প্রচ্ছদ

মিয়ানমারে সাড়ে তিন মাসে ৬,৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৫৩:৫৭,অপরাহ্ন ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ / সংবাদটি পড়েছেন ২০৪ জন

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী৷ আগস্ট মাসের শেষ দিকে দেশটির সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)।

প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর জরিপ চালিয়ে এই আনুমানিক হিসেবের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।এই সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই মিয়ানমার সরকারের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক নিহতের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। তাদের দাবি, এই সহিংসতায় প্রায় ৪শ’ রোহিঙ্গা মারা গেছে, এবং নিহতদের বেশিরভাগই ‘মুসলিম সন্ত্রাসী’।

এমএসএফ বলছে, অভিযানের মুখে সীমান্তের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সমীক্ষা শেষে মানবাধিকার সংগঠনটির বক্তব্য, এটা এখন পর্যন্ত ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপকতর সহিংসতার স্পষ্ট নিদের্শন’ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যে কতটা ব্যাপক পরিসর ও তীব্রতায় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, জরিপে প্রকাশিত সংখ্যাটি তার সবচেয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছে এমএসএফ।

জাতিসংঘের হিসেব মতে, রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনী ও সরকার সমর্থিত বাহিনীর হামলা থেকে বাঁচতে আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে তাদের ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে বহু সাংবাদিক ও গবেষক কাজ করেছেন এবং করছেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একেবারে গুরুতর অবস্থায় থাকা মানুষগুলোর সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এমএসএফ যারা হামলার শিকার হয়েছে আর যারা নিজেরা সহিংসতার মুখে পড়েনি, তবে হামলা হওয়ার আগেই পালিয়ে এসেছে, এমন সবার কাছ থেকেই তথ্য নিয়ে জরিপটি করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এই জরিপ থেকে পাওয়া ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এমএসএফ বলেছে, বর্মী সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড হামলার প্রথম থেকেই ছিল অতিরিক্ত নির্মম ও বর্বর। নির্যাতনের শিকার মানুষগুলোর অভিজ্ঞতাকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছে সংস্থাটি। জানিয়েছে, বর্বরতার মাত্রার কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করা সম্ভব।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে খুন, বলপূর্বক নির্বাসন, নির্যাতন, ধর্ষণ, নিপীড়ন এবং অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের বিধি অনুযায়ী, এর সবই মানবতাবিরোধী অপরাধ৷ ‘জাতিগত নিধন’ অভিযানের অংশ হিসেবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন করে তাদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করছে।

রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী শত শত রোহিঙ্গা হত্যা করেছে৷ গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে৷ ঘর বাড়িতে আগুন দেয়ায় বৃদ্ধ ও অসুস্থরা পালাতে ব্যর্থ হওয়ায় তখন তাদের হত্যা করা হয়েছে৷ বেশ কিছু গ্রামে নারী ও কিশোরীরা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা৷

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।

৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। হত্যা-নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে গিয়ে নৌকাডুবিতেও মৃত্যু হচ্ছে অনেকের।

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জানুয়ারি    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮