গণতন্ত্রের প্রবর্তক গ্রীস... তাইজুল ফয়েজ - Sylhetnewsworld.com
প্রচ্ছদ

গণতন্ত্রের প্রবর্তক গ্রীস… তাইজুল ফয়েজ

জাবের আহমদ
তাইজুল ফয়েজ

লেখকঃ তাইজুল ফয়েজ 

প্রায় তিন হাজার বছর আগে পৃথিবীতে প্রায় ১৮টি সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তার মধ্যে গ্রিস সভ্যতার স্থান প্রথম। গ্রিসের রাজধানী এথেন্স এর জনসংখ্যা ছিল ৩ লক্ষ। তার মধ্যে ১ লক্ষ ছিল কৃতদাস, অর্ধেক নারী, গ্রিকরা বিশ্বাস করতো নারীদের আত্মা নেই। তাদের কোন কথা, কথা নয়। সুতরাং থাকলো ১ লক্ষ পুরুষ, আবার ১ লক্ষ থেকে যদি বাদ দিয়ে দেওয়া হয় শিশু-কিশোর, থাকলো ৫০ হাজার লোক, বহিরাগত ৫০ হাজার লোক। মাত্র ২০০ বছরে সৃষ্টি হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সভ্যতা গ্রিক সভ্যতা। আর গ্রিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো প্রেরণা-স্বপ্ন দিয়ে।
মিনিয়ান প্রভুরা ভূমধ্যসাগরের এই অঞ্চলের বিভিন্ন দ্বীপে গড়ে তুলেছিলেন নিজেদের বিশাল সাম্রাজ্য। ক্রিস্টান, মাইসেনিয়ান, জেরিয়ান প্রভৃতি সংস্কৃতির হাতে ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে গ্রীক সভ্যতা। অবস্থানগত ও অন্যান্য সুবিধা থাকার কারণে এথেন্স হয়ে উঠে গ্রীস দেশের অন্যতম শহর। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে গণতন্ত্রের জন্ম এথেন্স নগরীতে।
8জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাজ্য পরিচালনা করতেন। নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করতো না শাস্তিস্বরূপ তাদের মুখে লাল রং দেওয়া হতো।খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১-৪৫৫ পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে রাজ্য পরিচালনা করেন প্রেরিক্লিস। তার শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়। এ সময়ে এথেন্সের সৌন্দর্য সবচাইতে বেশি বিকশিত হয়। এই সময় নির্মিত হয় ইতিহাসের প্রসিদ্ধ পার্থন মন্দির। সেই যুগের পরপর জগৎ বিখ্যাত দার্শনিক, চিন্তাবিদ জন্মগ্রহণ করেন গ্রীসে।
সাহিত্যে আবির্ভাব হন এস্কাইলাস,সফোক্লি,ইউরিপিডিসের মতো যোগশ্রেষ্ঠদের । ভাস্কার্যে ফিডিয়স,ইতিহাসে থুকিডিডেস,হেরোডেটাস,দর্শনে পারমেনিডেস,জোনু এবং জগৎ বিখ্যাত সক্রেটিস আবির্ভূত হন সে যুগে। সক্রেটিসের যুগ্য শিষ্য পেসননটো তারই দর্শনের ভিতরে ঘরের ভিতরের উপর গড়ে তুলেন আদর্শ রিপাবলিকের থিসিস।প্রেরিক্লিস এর লেখা বই রিপাবলিক এখনো পৃথিবী জুড়ে পঠিত হয়।
প্রেরিক্লিস এথেন্স শাসন করতেন তখন ১৮ বছরের ছেলেরা রাষ্ট্রের অনুষ্ঠানে উপস্থিত করতেন তখন ১৮ বছরের ছেলেরা রাষ্ট্রের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সবার সামনে প্রতিজ্ঞা করতে হত এই মর্মে, আমার জন্মের সময় যে এথেন্স পেয়েছি মৃত্যুর আগে আরো উন্নত এথেন্স পৃথিবীর বুকে রেখে যেতে হবে। এটা ছিলো তাদের মুল চাবি-কাটি। যাহারা গ্রীসে অবস্থান করছেন তারা গৌরবের স্থানে বাস করছেন, গ্রীস দের রয়েছে একটি মহান আত্মা।সময়ের প্রেক্ষাপটে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সর্বপ্রথম আন্দোলন করেছিল এজন্য বলা হয় গ্রীস গণতন্ত্র ও নারীমুক্তির প্রতিচ্ছবি। ইউনেস্কো গ্রিসে পার্থ ওয়াল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে। এথেন্স শহরের মাঝখানে আক্রোপলিস পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই পার্থেনন আসলে একটি প্রাচীন মন্দির। ডরিক শিল্পীতে তৈরি ৩১ মিটার চওড়া ৭০ মিটার লম্বা এবং ২০ মিটার উঁচু এই বিশাল মন্দির পুরোটা মার্বেল পাথরের। ৪৬টি বিশাল স্তম্ভের উপর ছিল ছাদ, যা বর্তমানে নেই। মন্দিরের মাঝখানে ছিল হাতির দাঁত, মূল্যবান কাঠ, এবং স্বর্ণের নির্মিত ১২মিটার উঁচু এথেনা দেবীর মূর্তি । সে মুর্তি এখন নেই। এথেনার নামে এই শহরের নাম এথেন্স। এথেনা ছিল বিদ্যা,বুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিকতার দেবী, তবে প্রয়োজনে যুদ্ধ করতেন সমান দক্ষতায়। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে গ্রীস বিভিন্ন বিদেশি রাজ্যের অধিনে ছিল। তাই পার্থেনন কখনো গির্জা, কখনো মসজিদ হিসেবে ব্যাবহৃত হয়েছে। গ্রীস যখন তুরস্কের অধিনে ছিল তখন তুর্কী সেনারা পার্থেননকে দূর্গ হিসেবে ব্যাবহার করে। ১৬৮৭ সালে যুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণদের গুদামে আগুন লেগে বিস্ফোরণ হয়। ফলে পার্থেননের অনেক অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে অটোমান সাম্রাজ্যের শাসক পার্থেননের অনেক ভাস্কর্য ও মুর্তি ইংরেজ রাজদূত লর্ড এলহিল এর কছে বিক্রি করে দেন। লর্ড এলহিল এগুলো জাহাজে করে নিয়ে যান। বৃটিশ সরকার তার কাছ থেকে সেইসব ভাস্কর্য কিনে বৃটিশ মিউজিয়ামে রেখে দেয়। তখন থেকে এগুলো বৃটিশ মিউজিয়ামে আছে। এলগিন মার্বেলস নামে খ্যাত। গ্রীস সরকার অনেক চেষ্টা করে সেগুলো আজ পর্যন্ত ফেরত আনতে পারেনি। সেগুলো দেখতে কেমন ছিল তা বুঝার জন্য কিছুকিছু মুর্তির নকল বানিয়ে বসানো হয়েছে। মন্দিরের পাশে রয়েছে দুটি প্রাচীন থিয়েটার। আক্রোপোলিস পাহাড়ের পাদদেশে নবনির্মিত মিউজিয়াম একটি বড় আকর্ষণ, আধুনিক শৈলীতে কাচ ও স্টিলে নির্মিত এই মিউজিয়ামের বিভিন্ন তলায় গ্রীক সভ্যতার বিভিন্ন সময়ের মুর্তি, ভাস্কর্য খোদাইকৃত শিল্প ইত্যাদি সাজানো। গ্রীক সভ্যতার অনেক জিনিস পৃথিবীর অন্যান্য মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। পার্থেনন মন্দির এবং সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলো নির্মিত হয় খ্রীস্টপূর্ব ৩২ থেকে ৪৪৭ খ্রীস্টাব্দের মধ্যে। নকশা এঁকেছিলেন ইকতিপোস এবং কালিকার্তেস নামের দুজন মহান স্থপতি। ২০(বিশ) হাজার দক্ষ প্রকৌশলীর মেধা এবং ০৪(চার) লক্ষ কৃতদাসের শ্রমের বিনিময়ে নির্মিত হয়েছে গ্রীসের স্বপ্নসৌধ। শুধু আবেগ দিয়ে এরকম শিল্প নির্মাণ করা যায়না। চাই মেধা এবং শারিরীক সামর্থ্য। তাইতো পরবর্তীকালে পার্থেননকে সে যুগে মিলনের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ববাসী। সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ এথেন্সের বাহিরের একটি শহর নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি,
গ্রিসের একটি ঐতিহাসিক শহর
গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে ঐতিহাসিক বাকাকটো শহর যেখানে রয়েছে পাহাড়ের বেস্টনি, রাজার বাড়ী, ১৪৯৯ সালে নির্মিত প্রাচীন মসজিদ যা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে গীর্জা ও ভূ-মধ্য সাগরের অপরূপ সৌন্দর্য। ৪৩ নাফপাক্টোর আশ্রয়স্থল নেপাক্টোসের বন্দর সব সময় শহরটির জন্য সমৃদ্ধির উৎস ছিল। ১৫৭১ খ্রিস্টাব্দে করিন্থয়ান গল্ফের প্রবেশদ্বারে লেপান্ডো যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যখন ভেনিস জেনোভাতে যোগদানের সময়, স্পেন, পোপ ও অ্যালিসগুলি অটোমান নৌবহরকে পরাজিত করে। বন্দর প্রতিরক্ষা সংরক্ষণ করা দেয়ালগুলি মধ্যযুগীয় প্রতিরক্ষা স্থাপত্যের দর্শনীয় উদাহরণ, দুটো টাওয়ার (১-১১) এর প্রবেশদ্বারটি ভাসিয়ে দেয়, বন্দরের দেয়ালগুলো খিলান যুদ্ধ সমুদ্র গেইটটি ভেনেটিয়ান যুগের অন্তর্গত। অটোমানরা প্রাচীরের প্রাচীরগুলোকে শক্তিশালী করে দেয়। স্বাধীনতার পর ১৯ শতকের মধ্যে একটি কাস্টমাস অফিস শশ্চিমা কোয়ে পরিচালিত ১৮২১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়বা জি।
অ্যানোমোগিযানসিসের মূর্তি দাঁড়িয়েছে, যারা ন্যাফক্টোর বন্দরে অটোমান নৌপথে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিল। ন্যাফপাটোস বন্দরে সর্বনিম্ন ৫টি কাসল। মহাসাগর পশ্চিমারা শহরটি প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করত। আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে এন ভি ভি দেরী টাওয়ার ম্যানশন ১৪৯৯ সালে সুলতান Bayesid দ্বারা Fethiye মসজিদ প্রতিষ্টিত হয়। এখানে রয়েছে বাইজেন্টাইন গির্জা, সমুদ্র সমান্তরাল, উচু পাহাড়ের উপর ভিজির মসজিদ, তেজভেলা ঘর, অটোমান ফাউন্ডেশন, অটোমান ঝর্ণা, ঘড়ির টাওয়ার, রাজার বাড়ীসহ নানান স্থাপত্য যাহা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

বিনোদন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টেম্বর   নভেম্বর »
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১