প্রচ্ছদ

‘সেনা মোতায়েন না, শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন’

প্রকাশিত হয়েছে : ৪:৩৭:৫৬,অপরাহ্ন ১৮ অক্টোবর ২০১৭ | সংবাদটি ২৮৫ বার পঠিত

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে ১১টি প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বুধবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন, ইভিএম, নির্বাচনে পেশি শক্তি রোধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পর্যবেক্ষক নিয়োগ, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই, বিধি মেনে গণমাধ্যম কর্মীদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা, প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের ছবি আগেই পৌঁছে দেয়া ও ভোটের শেষ পর্যন্ত তাদের কেন্দ্রে অবস্থানের সুযোগ দেয়াসহ মোট ১১ দফা।

এর আগে, বেলা ১১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে এই সংলাপ শুরু হয়।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অংশ নেন।

সিইসি নূরুল হুদা তার স্বাগত বক্তব্যে দেশের ‘প্রাচীন ও ঐতিহাসিক দল’ আওয়ামী লীগের আত্মপ্রকাশ থেকে এখনকার কর্মকাণ্ড এবং এ দলের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের বিবরণ তুলে ধরে প্রায় নয় মিনিট বক্তব্য দেন।

সিইসি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান অর্জনের মধ্যে দিয়ে তিনি ‘বিশ্ব মাতৃকার আসনে সমাসীন’ হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তার নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা হয়েছে।’

কেএম নুরুল হুদা বলেন, ‘শিক্ষা, সামাজিক, অর্থনৈতিক, অবকাঠামো উন্নয়ন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার, পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিশ্ব ধরিত্রীর মুকুট আজ প্রধানমন্ত্রীর মাথায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান অর্জনে বিশ্ব মাতৃকার আসনে সমাসীন প্রধানমন্ত্রী।’

সংলাপ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পর এবার আওয়ামী লীগের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন সিইসি। সংলাপের শুরুতে টানা ৯ মিনিট সিইসি আওয়ামী লীগের ইতিহাস, অর্জন তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করেন।

সিইসি বঙ্গবন্ধুকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা উল্লেখ করে তার রাজনৈতিক সংগ্রাম, দল গঠন, দেশের স্বাধীনতা অর্জন, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার গঠনসহ তার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

নূরুল হুদার বক্তব্য শুনতে শুনতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমামসহ সংলাপে উপস্থিত অনেকের মুখে স্বস্তির হাসি দেখা যায়।

বুধবারের সংলাপে সূচনা বক্তব্যে অনেকটা ব্যাখ্যার সুরেই সিইসি বলেন, যে কোনো দলের সঙ্গে সংলাপের আগে সংশ্লিষ্ট দলের প্রোফাইল তুলে ধরা হয়। এর ধারবাহিকতায় আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তিনি তুলে ধরছেন।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত নিবেদিত নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলন, ষেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলণ, যা ছাত্র আন্দোল হিসাবে আমরা জানি; তখনকার সফল নেতারা এখানে রয়েছেন।সত্তরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বহু অর্জন, বহুমুখী, গণমুখী সকল আন্দোলন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ফসল।

নূরুল হুদা বলেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে। বঙ্গবন্ধুর হুকুমে এবং এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন, তাদের অনেকের অনুপ্রেরণায়, নির্দেশে, পরিচালনায় আমরা তরুণ সন্তান বুকে গ্রেনেড ও কাঁধে অস্ত্র নিয়ে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। ঐতিহাসিক সব সফল আন্দোলন আওয়ামী লীগের হাত ধরে এসেছে।

সিইসি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দেশকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব কাঁধে নেন। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে দেশকে একটি সংবিধান উপহার দেন; কূটনৈতিক সাফল্যে বহু দেশের আনুকূল্য, সমর্থন অর্জন করেন। নির্বাচন কমিশন গঠন করেন, ১৯৭৩ সালে জাতিকে প্রথম সংসদ নির্বাচন উপহার দেন এবং স্বাধীন দেশে প্রথম সংসদীয় সরকার গঠন করেন।

নূরুল হুদা বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ রেকর্ড অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্ট কালো রাতে জাতির জনককে সপরিবারের হত্যার মধ্যে দিয়ে জাতির জীবনে ‘কালো অধ্যায়ের’ সূচনা হয়।

বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর আওয়ামী লীগকে যে কঠিন সময় পার হতে হয়েছে, সে কথাও সিইসি তার সূচনা বক্তব্যে তুলে ধরেন। জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।বহু বাধা বিপত্তি, প্রতিকূলতা, ভয়ঙ্কর সব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দলকে সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে আসেন তিনি।

১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদে নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, সে কথাও তুলে ধরেন সিইসি।

আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছে। উন্নয়নের প্রতিটি খাতে, শিক্ষা, সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার, পরিবেশ সংরক্ষণে আজ বিশ্ব ধরিত্রীর মুকুট প্রধানমন্ত্রীর মাথায়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান অর্জনে বিশ্ব মাতৃকার আসনে সমাসীন প্রধানমন্ত্রী।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন-বিধি বিধানের প্রায় সবগুলোই আওয়ামী লীগের আমলে তৈরি করা। বর্তমান ইসি বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে, যা আওয়ামী লীগ সরকারই সম্ভব করেছে। এখানে উপস্থিত অনেকের কাছ থেকে আগের অনেক পর্যায়ে শিক্ষা, দীক্ষা, সাহস, অনুপ্রেরণা পেয়েছি। অনেকের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছি।

আজ ভিন্ন পরিস্থিতিতে ইসির দায়িত্ব পালনে আপনাদের সহযোগিতা, পরামর্শ, সুপারিশ কীভাবে নেওয়া যায়; সাহস পুঁজি করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করতে সে সহযোগিতা পেতেই আজকের এ সংলাপ আয়োজন ও প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের সামনে এগিয়ে যেতে ও সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সুপারিশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিইসি নূরুল হুদা।



দেশ-বিদেশের পাঠক

আর্কাইভ

জুলাই ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« জুন    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১