প্রচ্ছদ

যৌতুক দিতে পারায় শ্বশুড়বাড়ির নির্যাতনে যুবমহিলা লীগ নেত্রী আহত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

সংবাদদাতাঃ স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকদের চাহিদামাফিক যৌতুক দিতে না পারায় করুণ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধু। একপর্যায়ে শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের বেধড়ক মারপিটে তাকে ভর্তি হতে হয়েছে হাসপাতালে। গত (৬ নভেম্বর) সোমবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের মীরপুর গ্রামে। আর নির্যাতনের শিকার গৃহবধু হলেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ভাগলপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে কুলসুমা আক্তার রীনা চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ যুব মহিলালীগ সিলেট জেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য এবং ওসমানীনগর উপজেলা শাখার সভানেত্রী। নির্যাতিতা গৃহবধু রীনা চৌধুরী নিজে বাদি হয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ২০০৩ সালের সংশোধিত আইনের ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা (মামলা নং-৩৩৭/১৭, তারিখঃ ০৬/১১/১৭ইং) দায়ের করেছেন। মামলায় ইতোমধ্যেই ১নং অভিযুক্ত বাদির স্বামী লিটন মিয়াকে পৃুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, বাদি রীনা চৌধুরীর সাথে প্রায় ৮ মাস পূর্বে পারিবারিক সিদ্ধান্তে ১নং বিবাদী লিটন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের চাহিদা অনুযায়ী রীনার পরিবার যৌতুক হিসেবে মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রি প্রদান করেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে রীনার স্বামী লিটন মিয়াসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন পিত্রালয় থেকে নগদ ২ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য রীনাকে চাপ দিতে থাকে। পিত্রালয়ের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বাদি টাকা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শুরু হয় তার উপর জুলুম-নির্যাতন। ধান ব্যবসায়ী স্বামী লিটন মিয়া স্ত্রী রীনাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিতো। পাশাপাশি অঢেল যৌতুক নিয়ে নতুন আরেকটি বিয়ে করবে বলে রীনাকে প্রতিনিয়ত শাসাতো। শেষমেষ ঘটনার মাস দু’য়েক আগে লিটন ও তার পরিবারের লোকজন রীনাকে মারপিট করে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ‘বাদিপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে’ শুনে লিটনের মা রাজনা বেগম আর ‘যৌতুকের কথা বলে মারপিট করা হবে না’ মর্মে আশ্বস্ত করে রীনাকে পূনরায় শ্বশুড়বাড়িতে নিয়ে যান। কিছুদিন ভালভাবে ঘর-সংসার চলার পর ২ লাখ টাকার জন্য পুনরায় শুরু হয় নির্যাতন। ঘটনার দিন সোমবার বিবাদীদের চাপের মুখে বাদি রীনা পিত্রালয় থেকে নগদ টাকা এনে দেয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করার সাথে সাথেই তার উপর শুরু হয় বেধড়ক মারপিট। বিবাদীদের প্রচন্ড নির্যাতনে রীনা রক্তাক্ত আহত হয়ে অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকেন। খবর পেয়ে রীনার বড় ভাই আরশ আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোনের রক্তাক্ত অজ্ঞান অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রীনা নিজে বাদি হয়ে স্বামী লিটন মিয়া, চাচাশ্বশুড় মুকিদ মিয়া, দেবর রেবুল মিয়া, চাচাশ্বশুড় মসুদ মিয়া, ননদ সুজিনা বেগমকে বিবাদী করে মৌলভীবাজার সদর থানায় উপরোক্ত মামলায় দায়ের করেন। মামলাটি এফআইআর করে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ১নং বিবাদী লিটন মিয়াকে আটক করে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, রীনা চৌধুরীর দায়েরকৃত মামলার বিবাদী মুকিদ মিয়া, রেবুল মিয়া ও লিটন মিয়া একই থানার ১৮২/১৭নং মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী। পুলিশ পূর্ব থেকেই গ্রেফতারের জন্য তাদের খোঁজছিল।

এদিকে, বাংলাদেশ যুবমহিলা লীগ সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি কুলছুমা আক্তার রীনা চৌধুরীর উপর নারকীয় হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি আমিনা বেগম, নাজমা বেগম, লাভলী আক্তার সানোয়ারা, হাওয়া বেগম এবং সাধারণ সম্পাদক তামান্না আক্তার লিপি চৌধুরী। এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়া স্বত্তেও কিছু সংখ্যক মূর্খ বর্বরের কারণে নারী নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। অথচ নারীরা আজ দেশের সর্বত্র উন্নয়নের ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিচ্ছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের আহবান জানিয়ে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« অক্টোবর    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০