকার তহবিল গঠন যুক্তিযুক্ত হবে বলে ইপিবি’র পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হয়েছে। গত মার্চে প্রথমবারের মতো জাতীয় পাট দিবস পালনের কর্মসূচিতে পাটপণ্য মেলা উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সব শিল্প রপ্তানির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানিতে ঋণ সুবিধা পেলে পাট কেন পাবে না। দ্রুত এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন তিনি। এরপর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এই তহবিল গঠনে নীতিগত অনুমোদন চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি লিখে। ওই চিঠিতে বলা হয়, কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচাপাট কিনে পণ্য উৎপাদন করে রপ্তানি করা হয়। রপ্তানিপণ্য হওয়া সত্ত্বেও কাঁচামাল আমদানি না করায় ইডিএফ থেকে ঋণ সহায়তা পান না পাটশিল্পের উদ্যোক্তারা। পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবন, আধুনিকায়ন ও উন্নতমানের পাটজাত পণ্য তৈরি ও রপ্তানির মাধ্যমে জাতীয় আয় বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন রয়েছে। পাটপণ্য রপ্তানিতে শতভাগ মূল্য সংযোজন হয়ে থাকে। দেশে-বিদেশে পাটপণ্যের চাহিদা ও ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দেশে ১৭ পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন করায় দেশেও পাটের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এ শিল্পে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বর্তমানে ৪ কোটি মানুষ সম্পৃক্ত রয়েছেন। আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এ খাতে নতুন নতুন শিল্প হচ্ছে। এসব বিবেচনায় পাট খাতকে সহযোগিতায় ইডিএফের আদলে ২ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিকল্প একটি স্থানীয় মুদ্রা তহবিল গঠন প্রয়োজন। সেসময় প্রধানমন্ত্রী ইডিএফের বিকল্প হিসেবে এ তহবিলের বিষয়ে সম্মতি দেন। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত চাওয়া হলে, ওই মতামতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ তহবিল গঠন করা হলে বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বেড়ে যাবে। এতে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বাড়বে। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের ঋণ তহবিল করা হলে সেটি ঘোষিত মুদ্রানীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে না। কিন্তু বাজেট থেকে এ ধরনের তহবিল গঠন হলে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠিয়েছে। তাতে বলা হয়, পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল নামে সরকার কর্তৃক ৯০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। একইভাবে পাটখাত পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখার সম্ভাবনা বিবেচনায় বাজেট থেকে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই মতামত পাওয়ার পর গত ১ আগস্ট তহবিল গঠনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বর্তমানে ২০ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) পরিচালিত হচ্ছে। মাত্র ৩ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে রপ্তানিকারকরা বিদেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করেন। রপ্তানি খাতের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া, সিরামিকসহ বিভিন্ন খাত এ তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পেলেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত পাটশিল্প এই সুবিধা পাচ্ছে না। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইডিএফ তহবিল থেকে মূলত ঋণ দেওয়া হয় বিদেশ থেকে ডলারে রপ্তানিজাত পণ্যের কাঁচামাল কেনার জন্য। বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণপত্র খোলার পর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৈদেশিক মুদ্রায় এই ঋণ জোগান দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু পাটপণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল অর্থাৎ কাঁচাপাট সংগ্রহ করা হয় স্থানীয়ভাবে কৃষকদের কাছ থেকে। এজন্য প্রয়োজন স্থানীয় মুদ্রার। সে কারণে ইডিএফ তহবিল থেকে ঋণ পায় না পাটশিল্প। সাধারণ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক ঋণ নিলে ১২ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হয়। অথচ ইডিএফ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়া যায় মাত্র ৩ শতাংশ সুদে।

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০