প্রচ্ছদ

সিলেট ক্বীনব্রিজের ইতিহাস : বর্তমান প্রেক্ষাপট তাইজুল ফয়েজ

www.sylhetnewsworld.com

গত শতকের তিরিশের দশকের দিকে আসাম প্রদেশের গভর্ণর ছিলেন মাইকেল ক্বীন। তিনি সিলেট সফরে আসেন। তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে ব্রীজটি নির্মাণ হয় এবং এই ব্রীজটির নামকরণ করা হয় গভর্ণর মাইকেল ক্বীনের নামানুসারে, তিনি ১৯৩২ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত আসামের ইংরেজ গভর্ণর ছিলেন।
আসাম প্রদেশের গভর্ণর মাইকেল ক্বীন সিলেট সফরে আসার জন্য সুরমা নদীতে ব্রীজ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কারণ তখন আসামের সাথে সিলেটের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল ট্রেন।ট্রেন স্টেশন সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় অবস্থিত। রেলওয়ে বিভাগ ১৯৩৩ সালে সুরমা নদীর ওপর ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, নির্মাণ শেষে ১৯৩৬ সালে ব্রীজটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয় জনসাধারণের জন্য ।
ব্রীজ নির্মাণে তৎকালীন সময়ে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫৬ লাখ টাকা।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ডায়নামাইট দিয়ে ব্রীজের উত্তর পাশের একাংশ উড়িয়ে দেয়, যা স্বাধীনতার পর কাঠ ও বেইলী পার্স দিয়ে মেরামত করা হয় ও হালকা যান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়।
১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগিতায় ব্রীজের বিধ্বস্ত অংশটি কংক্রীট দিয়ে পুনঃনির্মাণ করা হয় এবং তৎকালীন নৌ বাহিনীর প্রধান রিয়াল এডমিরাল এম এইচ খান সংস্কারকৃত ব্রীজটি উদ্বোধন করেন, পুনরায় চালু হয় ব্রিজ ।

যে তথ্যটি উইকিপিডিয়াতে নাই তা হলো,
বৃটেন এ ব্রিজটি সংরক্ষনে সব সময় মনে প্রাণে তাগিদ দিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন সহযোগীতা দিয়ে আসছেন। হেরিটেজ হিসাবে সংস্কার করলেও মূল নকসা পরিবর্তন করতে দেন না ব্রিটিশরা।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে, সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে সিলেটবাসী দাবী তুলেন এশিয়ান ঝুলন্ত ব্রীজের। ২০০১এক সালের নির্বাচনে সিলেট ১আসন থেকে বিজয় লাভ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তিনি নির্বাচনী জনসভায় সিলেটবাসীকে কথা দিয়েছিলেন বিএনপি সরকার গঠন করলে ক্বীন ব্রিজ কে এশিয়ান ঝুলন্ত ব্রিজ করবেন।যাহারা তুরস্ক ভিজিট করেছেন তারা দেখেছেন তুরস্কের ইস্তাম্বুল ইউরোপ আর তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা এশিয়া। ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা রাজ্যের মধ্যখানে একটি নদী প্রবাহিত এই বিশাল নদীর উপরে একটি ব্রিজ য়ার নাম হচ্ছে এশিয়ান ঝুলন্ত ব্রিজ। যাহা বিশ্ব পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বিএনপি ক্ষমতা প্রাপ্ত হওয়ার পর, সিলেট ২ আসনের সাবেক এমপি আশরাফ আলী এর নেতৃত্বে সিলেট গণদাবী পরিষদ এর ব্যানারে ঝুলন্ত ব্রিজের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে উঠে। অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ব্রিজ ভেঙ্গে দিয়ে ঝুলন্ত ব্রিজ করতে চেয়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকার অনীহা প্রকাশ করে ব্রিজ সংস্কারের পক্ষে মত প্রকাশ করে অর্থ বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে এম সাইফুর রহমান বিকল্প ব্রিজ হিসাবে কাজির বাজার ব্রিজ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ড.ফখরুদ্দীন, মইনুদ্দিন১/১১ সরকারের আমলে নির্বাচন শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম পাঁচটি বছর চলে যায়। দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতায় আসলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সমন্বয়ে কাজির বাজার ব্রিজ বাস্তবায়ন হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মেয়র থাকা অবস্থায় আলী আমজাদের ঘড়ি ও ক্বীনব্রিজের সংস্কার করা হয়। পরবর্তীতে মেয়র হন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি নির্বাচিত হওয়ার বেশ কিছুদিন পর ক্বীনব্রিজেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে ব্রিটিশ সরকার পুনরায় বাজেট প্রদান করে সংস্কারের জন্য।

বর্তমানে ব্রিজটিদিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, সাথে সুরমা নদীর দুপাশে জমেছে আবর্জনার স্তূপ আর চলছে দখলের উৎসব।
সুরমা নদীর সেই আবর্জনা পরিষ্কারে নামলেন ব্রিটিশ তিন এমপি।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে নিয়ে সুরমা তীরের আবর্জনা পরিষ্কার করেন তারা।

বৃটেনের তিন এমপির সময় হয় সুরমার পার পরিস্কার করা কিন্ত আমাদের দেশের সরকারের কারোই সময় হয় না এমন একটা অতি জরুরী কাজ করা। অথচ এ খাতে রয়েছে জনগনের করের হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ।সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকা অবস্থায় সিলেট সিটি করপোরেশনের ছোট ছোট খাল খনন ও আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য বড় অংকের বরাদ্দ দিয়েছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমিন এর উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক দেশের প্রথম স্যাটেলাইট সিটি কর্পোরেশনের কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে ।
পরিস্কার পরিছন্ন নাকি ঈমানের অঙ্গ । যদি তাই সত্য হয় তবে পরিস্কার পরিছন্নতার কাজে দেশের সরকার বা সমাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষের অঙ্গ নাই বলে আমাদের ধরে নিতে হবে।
বৃটেনের তিন জন এমপি সিলেটের সুরমা নদীর পার পরিস্কার করে প্রমান করে এসেছেন পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য কখনো হারতে দেওয়া ঠিক না । আর আমরা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য বারবার মুছে দেয়ার চেষ্টা করি। ব্রিটিশরা শিক্ষা দিচ্ছে যে আমাদের দেশে সরকারি অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না, বিদায় প্রাকৃতিক পরিবেশ তার লাবণ্যতা হারাচ্ছে। শুধু শুধু আমার দেশের নাগরিকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই, সিটি কর্পোরেশনের কয়টি ময়লা পালানোর নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে তা দেখতে হবে এবং পর্যটন এলাকা সুরমা নদীর তীরের ফুটপাতের কয়টি প্লাস্টিকের ডাস্টবিন রয়েছে। এই ছোট্ট কাজগুলি করতে হলে কয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হয়, জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন।
কিছুদিন পূর্বে আমাদের দেশের স্কুলের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে অনেক কিছু দেখিয়ে দিয়েছে, আমরা কি সংশোধন হতে পেরেছি।
জাপানী ছাত্ররা বারবার এমন কাজ করে লজ্জা দিয়ে গেছেন ঢাকা বাসীকে। এবার লজ্জা দিলেন বৃটেন তিন এমপি সিলেটবাসীকে। পরিস্কার পরিছন্ন থাকলে মশার উপদ্রব থাকতো না।

বিষয়টি গুজব বলে লজ্জার সংঘাটি বদলে দেবার চেষ্ঠা করলে, তিন এমপিকে দেশে ডুকতে না দেয়াটাই ভাল হতো। বলতে পারেন, তারা আমাদের দেশে গিয়ে এত বেশী দেখেবে কেন? কে ই বা তাদের বলেছে এ সব কাজ করতে? সুরমা নদীর পরিস্কার করার কাজতো তাদের না। তিন বৃটিশ এমপির কি আবর্জনার পরিস্কার সনদ আছে? বাংলাদেশ কি তাকে সে সনদ দিয়েছে? তবে কেন তারা নিজের থেকে আগবাড়াইয়া অন্যদেশে গিয়ে এসব কাজ করবেন?
আমি কোন দল, সংগঠন, ব্যক্তির সমালোচনা করতেছিনা এবং কর্মসূচিকে অসম্মান করছি না।উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে আদি সভ্যতা ও গণতন্ত্র সৃষ্টি হয়েছিল গ্রীস থেকে। এই দেশে ২০১৮সালে দাবানল হয়েছিল,তখন প্রত্যক্ষভাবে দেখেছি দাবানলের আগুন দাউদাউ করছে,ইউরোপে প্রায় প্রতিটি দেশ থেকে বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী, দমকল বাহিনী এসেছে কিন্তু সরকারের সকল ফর্মালিটি কমপ্লিট করার পর আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছে তারা। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে আগুন নেভার পর পরিছন্নতা কাজের জন্য বাঙালি কমিউনিটির কিছু লোক স্বেচ্ছায় শ্রম দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন প্রত্যেকের নাম তালিকা করে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে অনুমোদন দিয়েছে।
দেশ আবেগ দিয়ে চলে না, দেশে চলে আইন দিয়ে। এই ব্রিজের পাশে যে ব্রিটিশ ২৪জনের প্রতিনিধিদল ছিল, তারা যদি কোনো গরিব দেশের প্রতিনিধিদল হত তাহলে আমার দেশের বুদ্ধিজীবীরা ক্ষেপে যেতেন।

পৃথিবীর সব দেশে রাজনৈতিক মারপ্যাচ রয়েছে। বিষয়টি একটু পরিষ্কার করার প্রয়োজন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের বংশদূত তিনজন, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য রয়েছেন তারা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পেশ করে থাকেন। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার জন্য যদি এই সাংসদরা যদি এই বিষয়টি উপস্থাপন করে তখন তারা কি উত্তর দিবেন।আমার দেশ একটি উক্তি চালু আছে ব্রিটিশের বুদ্ধি। আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকী যখন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেন পৃথক না হওয়ার পক্ষে মতামত প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন তখন তার মুখ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করে।
বাংলাদেশ কেউ দান করেনি দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে।
লেখক :তাইজুল ইসলাম ফয়েজ
সভাপতি, ইউরো বাংলা প্রেসক্লাব
এথেন্স, গ্রীস

বিনোদন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১