প্রচ্ছদ

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে কম্বোডিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে : ২:১৭:১৬,অপরাহ্ন ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | সংবাদটি ১১৩ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

রোহিঙ্গা সঙ্কটের ‘টেকসই সমাধানে’ কম্বোডিয়ার সহায়তা চাইলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদিও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তারপরও আমি এই সংকটের টেকসই সমাধানে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য [কম্বোডিয়ার] প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

নেমপেনের পিস প্যালেসে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা জানান, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এ অঞ্চল ঘিরে কিছু নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করেছি, যা আমাদের এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, যাদের মধ্যে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের সাম্প্রতিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একত্রে কাজ করবে বলে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন।

তিনি বলেন, ‘যদিও বাংলাদেশের নিজেদের জনসংখ্যাই ১৬ কোটির বেশি, তারপরও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। বাংলাদেশ শরণার্থী সমস্যাটিকে নিজেদের কাঁধে তুলেছে নিয়েছে।’

রোববার তিনদিনের সফরে আসিয়ানের সদস্য দেশ কম্বোডিয়া যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় নমপেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

কম্বোডিয়ার নারী বিষয়ক মন্ত্রী ইং কান্থা পাভি, পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ইতা সোফিয়া, বাংলাদেশে কম্বোডিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত পিচকুন পানহা এবং থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও কম্বোডিয়ায় এক্রেডিটেড রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিম বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বিমান থেকে নামলে একটি কম্বোডিয়ান শিশু তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এসময় নমপেনে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা পতাকা নেড়ে তাকে অভিবাদন জানান। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা শেষে একটি মোটর শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হোটেল সফিটেলে নিয়ে যাওয়া হয়, কম্বোডিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এই হোটেলেই অবস্থান করছেন।

রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নমপেনে কম্বোডিয়ার স্বাধীনতা স্মৃতিস্থম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি এ সময় কম্বোডিয়ার সাবেক রাজা নরডম সিহাহনুকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। এর আগে দুই নেতা একান্ত বৈঠক করেন। বৈঠকের পর দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি ও ৯টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরেরই ঢাকা ও নমপেনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দু’দেশের জাতির পিতার নামে নামকরণ করার কথা ঘোষণা করা হবে। তিনদিনের সফর শেষে আগামী ৫ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ট কন্যা শেখ রেহানা, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি প্রকল্পের প্রধান সমন্বয় মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব এম. শহীদুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে তার সঙ্গে রয়েছে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একটি প্রতিনিধি দল। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছে।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১