প্রচ্ছদ

তারকাদের সংসার ভাঙার ইতিহাস

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৪৪:৩৮,অপরাহ্ন ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | সংবাদটি ১,০৮৯ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

তারকাদের ঘর ভাঙার ইতিহাস ঘাটলে চলে যেতে হবে ষাটের দশকে বরেণ্য পরিচালক জহির রায়হান ও সুমিতা দেবী থেকে শুরু করতে হবে। নায়িকা সুচন্দার সঙ্গে জহির রায়হানের প্রেম থাকার কারণেই ভেঙে গিয়েছিল সুমিতা দেবী ও জহির রায়হানের সংসার। এরপর তো সুচন্দাকে বিয়েই করে ফেললেন জহির রায়হান।

নায়ক আলমগীর ও গীতিকার খোশনুরের ডিভোর্স হয় বরেণ্য শিল্পী রুনা লায়লার সঙ্গে আলমগীরের প্রেমের কারণে। একই কারণে সংসার ভেঙেছিল সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী ও শিল্পী সালমা আলীরও। নাট্যমঞ্চে একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে পরিচয় অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী ও সুবর্ণা মুস্তাফার। সেখান থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। ফরিদী তার প্রথম স্ত্রী মিনুর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে ১৯৮৪ সালে অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি দীর্ঘ ২৪ বছর একসঙ্গে সংসার করেন। ২০০৮ সালে হুট করেই সুবর্ণা ডিভোর্স দেন হুমায়ুন ফরিদীকে। তাদের ঘরে কোনো সন্তান নেই। বিচ্ছেদের পর হুমায়ূন ফরিদী আর সংসারের পথ না মাড়ালেও নাট্য পরিচালক বদরুল আনাম সৌদকে বিয়ে করেন সুবর্ণা।

অন্যদিকে সংগীতাঙ্গনের তুমুল জনপ্রিয় জুটি ছিলেন নকীব খান ও সামিনা চৌধুরী। জনপ্রিয় শিল্পী সুরকার ও সংগীত পরিচালক নকীব খান বিয়ে করেছিলেন সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরীকে। মতের অমিল হওয়ায় সামিনা চৌধুরী ডিভোর্স দেন নকীব খানকে। বিয়ে করেন অনুষ্ঠান নির্মাতা এজাজ খান স্বপনকে।

আরেক জনপ্রিয় শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ বিয়ে করেছিলেন মডেল অভিনেত্রী রুনাকে। ভেঙে যায় তাদেরও সংসার। রুনা বেছে নেন প্রবাস জীবন।
বাংলা চলচ্চিত্রের অসম্ভব জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও জনপ্রিয় নায়িকা দিতি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন একে অপরকে। সন্তানদের কথা চিন্তা করেই নাকি তারা একে অপরের হয়েছিলেন। কিন্তু বেশি দিন টিকেনি এ সংসার। যে সন্তানদের কথা চিন্তা করে তারা এক হয়েছিলেন সেই সন্তানরা একে অপরকে এক পরিবারের ভাবতে পারেননি। পিতা-মাতা আর কি করবেন!

একটি নাট্যদলে কাজ করতে গিয়ে আফসানা মিমির পরিচয় হয় নির্মাতা-অভিনেতা গাজী রাকায়েতের সঙ্গে। পরিচয়ের পর সখ্য। সময়ের ব্যবধানে সেই সখ্য গড়ায় প্রেমে। অতঃপর বিয়ে। কিন্তু বিয়েটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৯৬ সালে বিচ্ছেদ ঘটে আফসানা মিমি-গাজী রাকায়েতের।

নব্বই দশকের শেষদিকের আলোচিত বিয়েও ছিল শমীর, আলোচিত বিচ্ছেদও ছিল তারই। ১৯৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের চিত্রনির্মাতা রিঙ্গোকে বিয়ে করেন শমী কায়সার। বিয়ের স্থায়িত্ব ছিল দুই বছর। নানা কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে সেই বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর শমী আবার বিয়ে করেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরাফাত নামের এক শিক্ষককে।

ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন সোলসখ্যাত ব্যান্ড তারকা পার্থ বড়ুয়া এবং অভিনেত্রী শ্রাবন্তী। খুব বেশিদিন সেই প্রেম স্থায়ী হয়নি তাদের। বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজাকে বাবা-মায়ের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেন অভিনেত্রী জেনি। দীর্ঘ প্রেমের বিয়ে হলেও তাদের সংসার বেশিদিন টেকেনি। পরে ২০১৪ সালে ঘটা করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন নির্মাতা অমিতাভ রেজা। পাত্রী অভিনেত্রী মিথিলার বড় বোন মিম রশিদ। এই সংসারেও বিচ্ছেদ হয়েছে বলে গোপন সূত্রের খবর।

লালবাগের হাঁসমার্কা কেশ তেলের বিজ্ঞাপন দিয়ে রুমানা সবার দৃষ্টি কাড়েন। এরপর বিজ্ঞাপন নির্মাতা-অভিনেতা আনজাম মাসুদকে প্রেম করে বিয়ে করেন। কিন্তু ভালোবাসার রঙ মেশানো সেই বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন।

জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমস ভালোবেসে বিয়ে করেন অভিনেত্রী রথিকে। কিন্তু তাদের এ সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জেমস প্রেমে মজে গিয়েছিলেন প্রবাসী এক তরুণীর প্রেমে। আর এতেই ভেঙে যায় তাদের সংসার। সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সংগীতশিল্পী ডলি সায়ন্তনীকে। কিন্তু তাদের ভালোবাসার সংসার শেষ পর্যন্ত টেকেনি।

চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ছেলে অভিনেতা ও পরিচালক সোহেল আরমানের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন অভিনেত্রী তারিন। বাবা-মায়ের অজান্তে পালিয়ে গিয়ে ২০০১ সালে তারিন বিয়ে করেন সোহেলকে। ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করলেও পরে জানাজানি হয়ে যায়। সে বিয়ে খুব আলোচিত হয়। তার চেয়েও দ্বিগুণ আলোচিত হয় বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এই দম্পতির সংসার ভাঙনে।

অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ ছোট পর্দার পরিচালক এজাজ মুন্নাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের সংসারও টেকেনি বেশিদিন। এজাজ মুন্নার বিরুদ্ধে তাজিন মাদকাসক্তি ও পরনারী আসক্তির অভিযোগ তোলায় তাদের সংসারে ফাটল ধরে। তাজিনের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে মুন্না লাক্স তারকা ও অভিনেত্রী মমকে বিয়ে করেন। আর তাজিন বিয়ে করেন এক মিউজিশায়নকে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাজিন দ্বিতীয় সংসারে ভালো থাকলেও এজাজ মুন্নার সংসার ভাঙনের গুঞ্জন আজকাল সর্বত্রই। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে চিত্র নির্মাতা শিহাব শাহীনের সাথে নাকি পরকীয়ায় মজেছেন মুন্নার দ্বিতীয় স্ত্রী লাক্স তারকা মম।

অভিনেত্রী বিজরী বরকত উল্লাহ ও সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে ফুটফুটে সুন্দর এক কন্যাসন্তান জন্ম হয়। কিন্তু তাদের এ বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। ডিভোর্স হয় তাদের। বিজরী পরে বিয়ে করেন অভিনেতা ইন্তেখাব দিনারকে।

অন্যদিকে ইমন পরবর্তীতে একাধিক সম্পর্কে জড়ালেও নতুন করে এখনো আর কাউকে বিয়ে করেননি। অভিনেত্রী জয়া মডেল ফয়সালের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ধানমন্ডিতে প্রেমের সোপান হিসেবে একটি ফাস্ট ফুডের দোকান খুলতেও দেখা যায় তাদের। সুখেই চলছিল তাদের সংসার।

কিন্তু হঠাৎ অজানা কিছু বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের ঝড় বইতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্বামী ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠান জয়া।

অভিনেত্রী অপি করিম ২০০৭ সালে জাপান প্রবাসী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তাসির আহমেদকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর কিছুদিন ভালোই ছিলেন তারা। তারপর হঠাৎ তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ওঠে। অপির মিডিয়ায় ব্যস্ততা এবং মিডিয়ার লোকদের সঙ্গে মেলামেশাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তাসির।

অন্যদিকে তাসিরের বিরুদ্ধেও আগে আরও একটি বিয়ে করাসহ নানা অভিযোগ তোলেন অপি। ফলে বছর না গড়াতেই তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর অপি প্রেমে পড়েন নাট্য পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের। তারা বিয়েও করেন। কিন্তু সেই বিয়েও বেশিদিন টেকেনি। তাদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। বর্তমানে অপি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গীতিকবি এনামুল করিম নির্ঝরের স্ত্রী।

ছোট পর্দার অভিনয় শিল্পী অপূর্ব ও প্রভা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু প্রভা বিয়ের আগে রাজিব নামক এক ছেলের সঙ্গে প্রেম ও অবাদ মেলামেশায় জড়িয়েছিলেন। অপূর্ব সঙ্গে প্রভার বিয়ের কিছুদিন পরে রাজিব ও প্রভার কিছু ভিডিও চিত্র ফাঁস হলে, অপূর্ব ডিভোর্স দেন প্রভাবে। বিচ্ছেদের পর অপূর্ব নতুন সংসার বাঁধেন নাজিয়া হাসান অদিতির সঙ্গে। এর কিছুদিন পর মাহমুদ শান্ত নামের একজনকে বিয়ে করেন প্রভা। সেই সংসারে ডিভোর্স নিয়েছেন তিনি।

মিডিয়াপাড়ায় হিল্লোল-তিন্নির বিয়ে বেশ আলোচিত ছিল। এটাও ছিল ভালোবাসার বিয়ে। তিন্নি ধর্মান্তরিত হয়ে মা-বাবাকে ছেড়ে হিল্লোলের কাছে চলে আসেন। এই দম্পত্তির ঘর আলো করে আসে এক কন্যাসন্তান। তবে এ তারকা দম্পত্তির সংসারও টেকেনি। তিন্নির প্রতি মাদক ও পরপুরুষের আসক্তির অভিযোগ তোলেন হিল্লোল। এ নিয়ে দুজনই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা-অভিযোগ তোলেন। এক সময়ের গ্ল্যামার গার্ল তিন্নি এখন চিকিৎসকের পরামর্শে রেস্টে আছেন। হিল্লোল আরেক মডেল অভিনেত্রী নওশীনের সঙ্গে নতুন করে সংসার পেতেছেন।

গায়িকা মমতাজের প্রথম স্বামী ছিলেন বাউলশিল্পী রশিদ বয়াতি। তার সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর মানিকগঞ্জ পৌরসভা চেয়ারম্যান রমজান আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় মমতাজের। কিন্তু সেই বিয়েও টিকে নি। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে সময় রমজান আলীর সঙ্গে মমতাজের ডিভোর্স হয়। এরপর থেকেই নিজের প্রতিষ্ঠিত মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মঈন হাসান চঞ্চলের সঙ্গে গড়ে উঠে মমতাজের প্রেমের সম্পর্ক। মমতাজের নতুন বর মঈন হাসান চঞ্চলেরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে।

জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মোজেজা আশরাফ মোনালিসা ২০১২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফাইয়াজ শরীফের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। একই বছরের ম্যাজিক ডে ১২.১২.১২তে ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে মোনালিসা ও ফাইয়াজের বিবাবহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের মাত্র দু-তিনদিন পরই শুরু হয় দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি। শেষমেষ বিচ্ছেদেই রক্ষা! প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন মোনালিসার প্রেম ছিল সঙ্গীত তারকা হাবিব ওয়াহিদের সাথে।

শিমুল-নাদিয়া ২০০৩ সালে পরস্পরের প্রেমে পড়েন। দীর্ঘদিন প্রেমের পর ২০০৮ সালে তারা বিয়ে করেন। তবে ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ওঠে। কিন্তু গণমাধ্যমের কাছে বরাবরই তা গোপন রেখেছেন। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন নাদিয়া। এই দম্পতির কোনো সন্তান নেই। বিচ্ছেদের পর নাদিয়া বিয়ে করেছেন অভিনেতা নাঈমকে। সেই সংসারে বেশ ভালো আছেন এই তারকা।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

মে ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« এপ্রিল    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১