আপডেট ১ দিন আগে , ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৩৮ হিজরী

প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:০৫:১০,অপরাহ্ন ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | সংবাদটি ৩৪৯ বার পঠিত

জীবনের বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতা এবং ঘটনাবলি নিয়েই “জীবন গীতিকা”

ইউসুফ আহমেদ ইমন: বইটি পড়তে শুরু করা আর শেষ করার পরের অনুভূতির মধ্যে বিস্তর তফাত আছে। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘ফিল ফুল’ বাংলায় যাকে আমরা ‘সয়ম্বর’ বলে জানি। এর অর্থ করলে দাঁড়াবে আপাতত আমার আর কিছুর দরকার নেই, আমি ভরা আছি। নিজের সামনের পথটা যখন পরিষ্কার দেখা যাবে, আত্মবিশ্বাস থাকবে তখন কেবল একটা ফুল ফিলিং তৈরি হয়। নিজের চেনা-পরিচিত জগতটাই নতুন করে চেনা যাবে এই বই পড়লে।

এই বইয়ের লেখক মনে করেন ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং জীবনে টিকে থাকা, নিজের জীবনের বিকাশ ঘটানোই উদ্দেশ্য হতে পারে। সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা। মনোজগতটাকে তৈরি করার কথা বলেছেন কবি বেবী আফরোজ আর সেটা শুরু করতে হয় শিশুকাল থেকেই। জগত ও জীবনকে বুঝতে বুঝতে নিজের উন্নতি সাধন এবং পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কৌশল আমাদের জানতে হবে। নিছক কৃৎকৌশল দিয়ে তিনি সমাধানের পথ রচনা করেননি। বরং সামাজিক উপায়ে, নিজের জড়তা আর অপারগতাকে উৎরে যেতে কী কী করণীয় তা উপস্থিত করেছেন। অনেক খাটতে হয়েছে তাকে। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটকে মেলাতে হয়ে বিশ্বের অপরাপর অংশের সঙ্গে। মনোজগতকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

কবি বেবী আফরোজ এর সাথে সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড ডটকমের ইউসুফ আহমদ ইমন এর সঙ্গে আলাপে বেরিয়ে আসে কবির আত্মস্ত ভাবনাগুলো। পাঠকের জন্য বেবী আফরোজের সাথে কিছু প্রশ্ন নিয়ে আলাপ হুবুহুব নিচে তুলা ধরা হলো:

প্রতিবেদক: আপনার কাছে প্রথমেই জানতে চাই এই কর্মব্যস্ত জীবনে লেখালেখির সময়টা কিভাবে বের করেন?

বেবী আফরোজ: ঘুমের কাছ থেকে সময় চুরি করে লিখি, অর্থাৎ রাতে যখন ঘুমে থাকার কথা তখন না ঘুমিয়ে কিছুটা সময় লেখালেখির পিছনে ব্যয় করি।

প্রতিবেদক: কবিতা লেখার কোন বিষয়টা আপনাকে প্রেরণা যোগায়?

বেবী আফরোজ: মানুষকে নিয়ে ভাবতে আমার ভালো লাগে। আমি যা ভাবি এবং আমাকে যা ভাবায় তাই আমি আমার লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। পাঠকের আলোচনা-সমালোচনা, পাঠকের ভালো লাগা-ভালোবাসা, আমাকে আরও লিখতে উৎসাহ দেয়।

প্রতিবেদক: আপনিতো গন্ত্র,ছড়া , বিশেষ করে কবিতা লিখছেন, কোনটি লিখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন?

বেবী আফরোজ: আগে এক সময় অনেক কিছু লেখতাম এখন আর লিখছি না তবে যে সময় যেটা লিখি সেটাই ভালো লাগে। বতর্মানে কবিতাতেই ডুবে থাকতে বেশি ভালো লাগে।

প্রতিবেদক: কবিতায় ছন্দের বিষয়ে একটু বলুল কবিতা চর্চায় ছন্দ জানাটা কতটা জরুরী?

বেবী আফরোজ: কবিতায় এক প্রকার ছন্দ থাকতেই হয়, এখন সেটা পদ্যছন্দ হোক কিংবা গদ্য ছন্দ হোক। ছন্দের একটা ন্যূনতম দোলা কবিতায় না থাকলে কবিতা পড়তে যেমন ভাল লাগবে না তেমনই শুনতেও ভালো লাগবে না। ছন্দবদ্ব কবিতা বলতে আমরা যেগুলো বুঝি আজকাল সেগুলোর চর্চা অনেকটা কমে গেছে কারণ এই ধরনের কবিতা লিখতে হলে স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, অরবৃত্ত ছন্দ সমন্বে ভালো জ্ঞান থাকতে হয় এবং এ গুলো জানার জন্য একটু সময় ব্যয় ও পরিশ্রম করতে হয়, তাই আজকাল বেশির ভাগ কবিই গদ্যধারায় কবিতা লিখতে সাচ্ছন্ব বোধ করেন।

প্রতিবেদক: বতর্মান সময়ে কবিতার না না কারনে পাঠক কবিতা বিমুখ হয়ে পড়ছেন এ বিষযে আপনার মাতামত কি?

বেবী আফরোজ: উত্তর আধুনিক কবিতায় কিছুটা দুর্বোধ্যতা এসেছে সেটা সত্য কবিতায় গভীরতা থাকবে সেটা স্বাভাবিক কিন্তু আমি মনে করি এতোটা দুবোর্ধ্য হওয়া উচিৎ নয় যেখানে পাঠক কবিতার পাঠ উম্মোচনে ব্যর্থ হয়।

প্রতিবেদক: ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অনেকেই কবিতা লিখেন, মাঝে মাঝে আপনারও কবিতা ফেইসবুকে পড়ি। সাহিত্য চর্চায় ফেইসবুক কতটা ভূমিকা রাখছে বলে আপনি মনে করেন?

বেবী আফরোজ: ফেইসবুকে সাহিত্য চর্চা এটা সাহিত্যের জন্য অবশ্যই একটা সুখবর। কম বেশি সবাই কবিতা লেখার চেষ্টা করছে এবং কবিতা পড়ছে এটাও আনন্দের বিষয়। এখানে অনেকেই ভালো লেখেন এবং অনেক সুনামধন্য কবিদের কবিতা ফেইসবুকের মাধ্যমে খুব তাড়াতাড়ি পাঠকের কাছে পৌছে যাচ্ছে এটাও একটা ভালো দিক।

প্রতিবেদক: আপনি কোন কোন ব্লগে লিখেন?

বেবী আফরোজ: আসলে আমি কোন ব্লগে লিখি না। আমি যখন ৭ম শ্রেনীতে পড়ি তখন থেকে লেখালেখির আগ্রহ টা ছিলো। আর সেই আগ্রহ টাকে কাজে লাগিয়ে লেখালেখি করতাম। ব্লগে না লিখলেও আমার নিয়িমত কয়েক টা পত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশ হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিদিন,উত্তরা,তিস্তা,নব্যধারা পত্রিকাগুলোতে অনেক টা নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে। একুশে বই মেলায় জীবন গীতিকা আমার প্রথম বই।

প্রতিবেদক: অপনার কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বিষয়টি কি?

বেবী আফরোজ: মুখোশদারী মানুষ।

প্রতিবেদক: আপনাকে কোন বিষয়টি আনন্দ দেয়?

বেবী আফরোজ: অনেক কিছুই আনন্দ দেয়, তবে একটা ভালো কবিতা লেখার আনন্দটা অন্য রকম।

প্রতিবেদক: আপনি নতুন একটা কবিতা লেখার পর এমন কেউ কি আছেন যে যাকে আপনি প্রথমে কবিতাটা পড়তে দেন অথবা নিজে পাঠ করে শুনান?

বেবী আফরোজ: নতুন কবিতা লেখার পর সেটা সব সময় আমার প্রিয় মানুষ ও কাছের মানুষগুলো কে শুনাই। তবে আমার শ্বামী আমার লেখার বক্ত্য। আমার প্রতিটি লেখা অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়ে। এছাড়াও আমার ছেলে আমার লেখা পড়তে ভালবাসে।

প্রতিবেদক: বর্তমান সময়ে এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে কেউ কেউ বলেন ইন্টারনেটের সহায়তায় বিভিন্ন ইলেক্টনিক মাধ্যমে যেখানে কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়া যায় সেখানে বই প্রকাশ করা অনেকটা পুরানো হয়ে গেছে।

আপনি কি মনে করেন বইয়ের জায়গা অন্য কিছু দখল করতে পারবে?

বেবী আফরোজ: খুবই চমৎকার একটা প্রশ্ন করেছেন, গল্প, উপন্যাস কিংবা কবিতার বই পড়ে যতোটা তৃপ্তি পাই ডেস্টটপ কম্পিউটার, লেপ্টপ কিংবা আইপ্যাড, ট্যাবলয়েট কিংবা আনড্রয়েট মোবাইলে এসব পড়ে আমি ততোটা তৃপ্তি পাই না। নতুন বইয়ের গন্ধ টাইতো অন্যরকম যেটা আর অন্যকিছুতে পাওয়া যায় না। আর বইয়ের আলাদা একটা সৌন্দর্য্য আছে যা তাকে অন্য কিছু থেকে বিশিষ্ট ও সতন্ত্র করে দেয়,

ইচ্ছে করলে বই আমি কাউকে উপহার দিতে পারি, আমার সংগ্রহে রাখতে পারি। যেহেতু বই শিরো প্রধান মাধ্যম তাই আমি মনে করি বইয়ের জায়গা অন্য কিছু দখল করতে পারবে না।

প্রতিবেদক: দেশ বিদেশে অনেক সুনামধন্য কবি রয়েছেন তাদের মধ্য আপনার প্রিয় কবি কে?

বেবী আফরোজ: আমার অনেক প্রিয় কবি আছেন, অনেকের কবিতাই আমার কাছে ভালা লাগে প্রিয় কয়েক জন কবির নাম বলতে হলে কবি শামসুর রহমান নামটি প্রথমে চলে আসে।এছাড়াও কবি সৈয়দ রনো, কবি বকুল আশরাফ, মাসুদুজ্জামান, ছড়াকার আবু সালেহ ও অনেক সুন্ধর লেখেন যা পড়ে আমি মুগন্ধ হই।

প্রতিবেদক: পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন? বিভিন্ন চড়াই উৎড়াই এর ভিতর দিয়ে প্রতিটি মানুষ জাগতিক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে এবং একটি পরিপূর্ণ মানুষে পরিনত হয়। আমি সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে নিজেকে দাঁড় করিয়ে জীবনের বৈচিত্রময় অভিজ্ঞতা এবং ঘটনাবলি নিয়েই “জীবন গীতিকা” কাব্যগ্রন্থ টি রচিত করেছি। এই গ্রন্থটিতে সব মানুষের জীবনের প্রতিফলন রয়েছে। এ কারনেই এই গ্রন্থটি পড়লে পাঠকের ভাল লাগবে । আশা করি আমার লেখাগুলো সব পাঠক খুব সহযে বুঝতে পারবেন।

প্রতিবেদক: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার এই মূল্যবান সময়টুকু আমাকে দেওয়ার জন্য, আপনার সাহিত্য চর্চা অব্যাহত থাকুক। দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা থাকলো।

বেবী আফরোজ: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞা। আপনার পত্রিকার সকল পাঠককেও অনেক ধন্যবাদ এবং শুভকামনা। আল্লাহ হাফেজ।

Comments are closed.

দেশ-বিদেশের পাঠক

এই মূহুর্তের পাঠক

আর্কাইভ

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
2627282930  
       
  12345
       
  12345
2728     
       
      1
3031     
   1234
12131415161718
19202122232425
       
    123
25262728293031
       
     12
31      
  12345
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
22232425262728
2930     
       
    123
       
  12345
27282930   
       
      1
23242526272829
3031     
      1
       
   1234
567891011
12131415161718
       
293031    
       
     12
3456789
       
  12345
2728293031  
       
2930     
       
    123
       
      1
23242526272829
30      
     12
17181920212223
31      
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
       

Developed By : ICT SYLHET

Developer : Ashraful Islam

Developer Email : programmerashraful@gmail.com

Developer Phone : +8801737963893

Developer Skype : ashraful.islam625