‘বাকের ভাইয়ের ফাঁসি না হলে যাবজ্জীবন হতো’ - Sylhetnewsworld.com
প্রচ্ছদ

‘বাকের ভাইয়ের ফাঁসি না হলে যাবজ্জীবন হতো’

www.sylhetnewsworld.com

বরেণ্য অভিনেতা আব্দুল কাদের। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন, তারপর নাম লেখান চলচ্চিত্রে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যান। অভিনয় ক্যারিয়ারে কয়েকশ’ টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। বেশিরভাগ হাস্যরসাত্মক চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। সময়ের সঙ্গে পাল্টে গেছে অনেক কিছু। বয়সও ভর করেছে শরীরে। সম্প্রতি রাইজিংবিডির বিনোদন সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম শান্তর মুখোমুখি হয়েছিলেন আব্দুল কাদের। তাদের কথোপকথন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—

 

রাইজিংবিডি: সত্তর দশকে থিয়েটারের মাধ্যমে অভিনয়ে আপনার হাতেখড়ি। থিয়েটার চর্চার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কতটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন?

 

কাদের: মঞ্চনাটক, টিভি নাটক কিংবা চলচ্চিত্র— যে মাধ্যমের কথাই বলুন গল্প খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে মঞ্চ নাটক সেরকমভাবে লেখা হয় না। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমরা যখন মঞ্চনাটক করেছি, তখন সমসাময়িক জীবন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাট্যচর্চা হয়েছে। যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল। যে কারণে অন্যরকম একটা উন্মাদনা ছিল। সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সবার কমিটমেন্ট ছিল। এজন্য টিমওয়ার্ক ভালো হতো। ওই সময়ে নাটক রচনা করতেন— আব্দুল্লাহ আল মামুন, সেলিম আল দীন, হুমায়ূন আহমেদ, মমতাজউদ্দীন আহমেদ। এদের কেউ বেঁচে নেই। বর্তমান প্রজন্মের যারা নাটক লিখছেন তারা আবার টেলিভিশন নাটকও লিখছেন। এজন্য অবশ্য তাদের দোষ দেই না। এটা ঘটে গেছে। মোদ্দা কথা হলো— মঞ্চের যে কমিটমেন্ট ছিল সেটা এখন নেই। আর আগে যারা মঞ্চে কাজ করতেন তারা এখন কাজ করেন না। কারণ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বিস্তার ঘটায় তাদের সেদিকেও সময় দিতে হচ্ছে। চাইলেও তারা টেলিভিশনে সময় দেয়া বন্ধ করতে পারবেন না।

 

রাইজিংবিডি: প্রায় ৩০টি মঞ্চ নাটকে কাজ করেছেন। মঞ্চে কি ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে?

 

কাদের: না, আমি আর মঞ্চে ফিরতে পারব না। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমিতে আমি যাই। তাছাড়া থিয়েটারের পরিচালক ও প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করি। বিভিন্ন উৎসবে যাই। কিছুদিন আগে আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্মরণসভায় গিয়েছিলাম।

 

রাইজিংবিডি: সম্প্রতি আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর মঞ্চে ফিরেছেন। আপনার কী কোনোই সম্ভাবনা নেই?

 

কাদের: মঞ্চে ফিরতে পারলে ভালো লাগত। আমার বিষয়টি কিছুটা আলাদা। বাসা যদি কাছে থাকত তবে হয়তো চেষ্টা করা যেত। তাছাড়া অনেক নাটকই তো করেছি। যারা নতুন এখন তারা করুক। তাদেরকেও তো তৈরি করতে হবে। নূর ভাই এখন মঞ্চে সময় দিচ্ছেন। রামেন্দুদা, ফেরদৌসী আপা আছেন। তারা যদি বেছে বেছে নতুনদের  প্রশিক্ষণ দেন ও নাটকে কাজের সুযোগ করে দেন তবে ভালো হয়।

 

রাইজিংবিডি: ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে আপনার ‘বদি’ চরিত্রটি এখনো মানুষের মনে গেঁথে আছে। বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ খেপেছিলেন। ওই সময়ে আপনার সঙ্গে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেছিল?

 

কাদের: না, সে ধরণের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নাট্যকার যেভাবে নাটক রচনা করেছিলেন আমি সেভাবেই অভিনয় করেছি। সাংবাদিকদের হুমায়ূন স্যার তখন বলেছিলেন, ‘এক সময় পরিবারটা সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে। বাকেরের যদি ফাঁসি না হতো তবে তাকে আজীবন জেলে থাকতে হতো। এতে তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতো। সেদিক বিবেচনা করেই বাকেরের ফাঁসি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এক সময় বন্ধুত্বের চেয়েও পরিবার প্রাধান্য পায়। এ বিষয়টি স্যার নাটকে দেখিয়েছেন। দর্শক তখন ইমোশনাল হয়ে পড়েছিল- এটাই স্বাভাবিক। তখন বড় ধরণের আন্দোলন পর্যন্ত হয়েছিল। এ বিষয়ে যদি বলি, তবে দীর্ঘ লেখা লিখতে হবে। কারণ অনেক ঘটনাই ঘটেছিল। সবই আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। বাকের ভাই সমাজের প্রতিবাদী চরিত্র। গল্পে কুত্তাওয়ালির বাড়িতে যতগুলো অঘটন ঘটেছিল তার সবগুলোর প্রতিবাদ সে করেছিল। দর্শক আমার অভিনয় পছন্দ করেছিল। ব্যক্তিগত জীবনে যখন কোনো মানুষের সঙ্গে দেখা হতো তখন আমাকে দেখে অনেকে হাসত।

 

রাইজিংবিডি: এই নাটকে কীভাবে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন?

 

কাদের: বরকতউল্লাহ সাহেব নাটকটিতে অভিনয়ের জন্য ডেকেছিলেন। তিনি নাটকটির প্রযোজক ছিলেন। তিনি সম্ভাব্য কিছু শিল্পীকে ডেকেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদ সাহেব ও বরকতউল্লাহ সাহেব দুজনে মিলেই বদি চরিত্রের জন্য আমাকে নির্বাচন করেন।

 

রাইজিংবিডি: এখন বদি কিংবা বাকের ভাইয়ের মতো কোনো চরিত্র তৈরি হয় না কেন?

 

কাদের: আসলে সেরকম নাট্যকার তো নেই। এখন যারা আছেন তারাও একদিন এমন চরিত্র তৈরি করবেন। একদিনে তো কেউ তৈরি হয় না। সময়ের সঙ্গে ভালো নাট্যকার, ভালো পরিচালক তৈরি হবে। নাটকের গল্প গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখন পরিবার নিয়ে খুব বেশি নাটক হয় না। নাটক হচ্ছে কিন্তু পরিবারের সুখ-দুঃখ-বেদনা, হাসি-ঠাট্টা এসব নিয়ে এক্সক্লুসিভ নাটক নির্মিত কম হয়। দর্শক কিন্তু এগুলো চায়।

 

রাইজিংবিডি: বর্তমান টিভি নাটকে মূল সংকট তাহলে কোথায়?

 

কাদের: টেলিভিশন নাটক সংকটময় সময় পার করছে। আসলে কোয়ান্টিটি যখন বাড়ে তখন কোয়ালিটি কমে যায়- এটাই নিয়ম। এত চ্যানেল এত নাটক— একজন নাট্যকা