আপডেট ১ দিন আগে , ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৩৮ হিজরী

প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

প্রকাশিত হয়েছে : ১:৫১:৫০,অপরাহ্ন ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ | সংবাদটি ১৫,১২৫ বার পঠিত

হযরত শাহ জালাল (রা:) এর জীবনী, সিলেট আগমন ও কেরামতি

আবুল হোসেন দীপু : এখন থেকে প্রায় ৮০০ বছর পূর্বে আরবের বিখ্যাত ইয়েমেন প্রদেশে তিনি জন্ম গ্রহন করেন । মহিউদ্দিন সালামাত তার পিতা এবং উম্মে সালতা বিন ফাতেমা নাম্নি তার আম্মা । পিতার বংশ আবুবকর (রা:) এর সিলসিলা এবং মাতার বংশ ইমাম হুসাইন (রা:) এর শেষ ছইয়দ প্রদীপ কারবালা প্রান্তর হইতে একমাত্র বেচে যাওয়া পুত্র জয়নাল আবেদিন (রা:) এর বংশধর । শাহ জালাল (রা:) এর মামা সায়েক বাহাউদ্দিন (রা:) তখন খার সময়ে একজন দরবেশ বুজুর্গ ছিলেন । অল্প বয়স থেকে তিনি তার মামার নিকট ইসলামী এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষায় সিদ্ধ লাভ করেন । শিক্ষা কত টুকু সিদ্ধ হল পরীক্ষা করার জন্য মামা শাহ জ্বালাল (রা:) কে ডেকে পাশের জঙ্গলে অবস্থান করার জন্য তাগিদ দেন । শাহ জালাল (রা:) নির্দেশিত স্থানে গমন করেন । একটি হরিন কান্না জড়িত কণ্ঠে মানুষের ভাষায় ফরিয়াদ করতে লাগলেন । হুজুর বিচার করুন , আমার সদ্য প্রসব দুই টি বাচ্ছা কে বনের লোভী বাঘ খেয়ে ফেলল । শাহ জালাল (রা:) হুংকার ছেড়ে বনের বাঘ কে ডাক দিলেন । ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাঘ এসে তার পায়ে হাজির । এই নির্দয় সদ্য জাত হরিণের বাচ্ছাকে গ্রাস করতে তোর হৃদয় কি একটু বিচলিত হলনা , জংগলে কি খাবারের অভাব ছিল । মাথা নিচু করে বলল হুজুর আমার এহেন বেয়াদবি মাফ দিন , আমি আজ থেকে মাসেক ক্ষন পর্যন্ত অসুস্থতায় ভুগছিলাম , পেটে ছিল ধারুন ক্ষুধার তাড়না , তাই সম্মুখে এদের পেয়ে গিলে ফেলেছি , রাগে শাহ জালাল (রা:) বাঘের গালে কষে থাপ্পর লাগালেন , সাথে সাথে ভুমি করে হরিনের শাবক দুটি কে উগ্রে দিল এবং জংগলে চলে গেল । শাহ জালাল (রা:) আল্লাহর নিকট মুনাজাত করলে হরিন দুটি জিবন্ত হয়ে গেল , মা হরিনি খুব খুশি হল । আর তার মামা আড়াল থেকে ঘটনা প্রত্যক্ষ করে বুঝলেন শাহ জালাল (রা:) একজন কামেল আধ্যাত্মিক সিদ্ধ হয়েছেন , তখন তার বয়স মাত্র ১২ বছর । তার আশ্চয্য খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল সারা আরব ভুখণ্ডে । মামা একদিন তাকে ডেকে বললেন বাবা এবার তোমাকে অন্ধকার থেকে ইসলাম কে জিন্দা করার জন্য মানুষের মুক্তির হেদায়েতের বার্তা লয়ে দূর দেশ ভ্রমন কর । ইনশাল্লাহ আল্লাহই তোমার সাহায্যকারী । দেশ ভ্রমন এবং বাংলায় পদার্পণ ।

********শাহ জালাল (রা:) প্রয়োজনীয় রসদ নিয়ে উল্লেখ্য সংখ্যক লোক জুটায়ে আল্লাহর নামে বেড়িয়ে পড়লেন । মামা তার নিকট এক মুষ্টি মাটি দিয়ে বললেন পৃথিবী পরিভ্রমণ করে যেখানে এই মাটির সহিত মিল পাবে সেখানেই যেন হয় তোমার আস্তানা । শাহজালাল (রা:) ধিরে ধিরে বহু দেশ পরিভ্রমণ করে বহু জমিদার এবং রাজা বাদশাহের সমাদর লাভ করেন , এবং তার আশ্চয্য কোরআন পাঠে , আল্লাহর মহত্তে হেদায়েতের বারি দ্বারায় সিক্ত হয়ে ইসলাম গ্রহন করেন , এবং কেউ কেউ ইসলামের জন্য , আল্লাহর রাজি খুশি এবং শাহ জালাল (রা:) এর সাথে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করলে তিনি শেষ তক অনুমতি দেন । ক্রমান্বয়ে তার সাথি বাড়তে বাড়তে ৩৬০ জন হয় , উল্লেখ্য এদের মধ্য ভারতের বাদশা নাসির উদ্দিন , চিনের গভর্নর ফতেহ লহানি মিসরের জমিদার শাহ মখদুম রা ও সঙ্গি হয়েছিলেন । তখন বাংলা ভারতের কিছু অঞ্চলের প্রতাব শালি হিন্দু রাজা গউরগবিন্দের রাজধানী ছিল শ্রিহট্রয় বা বর্তমান সিলেট । এখানে একঘর খাটি মুসলমান বাস করত , তারা সম্ভবত আরব হতে এসে অনেক আগেই বসতি স্থাপন করেছিল । তার নাম ছিল বুরহান উদ্দিন , তিনি বার বছর যাবত সন্তান লাভের আশায় আল্লাহর নিকট কানা কাটি করলে তার সুন্দর একটি ফুট ফুটে সন্তান লাভ করে । আনন্দে আত্তহারা হয়ে ছেলের ৭ দিনের দিন লুকিয়ে আকিকা দেয় গরু কুরবানি , কিছু মাংস রেখে বাদ বাকি মাংস মাটিতে পুতে রাখলে । এক টুকরা মাংস পাখি কর্তৃক হিন্দু রাজার মন্দিরে চলে যায় । রাজা সংবাদ পেয়ে বুরহান উদ্দিনের পরিবার কে ধরে নিয়ে যায় এবং মা বাবার সামনেই কচি সদ্য জাত সন্তান কে হত্যা করে , এবং বুরহানুদ্দিন কে অত্যাচার করে শিকল দেন । বুরহান উদ্দিন সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং সেই সময়ে ভারতের নদিয়ায় শাহ জালাল (রা:) এর নিকট সাক্ষাৎ সমস্ত জানিয়ে বিচার দেন । আউলিয়া সর্দার সঙ্গী সাথি সহ দ্রুত বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
এবং সুরমা নদীর দক্ষিন সিমান্তে আস্তানা নেয় । খবর পেয়ে রাজা বহু গুপ্তচর নিয়োগ করে , এবং নদী যেন না পাড়ি দিতে পারে সব নৌকা যান চলাচল বন্ধ করে দেন । আল্লাহর সাহায্য কামনা চাইলে আল্লাহর ক্ষুত্রতে জায়নামাজ বিচিয়ে তার মধ্য ভেসে সুরমা নদী পাড়ি দেন । অপর প্রান্ত থেকে তির ছুঁড়তে থাকে রাজার লোকেরা , আল্লাহর ক্ষুত্রতে যারা বিষের তীর ছুঁড়েছিল তাদের বুকেই উলটো বিধতে লাগল । পাড়ে ভিড়বে পাহাড়ের উপর থেকে ভারি পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে , শিল হট উচ্ছারন করেন শাহ জালাল (রা:) শিল অর্থ পাথর হট অর্থ উপরে যাও । আল্লাহর ক্ষুত্রতে তাও উলটু ভাবে গড়াল । রাজা সন্য সামন্ত হারিয়ে প্রাসাদে লুকালেন । আল্লাহর প্রতিনিধিরা প্রাসাদ অভিমুখে রওয়ানা দিলেন । রাজা সন্ধি প্রস্তাব দিল , আমার প্রাসাদে ২৮ মন ওজন একটা ধনুক আছে তোমাদের মধ্য যদি কেহ এই ধনুকে তির যোজনা করতে পার তাহলে আমি রাজা ইসলাম গ্রহন করব । শাহ জ্বালাল (রা:) সঙ্গিদের মধ্য বললেন কেহ এমন আছ কি যে কোন সময় তার আছরের নামায কাযা হয়নাই । ভারতের মুসলমান বাদশা নাসির উদ্দিন বললেন , সেই লোক সম্ভবত আমি । বেশ তাহলে যাও আল্লাহর নামে প্রাসাদে গিয়ে ধনুকে তীর যোজনা কর । নাসির উদ্দিন একটানে তা করে বসলেন । রাজা তাদের ঐশী শক্তি প্রত্যক্ষ করে গুপ্ত পথে পালিয়ে গেল । মাটির সাথে মাটি মিলিয়ে শাহ জালাল (রা:) সেথা আস্তানা বা বসতি গড়ে তুললেন ।

****** এবং প্রকাশ্য আযান দিলেন । সাথে সাথে গৌড় গোবিন্দের সাত তালা মনোরম প্রাসাদ ভেঙ্গে ধুলিস্যাত হয়ে গিয়েছিল । রাজার বোন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিল । এবং সারা ভারত বাংলায় আল্লাহর অলিগন ছড়িয়ে পড়েন এবং ইসলামের নিশান উড়িয়ে দেন । সেই হেদায়েতে বর্তমান মুসলিম সংখ্যা হবে সারা দক্ষিন এশিয়ায় ৭০ কোটির উপরে ।

********হযরত শাহ জালাল (রা:) এর কেরামতি**********

*******হজরত শাহ জালাল (রা:) এর আশ্চর্য কেরামতের সংকিপ্ত বাকি অংশ গউর গবিন্দ রাজ্য প্রতাব প্রতিপত্তি সব হারিয়ে এবার ছলনার আশ্রয় নিল । শাহ জাজাল (রা:) কে একনজর দেখার জন্য এক সাপুড়ে টিক করে সাপের বাক্স মধ্য লুকিয়ে রইল । সাপুড়ে যে খানে মুসলিম ঘাটি বর্তমান মেজর টিলা সেথা অবস্থান নিয়ে সাপ খেলা দেখাতে লাগল । শাহ জাজাল (রা:) দূর থেকে ডাক দিলেন হে রাজা ছলনা পরিত্যাগ করে বেরিয়ে এস । রাজা অবাক হলেন , কেমন মানুষ তিনি যে না দেখেই সব আচ করে ফেলল । গুর গুবিন্দ আবার ভয়ে পালাল ।

******* হজরত শাহ জালাল (রা:) একটি মসজিদ নির্মাণের আদেশ দিলেন । এবং সেথা আস্তানা বা থাকার উপযোগী আবাস্থল নির্মাণ করে সেথা ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করলেন । তিনি অযু বানানোর জন্য পাশের বিশাল এক দিঘি ছিল সেথা অবস্থান নিলে গউর গবিন্দের লোকেরা এক রমনিকে উলঙ্গ করে রাখে , তিনি আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ জানান , সাথে সাথে উলঙ্গ রমনি সহ বালু কনা এসে পুকুর টি ভরাট হয়ে যায় । এ ঘটনায় শত শত হিন্দু অধিবাসি হেদায়েত এবং মুসলমান হয় ।

****** সিলেটে এসেই হযরত শাহজালাল (রা:) জানলেন ভারতের কোন এক প্রদেশে নিজামউদ্দিন আউলিয়ার আস্তানা । তিনি দুত মারফত অলিত্তের চিহ্ন পাটান , এক টুকরা তুলার ভিতরে একটা জলন্ত অঙ্গার পুড়ে সেথা পাটিয়ে দেন , জবাবে নিজাম উদ্দিন আউলিয়া শাহজালাল ইয়েমেনই (রা:) নিকট এক জুড়া কবুতর ও নানা রসদ মসলা পাটিয়ে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ।

***** অলির সান্নিধ্য অলি হয় , তার ভাগ্নে শাহ পরান (রা:) একদিন তার মামার অবর্তমানে কবুতর জুড়া খেয়ে ফেলল । কবুতরের খুজ নিলে ভাগ্নে শিকার করে যে জবাই করে খিদে মিটানোর কথা । মামা উপহার সামগ্রি কথা জানালে ভাগ্নে রাগে কবুতরের পাখা সংগ্রহ করে তাতে ফু দেয় । আল্লাহর রহমতে হাজার হাজার কবুতর সৃষ্টি হয়ে আকাশে উড়তে থাকে । এবং তারনাম দেওয়া হয় জালালি কবুতর ।

************ চিনের গভর্নর শাহ জালাল (রা:) এর নিকট একটি সুন্দর জামা প্রস্তুত করে উপহার দেন । কিন্তু পথিমধ্য জামাটি লুটতরাজের হাতে হস্তগত হয়ে ইরান চলে যায় । আল্লাহর ক্ষুত্রতে এক বছর পর আবার শাহ জ্বালাল (রা:) এর দরবারে চলে আসে এবং সেই দিন চিনের গভর্নর শাহ জালাল (রা:) এর দরবারে উপস্থিত ছিলেন । ঘটনার তাৎপর্য জানতে চাইলে আল্লাহর অলি বলেন নিশ্চই উপহার দাতা নিজে যখন আসলেন তখন উপহার টিও ততদিন সফরে ছিল এবং আজি তার মালিকের হস্তে সেটা আমার নিকট এল ।

***************** এক হজ্ব যাত্রি শাহ জালাল (রা:) এর সমাধি তে এসে যমযম কুপের উৎস খুজে পান এবং পরীক্ষা মুলক ভাবে ঐ কুপে ১০০ স্বর্ণ মুদত্রা বেধে সেথা নিক্ষেপ করে হযে চলে যায় । হজে গিয়ে সেথা ৫০ টি স্বর্ণ মুদ্রা আবার যম যমে নিক্ষেপ করে । দেশে ফিরে আসে । ১১ মাস পর আবার কুপে নেমে দেখে মক্কা থেকে নামাংকিত আশ্রি বা স্বর্ণ মুদ্রাগুলু অবিকল এখানে পাওয়া গেল । কিন্তু এখানের পুতলাটি পাওয়া যায় নি । এতে বুঝা যায় মক্কার যমযম কুপের সাথে এ কুপের সরাসরি যোগাযোগ বা মিল ছিল । বর্তমানে হয়ত উৎস মুখটি বন্ধ হয়ে গেছে ।

Comments are closed.

দেশ-বিদেশের পাঠক

এই মূহুর্তের পাঠক

আর্কাইভ

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
2627282930  
       
  12345
       
  12345
2728     
       
      1
3031     
   1234
12131415161718
19202122232425
       
    123
25262728293031
       
     12
31      
  12345
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
22232425262728
2930     
       
    123
       
  12345
27282930   
       
      1
23242526272829
3031     
      1
       
   1234
567891011
12131415161718
       
293031    
       
     12
3456789
       
  12345
2728293031  
       
2930     
       
    123
       
      1
23242526272829
30      
     12
17181920212223
31      
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
       

Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625