প্রচ্ছদ

কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের টানাগদ্যে বর্ণিত একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৪৬:৩৯,অপরাহ্ন ৩১ আগস্ট ২০১৭ | সংবাদটি ১৩১ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

দু’ই বাংলার জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের
একগুচ্ছ হৃদয়তান্ত্রিক মৌলিক কবিতা
***************************************
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের টানাগদ্যে বর্ণিত একগুচ্ছ কবিতা
আমার স্মৃতিছুট কিছু কথা~
*********************************************************

[ এক সময় ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম দিন-যাপনের ভেতর-
কবিতা নামক সেই গভীর শব্দের মধ্যে আমি যেন একটা
একা হয়ে যাওয়া নীরব অক্ষর হয়ে না মরে বেঁচে থাকার
সংগ্রাম করে যাচ্ছিলাম ! ভেতরের দিকে তাকিয়ে থাকা-
সেটাও একটা লজ্জার অন্যরূপ~~~
আমি-তো নিয়মের মধ্যে অনিয়মের উদাহরণ , তা না
আড়ি করে আবার ভাব করে নেই কবিতার সাথে ! এটা
একটা এক ধরনের পাগলামী বই-কি , তাই না ? সত্যি
অর্থে কবিতার প্রতি আমার একটা চাপা অভিমান আছে-
যেটা ইদানিং আমার পাঠকবন্ধুরা আমার কবিতার দিকে
তাকালে অনুধাবন করতে পারেন ! এই কবিতার মধ্যে–
আমার আদ্যোপান্ত সহবাস , এর প্রতিটা স্তবকের মধ্যে
লালন-পালন হই আমি **** আবার কবিতার সহবৎ—
শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠি ! কিছু কিছু ক্ষেত্রে কবিতার
কাছে আমি কৃতজ্ঞ ও দায়বদ্ধ , কারণ এই কবিতাই—
আমাকে সহজ করে দিয়েছে আমার বহতা জীবনের
প্রতিটা স্পন্দন-কে !
অনেকটা পথ চলে এলে হিসাব থাকে না অনেক কিছু !
ঈশ্বর সত্য এই অপ্রমেয় অনুভূতি আমার জীবন-কে
আদ্যোপান্ত অহর্নিশ ঘিরে রেখেছে ! সেই অতীত থেকে
বহতা বর্তমান নিয়ে আমার প্রতিদিনের কবিতা যাপন !
সব মিলিয়ে আমার আমিত্বভরা কবিতা ! সৃষ্টির ভেতরে
আমি যেন অতল রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছি , কোথায়
চলেছি , কী উদ্দেশ্যে , কী কারণে , — সেটা অনুধাবন **
করার শক্তি আমার নেই !! কম আলোতে প্রতারক —
স্মৃতিগুলি হঠাৎ দেখা দিলে / দরকার মত চিনতে হয় ,
কিম্বা ভুলতে হয় / যদি অদৃশ্য শরীর তোমার ; অবুঝ
টেলিফোন কথা বলে ! / আজ ঝড় হবে ! জানা গেল !
বিষণ্ণ দরজাগুলো ব্যথা পেতে পারে বলে কথা বন্ধ করে
দিয়েছি ! “— ( নির্বাচিত কবিতা ¤ থেকে কবিতা পংক্তি )
যাই হোক এত কালের দোষ এবং অভ্যাস এটা-তো এই
সময়কার বদ বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে না ! এই
কবিতা লেখার পাগলামি নিয়ে চিরকাল যাতে বেঁচে —
থাকতে পারি , সেই প্রার্থনা করি অচেনা অজানা অদেখা
ঈশ্বর ও আল্লার কাছে ! © বিদ্যুৎ ভৌমিক © ]
******************************************************
ক )
নিষ্কৃতি

আমার নিষ্কৃতি নেই সোজা হ’য়ে দাঁড়াবার
দুহাতে অস্পষ্ট ঘাম ; শরীরে রক্তের রাস্তা আঁকা~বাঁকা
অচেনা রাগের তাপে নির্ঘুম অস্থির
বহুদিন , —
প্রতিদিন অবেলায় সড়ক পেরিয়ে এলোমেলো হাওয়ায়
মহিষ-মহিষ ধুলো চোখের ভেতর প্রাণ করে লুঠ !
প্রতিদিন উত্তর দিকে যেতে যেতে মনকে দেখাই
এক হাজার স্বপ্ন ****
মৃত্যুর মত সহজ নীরবতার ! আমার নিষ্কৃতি নেই ;
থাকলেও সম্পূর্ণ আবেগ নিয়ে নিজেকে ঠকাই দু’বেলা !
এই মধ্যরাতে পাশে এসে চুপ করে বসে থাকে আমার
এককালের অভাগা ছায়া , সেখানে পোশাক থাকে না
ঠিক-ঠাক ; অদ্ভুত নগ্ন নীরব — এইখানে কবিতার বিশ্রী
আইন আমাকে ঘিরে রাখে অনাত্মীয় অন্ধকারে !!
খ )
চোখ বন্ধ সত্য

হঠাৎ কিছু কিছু কথার মধ্যে যে-যে শব্দ
কবিতার রাত-দিন বদলে দিতে পারে ; আমি এদের
বক্ষ্মনাদ বলি কি-ভাবে ?
যখন তিনি চলেন ;
কাব্যি তখন
বলেনা
কথা !
যখন স্তব হবার কথা চলে ; ধারাভাষ্য দেবে ঈশ্বর ***
জটিল তত্ত্ব নিয়ে সাপ-লুডো খেলার জন্য আলাপ পাতা-
বিছানায় বসে বসে স্তব-গান করবে বিধায়ক বিধি, —
সেই থেকে শুরু মৃত্যুর পথে পথে ঘোরা~~~~
আমি-তো প্রাণ দেব , মৃতের পরিবারের ভেতর দিয়ে
কবিতার রাত-দিন নষ্ট চাঁদের দিকে নজর দেব
যখন-তখন ! সব শেষে বিষ হব ! !
গ )
বৃষ্টিপাতের গল্প

তুই কিন্তু যখন-তখন আসবিনা , তাহলে মনে হবে এটুকুই
ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে পিছিয়ে চলে যাবি ****
অদ্ভুত চাঁদ-প্রহরে নির্ঘুম হয়েছে আমার এককালের
স্বপ্ন ধুলো নগ্ন বৈভব !
যে চোখ দেখেছে আকাশ
সে চোখ বলেনি কোনো কথা, — পাথর স্তব্ধ আমি
অতলান্তে এই ঈঙ্গিত আমি-কি লুকিয়ে রাখেছি ?
বৃষ্টিপাতের মধ্যে তুই এতটাই ভিজেছিস
শরীরটা যেন নদী~নদী মনে হচ্ছে !
কাল থেকে শুরু করে অনেকটা সময় ধরে তোকে নিয়ে
ভেসেছি জ্যোৎস্নায় ; একবার চুম্বন দে ,
আমি মরি তোর খেয়ালে, ফিরিঙ্গি ডাঙা রোডের
অথৈ বর্ষণে !!
ঘ )
অমৃতলোক ও বন্যপ্রেম

শেষ পর্যন্ত কথাচোখ খুলে হাসুন, — দেখবেন নদীতে
জলচৌকি নিয়ে জলপরী স্নান করতে নেমেছে !
এই অমোঘ আকর্ষণ নীল আকাশের মালিক হবে বলে
তথাকথিত ভাবনার খোরাক খুঁজে চলে *****
আজ থেকে একশ বছর আগে এই দিনে আমি আমার
সমস্ত দোষের কথা বলে গেছি নতুন পৃষ্ঠায় ; হৃৎপিণ্ড
থেকে টুসটুসে আঁধার নির্বাক চলচ্চিত্রে অভিনয় করবে
বলে চিহ্নিত করেছে আমাকে !
মন খারাপের দিনে তুমি কি নগণ্য হতে পারবে ?
শেষ পর্যন্ত এই পাতাটির কাছে নিবেদিত হবে আমার
জন্মের ইতিহাস ! কবিতার সাথে দীর্ঘদিন সহবাস এবং
তার মধ্যে অন্যতম কিছু কিছু দোষ , যা দিয়ে রচিত হবে
যৌন রাতের গদ্য ! তুমি তাকিয়ে দেখবে মৃত্যুটা
এইভাবেই ফুরিয়ে গেছে কালবেলায় অমৃতলোকে !
ঙ )
ধ্রুপদী কবিতা

ব্যক্তিগত রাস্তায় অবেলায় সূর্য এলে টেলিফোন মিস্ত্রির
হাইড্রেন ভাসিয়ে পেচ্ছাপ করা আর বিড়ির ধোঁওয়ায়
অফুরন্ত বাতাসের কপোট সঙ্গ দেখি , —
রাস্তার মধ্যে চোখ দিয়ে প্রতিদিন ছুঁই দুপুরের
সহজ নীরবতা !
প্রতিদিন দুপুর সোয়া একটাতে ছায়াকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটি
সেদিন পথ ভুলে গিয়ে তালা বন্ধ সদর হৃদয়ের কাছে
একান্তে দাঁড়িয়ে আমার আমির সবটুকু নগ্নতা
একসাথে হাহাকার করতে দেখলাম !
এই হাত দেখে মায়া হয় ; এই রেখাগুলো কবে থেকে
এই রেখাগুলো কবে থেকে এক জায়গায় স্থির !
সেজন্য অবুঝ পায়ের প্রতিটা চিহ্ন স্মৃতিমন খুলে
সারাদিন ধরে হাসুন !!
চ )
অবশেষের পথ

নিশিকন্যারা প্রতিরাতে ঈষৎ উষ্ণতায় লুকিয়ে গেলে
আমি তোমার মুখের কাছে নীরব নিঃশব্দে
ওষ্ঠে চুম্বন করি —
স্মরণযোগ্য অবতারণের পর
গলগ্রহ হয় ভরাট স্বপ্নের অন্ধকার ****
প্রেম যেন বসন্তে ~ বসন্তে পাগল করতে চায় আমাকে
স্মৃতির অতীত থেকে যন্ত্রণা দেখা দিলে
অর্ধেক মৃত্যু হয় সারাবেলাটার !
নতুন করে পাপ করতে চাওয়া একাকী নগ্নতার পর
মন ডুবে যায় আকাশ ভেলা নিয়ে, —
মাঝে মধ্যে চিঠি এলে লেটার বক্সের কঠিন শৃঙ্খল
জানতে পারে না তুমি রোদ্দুরে +অন্ধকারে আমার
চিন্তায় কতটা খেয়ালী !!
ছ )
প্রসাধন ও হাসির মঞ্জরী

এক সত্যি ব’লতে গিয়ে সবিনয় প্রস্তাব ; এই আঁধার
বেলায় একবার কাছে এসে চুম্বন সাক্ষ্য দাও, — তবু
মন খারাপের দিন মিলিয়ে যাবে ***
দিন-রাত স্পর্শলোভা চোখ দৈন্যদশায় নিরীহ নিঃশ্বাসে
কামপ্রবাহের গন্ধ এলে জীবনভিক্ষা চেয়ে বসি —
এই রেখাগুলো আকাশ থেকে তুলে নিয়ে
তোমাতেই ফিরিয়ে দিলাম !
যদি ঝড় ওঠে আলোর আবেগে আপ্লুত কবিতাপৃষ্ঠার
যাবতীয় সোহাগ-অক্ষরগুলো বুকের মধ্যে কাঙালের
চেহারা নিয়ে বলবে ; তুমি আবার আগের মত হও !
সেই সত্যি আমাকেও আড়াল করে দোলের সন্ধ্যায় ! !

💠কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক
৬৫ /১৭, ফিরিঙ্গি ডাঙা রোড, মল্লিকপাড়া,
শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত,
মোবাইল ৮৬৯৭৯৪১৪৪৯ //
Facebook & Gmail
bidyutbhowmick1964@gmail.com




দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০